পবিত্র মাহে রমজান আবারো আমাদের মাঝে এসে হাজির। রমজান মানেই পুরান ঢাকার চকবাজারের ইফতারের জমজমাট বাজার। অন্যান্য বছরের মতো এবারো জমে উঠেছে চকবাজারের ঐতিহ্যবাহী ইফতার বাজার। আর চকবাজারের ইফতার মানেই অন্যতম আকর্ষণ ‘‘বড় বাপের পোলায় খায়, ঠোঙ্গা ভইরা লয়া যায়’’ নামক আইটেমটি।
চকের ইফতার বাজারে সুতি কাবাব,খাশির লেগ রোস্ট, শাহী জিলাপী, কোয়েলের রোস্ট, কাশ্মীরী শরবত, সামুচাসহ বিভিন্ন স্পেশাল আইটেম পাওয়া গেলেও ক্রেতারা বেশি ভিড় করে বড় বাপের পোলায় খায় আইটেমটি কেনার জন্য। তবে দিন দিন মান নষ্ট হয়ে এখন শুধু নামেই টিকে আছে বড় বাপের পোলায় খায় আইটেমটি। স্বাধ আর আগের মতো নেই, এমনটাই অভিযোগ অনেক ক্রেতা সাধারণের।
সরেজমিন বুধবার (৫ মার্চ) চকবাজারে শাহী মসজিদের সামনে গিয়ে দেখা যায়, মো. হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা বিক্রি করছে বড় বাপের পোলায় খায় আইটেমটি। হোসেনের সাথে রয়েছে আরো ৩০ জন স্টাফ, এরা সবাই হোসেনের পরিবারের সদস্য। কেউ বড় বাপের পোলায় খায় ঠোঙ্গা ভইরা লয়া যায় বলে হাক ডাক দিচ্ছে, কেউ খাবার প্যাকেট করছে, কেউ খাবারটির উপকরণ তৈরী করছে। সবাই যে যার মতো কাজে ব্যস্ত। হোসেনের দোকানের চারপাশে ক্রেতার চেয়ে ব্লগারদের সংখ্যাই বেশি। তবে সময় বাড়ার সাথে সাথে ক্রেতাদের ভিড়ও বাড়তে থাকে।
হোসেনের পাশেও আরেকটি দোকানে বিক্রি হচ্ছে বড় বাপের পোলায় খায়, এটি হোসেনের ছেলে মোহাম্মদের দোকান। আগে বেশ কয়েকজন বড় বাপের পোলায় খায় আইটেমটি বিক্রি করলেও এই বছর শুধু হোসেন ও হোসেনের ছেলেই বিক্রি করছে এই আইটেমটি। দুইটি দোকানের খাবারের পরিবেশই মান সম্মত নয়। খোলা মেলা ভাবে রয়েছে খাবার,যার ফলে মশা মাছি উড়ে বেড়াচ্ছে খাবারে। হাইজেনিক ভাবে খাবার বিক্রির কোন ব্যবস্থা এখানে করা হয় নি।
পুরান ঢাকার বংশালের বাসিন্দা মো. ইউসুফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমার বাবা মারা গেছে প্রায় ১৮ বছর আগে। বাবা ‘বড় বাপের পোলায়’ খুব পছন্দ করতেন। বাবা যখন বড় বাপের পোলায় খায় বাসায় আনতো, তখন এর প্রত্যেকটা পদের একটা আলাদা টেস্ট পাওয়া যেত। কিন্ত এখন আর আগের স্বাদটা কোনোভাবেই নেই। গত বছর কিনেছিলাম, টাকা দিয়ে কী কিনলাম কিছুই বুঝলাম না। একটুও ভালো লাগেনি। তাই এই বছর আর কিনবো না। আগে যারা বানাতো, মানের দিক দিয়ে তারা কোন ছাড় দিতেন না। আর এখন তো কোন মতো করে ভেজাল জিনিস দিয়ে মাংস কম দিয়ে বানানো হয়। তাই আগের সেই স্বাদ আর নেই এখন।
চকবাজারের ছোট কাটরার স্থায়ী বাসিন্দা মো. আবুল জানান, এই খাবারটা এখন শুধু নাম ডাকের ওপরই চলে। ২৫/৩০ বছর আগে মান যেমন ছিলে এখন আর ওমন একটুও নাই। যারা কখনো এটা খায় নাই এখন তারাই নিতে আসে শুধু। তবে একবার খাইলে আর কেউ খেতে চাইবে না হয়তো। আমরা যারা পুরান ঢাকাইয়া আছি, আমাদের কাছে এই খাবারের কদর নেই বললেই চলে।
ধানমন্ডি থেকে চকবাজারে ইফতার কিনতে এসেছেন তরুন রাফি। দেশ রূপান্তরের সাথে কথা হলে তিনি জানান, বড় বাপের পোলায় খায় আসলে একটা ওভার হাইপ আইটেম। আমাদের দেশের মিডিয়া আর কিছু ভিউ ব্যবসায়ী ব্লগার এই খাবারটার যেভাবে হাইপ তুলেছে বাস্তবতার সাথে তার মিল নেই কোন। প্রথম রোজায় টিভিতে আর ইউটিউবে এই খাবারের ব্যাপক প্রচার দেখে আমি দ্বিতীয় রমজানে বাসার জন্য কিনে নিয়েছিলাম। তবে খেয়ে এটার মান কোনভাবেই আমার কাছে ট্রেডিশনাল মনে হয়নি। ভালোভাবে যাচাইয়ের জন্য আজ (৪র্থ রোজায়) আবার নিতে এসেছিলাম। তবে খাবারের সামনে দাড়াতেই একটা বাসী গন্ধ লাগলো, খুব সম্ভবত আগের দিনের বেচে যাওয়া কোন আইটেম তারা ফেলে দেয়নি, মিক্সড করে দিয়েছে , এ কারণে গন্ধ বের হয়েছে। তাই আর কিনিনি।
বেচা বিক্রির এক ফাকে হোসেনের সাথে কথা হলে দেশ রূপান্তরকে তিনি জানান, প্রায় ৭৬ বছর ধরে তারা পারিবারিকভাবে এই আইটেমটি বিক্রি করে আসছেন। তিনি নিজেই গত ৪৫ বছর ধরে বিক্রি করছেন এটি। আগে এটার নাম ছিলো শেখ চুড়া ভর্তা, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে এটার নাম হয়েছে বড় বাপের পোলায় খায়। ১২ টি আইটেম দিয়ে ১২ রকমের মসলা দিয়ে এটি তৈরী করা হয়। গত বছর ৮০০ টাকা করে বিক্রি করা হয়েছে, এই বছরও ৮০০ টাকা করেই বিক্রি করা হচ্ছে ।
খাবারের মান আগের মতো আছে কি না জানতে চাইলে হোসেন বলেন, আগে যারা বিক্রি করতো তারা সামান্যই বিক্রি করতো, তাই প্রত্যেকটা আইটেম যত্ন সহকারে বানাতো। এখন বেশি বিক্রি হয়, তাই আগের মতোন হয়তো সম্ভব হয় না তারপরেও মান খারাপ হয় না বলে জানান তিনি।
রমজান মাসে ঢাকায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে সিএনজি স্টেশন
গুলশানে বাসায় তল্লাশির নামে তছনছ ও ভাঙচুরের ঘটনায় আটক ৩
প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় আরও ২ বিশেষ সহকারী নিয়োগ