এ বছর ব্যতিক্রম প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। আর আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, এবার ১০ জনের কম মানুষকে এই পুরস্কার দেওয়া হবে।
গতকাল রবিবার দুপুরে স্বাধীনতা পুরস্কার নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তারা এসব কথা বলেন।
শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘দেশের ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ এ বছর ব্যতিক্রম কিছু ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হবে। এর আগে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়ার ক্ষেত্রে সচরাচর এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়নি কোনো সরকার।’
স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য কাদের সুপারিশ করা হয়েছে, সে বিষয়ে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, যারা বাংলাদেশের জন্য জীবনব্যাপী অবদান রেখেছেন এবং নতুন কিছু তৈরি করেছেন যার ধারাবাহিকতা এখনো চলছে। সেটি যেকোনো ক্ষেত্রে সংস্কৃতি, সাহিত্য, বিজ্ঞান বা সমাজসেবার ক্ষেত্রে নতুন ধারা, যেটি এখনো সারা দেশকে প্রভাবিত করে। কিন্তু আগে তাদের সেভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।
তবে এখনো চূড়ান্ত হয়নি জানিয়ে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, কমিটি কিছু নাম সুপারিশ করেছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য নামের তালিকা প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পাঠানো হবে। উপদেষ্টা পরিষদে গৃহীত না হওয়া পর্যন্ত নামগুলো প্রকাশ করা যাবে না।
আগে অনেক বিতর্কিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে কমিটির সদস্য ও আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, ‘এর আগে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়ার ক্ষেত্রে দলগত ও গোষ্ঠীগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো। র্যাবের মতো প্রতিষ্ঠানকেও স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল। অথচ এটি আমাদের জাতীয় জীবনের সর্বোচ্চ পুরস্কার। আমরা এই পুরস্কারের (স্বাধীনতা পুরস্কার) মহিমা উপলব্ধি করে দলগত ও গোষ্ঠীগত চিন্তার ঊর্ধ্বে থেকে স্যারের (ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ) নেতৃত্বে এমন সব নাম সুপারিশ করেছি, মনে হবে, পুরস্কার দিতে পেরে আমরা নিজেরা ধন্য হচ্ছি।’ আপনারা একুশে পদক দেখে খুশি হয়েছিলেন, এ পুরস্কার দেখে আপনারা আরও খুশি হবেন বলে জানান উপদেষ্টা নজরুল।’ তিনি বলেন, ‘ছয় সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশ কেবিনেটে উপস্থাপন করা হবে।’
