পর্দা নামল বইমেলার

আপডেট : ০১ মার্চ ২০২৫, ০৭:২০ এএম

অমর একুশে বইমেলার পর্দা নামল। গতকাল শুক্রবার শেষ দিনে মেলার বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়। বেলা ৩টায় বইমেলা শুরু হয়ে রাত ৯টায় শেষ হয়। সমাপনী দিনে মেলায় এসেছে ২৩৪টি বই। এ নিয়ে গত ২৮ দিনে মেলায় প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৯৩টি।

বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. সরকার আমিনের দেওয়া তথ্যমতে, এবারের বইমেলায় ৭৪৮ প্রতিষ্ঠানকে স্টল ও ৩৭টি প্যাভিলিয়ন অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। শিশুদের জন্য ১২০টি ও লিটল ম্যাগাজিনকে ১৩০টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এবারের বইমেলায় শিশুদের জন্য বড় জায়গা নির্ধারণ করে বিভিন্ন আয়োজন করা হয় এবং তাদের পুরস্কৃত করা হয়। এবার বইমেলায় ৬০০টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। মেলায় ২৫ শতাংশ ছাড়ে বই বিক্রি করা হয়েছে। বইমেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ছিল। প্রতিদিন ছিটানো হয়েছে পানি এবং মশক নিধনেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মেলায় (বৃহস্পতিবার পর্যন্ত) বাংলা একাডেমি ৬১ লাখ ৬৫ হাজার ৫৯৯ টাকার বই বিক্রি করেছে।

বইমেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিষয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ কয়েকটি শ্রেণিতে লেখক-প্রকাশকদের পুরস্কার দেওয়া হয়। এর মধ্যে মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার-২০২৫ পেয়েছে ‘পাঠক সমাবেশ’, ‘ঐতিহ্য প্রকাশনী’ ও ‘কথা প্রকাশ’। ‘রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার-২০২৫’ পেয়েছে ‘কাকাতুয়া প্রকাশনা’; ‘কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ পেয়েছে ‘মাক্তাবাতুল ইসলাম’, ‘গ্রন্থিক’ ও ‘বাতিঘর’ প্রকাশনী এবং ‘চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার’ পেয়েছে ‘কথা প্রকাশ’। ‘জসীমউদদীন সাহিত্য পুরস্কার’ পেয়েছেন কবি আল মুজাহিদী, ‘ওয়ালীউল্লাহ সাহিত্য পুরস্কার’ পেয়েছেন কথাশিল্পী বর্ণালী সাহা এবং জার্মান নাগরিক হার্নস হার্ডার। বিজয়ীদের সম্মাননা স্মারক, সম্মাননাপত্র ও চেক দেওয়া হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, ‘আমরা মনে করি, বাংলা একাডেমির সংস্কার প্রয়োজন। এতে লেখক, গবেষক ও গুণিজনরা কাজ করবেন। গুণিজন হিসেবে প্রবীণদের সঙ্গে তরুণ লেখকরাও যুক্ত হবেন। আমরা এর আগে দেখেছি, নবীনরা বাংলা একাডেমিতে যুক্ত হতেন না। এমনকি বর্তমান মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম আগে বাংলা একাডেমির সাধারণ সদস্যও ছিলেন না। আমরা এমনটা চাই না। আমরা আশা করব, তারা যেন দ্রুত বাংলা একাডেমির সংস্কার রিপোর্ট মন্ত্রণালয়ে জমা দেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এসেও আমরা সফলতার সঙ্গে মেলা শেষ করতে পেরেছি। ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে এ দেশে সবাই স্টেকহোল্ডার। কারণ এ দেশের মানুষ রক্ত দিয়ে হাসিনাকে বিদায় করেছে। আমাদের বিরুদ্ধে সীমানার অন্যপাশ থেকে প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে, তা আমরা কাজের মাধ্যমে দূর করার চেষ্টা করছি। অভ্যুত্থানের পর সাংস্কৃতিক কাজকে আরও বেগবান করতে দেশের সব কালচারাল সংগঠনকে একত্রিত করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। যার অংশ হিসেবে কুষ্টিয়াকে মিউজিক্যাল টাউন, পানাম নগরকে কালচারাল টাউন করার জন্য মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বাংলাদেশের মাতৃভাষা বাংলার ইতিহাস, ৫২-এর ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও বইমেলার সার্বিক দিক সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপন করেন এবং মেলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সচিবের রুটিন দায়িত্ব) মো. মফিদুর রহমান। বইমেলার সদস্য সচিব ড. আমিন সরকার মেলার সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। তিনি বলেন, এবার অংশ নেওয়া প্রকাশকের সংখ্যা বেড়েছে। আমরা বইমেলার সমস্যাগুলো যথাসম্ভব দূর করার চেষ্টা করেছি। আমরা কিছু ক্ষেত্রে সফল হয়েছি, কিছু ক্ষেত্রে পারিনি। বইমেলা সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত