ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মুক্তিযোদ্ধার নাতি পরিচয়ে চাকরির ১২ বছর পর এক পুলিশের কনস্টেবলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার নাম মো. সুমন। গত শুক্রবার বিকেলে আখাউড়া ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ভারত থেকে দেশে ফেরার সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত শনিবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
জানা যায়, সর্বশেষ কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানায় কর্মরত ছিলেন কনস্টেবল মো. সুমন। মুক্তিযোদ্ধার নাতি পরিচয়ে চাকরি নিয়েছেনÑ এমন অভিযোগ উঠলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। গত বছরের ১ ডিসেম্বর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে তিনি চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেন। এরপর ২১ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় মামলা করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আখাউড়া উপজেলার মোগড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. সুমন। ২০১২ সালে পুলিশের ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। মুক্তিযোদ্ধার নাতি কোটায় চাকরির জন্য প্রতিবেশী মো. হোসেন মিয়ার মুক্তিযোদ্ধা সনদ দাখিল করেন। প্রকৃতপক্ষে হোসেন মিয়া তার দাদা নন। এই প্রতারণার বিষয়ে ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর স্থানীয় যুবক মো. ফরহাদ মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। পরে তৎকালীন কসবা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. দেলোয়ার হোসেনকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ওই পুলিশ কর্মকর্তার সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযুক্ত মো. সুমন ২০১২ সালের ৩ জুলাই ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। তিনি ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পরীক্ষার সময় তার প্রতিবেশী হোসেন মিয়ার মুক্তিযোদ্ধার সনদ ব্যবহার করে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন। পরবর্তী বিধি মোতাবেক পুলিশ ভেরিফিকেশনের (ভিআর) পর ছয় মাসের মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষ করে ২০১৩ সালের ২৯ মার্চ থেকে কনস্টেবল পদে চাকরি করে আসছিলেন। প্রকৃতপক্ষে মো. সুমনের দাখিলকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. হোসেন মিয়া (অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য), তার দাদা নন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ওসি মো. মোজাফফর হোসেন জানান, গত শুক্রবার সুমন ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরেছেন। গোপন সংবাদের মাধ্যমে তার আসার সংবাদ পেয়ে ইমিগ্রেশন এলাকায় সদর থানা পুলিশ অবস্থান নেন। সেখান থেকে গ্রেপ্তারের পর শনিবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
