সাভারে পাওয়ার গ্রিডের আগুনের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন  

আপডেট : ১১ মার্চ ২০২৫, ০৫:৪৮ পিএম

সাভারের আমিনবাজার পাওয়ার গ্রিডে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিস। ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিটের টানা দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করতে আরও বেশ কিছু সময় অতিবাহিত হয়। মঙ্গলবার সকাল সোয়া ৭টার দিকে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।

সাভার ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগের উপ-পরিচালক সালেহ উদ্দিন বলেন, মঙ্গলবার সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে আমিনবাজার পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের ভেতর একটি ট্রান্সফরমার থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে প্রথমে রাজধানীর কল্যাণপুর থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। কিন্তু ট্রান্সফরমারের অয়েল ট্যাঙ্কারে আগুন লাগায় তা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। পরবর্তীতে সাভার, মিরপুর, ফায়ার সদর দপ্তর, কুর্মিটোলা, চামড়া শিল্প নগরী ও সিদ্দিক বাজারসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ৯টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণ কাজে যোগ দেয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পানির পাশাপাশি আমাদের ফোম ব্যবহার করতে হয়েছে। তবে আগুনের ঘটনায় কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। 

অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তিনি বলেন, যেহেতু এটি অনেক বড় একটি পাওয়ার গ্রিড, এখানে অনেকগুলো ট্রান্সফরমার রয়েছে। এর মধ্যে একটি ট্রান্সফরমারের অয়েল ট্যাঙ্কার থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে, বাকি ট্রান্সফরমারগুলো অক্ষত রয়েছে। কর্তৃপক্ষ চাইলে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল করতে পারেন তাতে আমাদের পক্ষ থেকে কোন বাধা নেই। এছাড়া আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ শেষে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। যেহেতু এখানে ট্যাকনিকাল কিছু বিষয় রয়েছে, তদন্ত কমিটি বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে আগুন লাগার কারণ এবং ক্ষতির বিষয়ে জানাতে পারবে। 

এদিকে আমিনবাজার পাওয়ার গ্রিডে আগুন লাগার ঘটনায় সাভারসহ আশপাশের এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। এ সময় বিদ্যুৎয়ের কারণে বিভিন্ন তৈরি পোশাক কারখানাসহ শিল্প কলকারখানার অচল হয়ে যায়।

ঢাকা পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মোহাম্মদ গোলাম কাউসার তালুকদার বলেন, ‘আগুনে গ্রিডের একটি ট্রান্সফর্মার পুড়ে গেছে। গ্রিডে আরও ট্রান্সফর্মার ছিল। বিকল্প ওই সব ট্রান্সফর্মারের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে সাভার আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। গ্রিডে আগুন লাগার কারণে সকাল থেকে যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। বিকল্পভাবে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করায় অনেক এলাকাতেই পুনরায় বিদ্যুৎ চালু করা সম্ভব হয়েছে। আশা করছি দ্রুত এ সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে এবং সব এলাকায় বিদ্যুৎ চালু করা সম্ভব হবে।

এদিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুবকর সরকার জানান, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ফায়ার সার্ভিসের সাথে কথা বলে জানতে পেরেছি এখানে ফায়ার সার্ভিসের ১৫ টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে। অগ্নিকা-ের ঘটনায় কর্তৃপক্ষ ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্ত কমিটির সদস্যরা সার্বিক বিষয় তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিলে আগুন লাগার কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে জানা যাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত