ল্যাবরেটরির শিক্ষা মাঠপর্যায়ে দিচ্ছে শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০২৫, ০৬:০৩ এএম

বাস্তবমুখী শিক্ষা ও মাঠপর্যায়ে প্রয়োগ খুব কম শিক্ষার ক্ষেত্রেই সরাসরি হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ^বিদ্যালয়কে ব্যতিক্রম বলা যায়। প্রতিষ্ঠানটি কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের পর থেকে বাস্তবমুখী অনেকগুলো বিষয়ের ওপর দক্ষ গবেষক ও জনশক্তি তৈরি করছে। চট্টগ্রামসহ দেশে আজ যে বিভিন্ন খাদ্যের বৈচিত্র্য এবং খাদ্য সংরক্ষণ ও বিপণনে আধুনিকতার ছোঁয়া এসেছে এতে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ফুড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’ বিভাগের অনেক গুরুত্ব রয়েছে। এই বিভাগ থেকে বের হওয়া শিক্ষার্থীরা বর্তমানে দেশের নামকরা ফুড ইন্ড্রাস্ট্রিগুলোতে কাজ করছে এবং দেশ সেরা হাসপাতালগুলোতে ফুড সার্ভিসে নিয়োজিত রয়েছে। আমরা যে বয়সের সঙ্গে ডায়েট ও পুষ্টিগুণযুক্ত খাদ্যের কথা বলি, এই বিষয়টি নিশ্চিত করে এখান থেকে ডিগ্রিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা।

চট্টগ্রামে ইফতারির বাজার ঘুরে দেখা যায়, এখানে কোরিয়ান ফুড, চাইনিজ ফুড, পশ্চিমা ফুড, পাশ্চাত্যের ফুড ও ইন্ডিয়ান ফুডের সঙ্গে আমাদের দেশীয় ফুডের একটি মিশেল রয়েছে। আবার কোনো কোনো জায়গায় দেখা যায় সম্পূর্ণ নতুন একটি আইটেম। খাদ্যের এই নতুনত্ব বিষয়ে জানতে কথা হয় ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. ফেরদৌসী আক্তারের সঙ্গে। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের চার বছরের অনার্স কোর্সে মূলত তিনটি বিষয়কে (ফুড প্রসেসিং, নিউট্রিশন ও সংরক্ষণ) প্রাধান্য দিয়ে থাকি। এগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয় ফুডের কোয়ালিটি, ফুড কন্ট্রোল, ফুড ডেভেলপমেন্টসহ আরও অনেক অনেক বিষয়। আমরাই একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে ফুডের সব শাখা পড়িয়ে থাকি এবং শিক্ষার্থীদের বাস্তবসম্মত শিক্ষা দিয়ে থাকি।’

তিনি আরও বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা ল্যাবরেটরিতে যে ফুড তৈরি করে সেসব ফুড শিক্ষার্থী ও সাধারণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেটে আমরা একটা আউটলেটও দিয়েছি। এখান থেকে যেসব শিক্ষার্থী পাস করে বের হচ্ছে তারা এখন দেশের বিভিন্ন ফুড ইন্ডাস্ট্রি ও হাসপাতালগুলোতে জব করছে।

কথা হয় এই বিভাগ থেকে পাস করে সুপারশপ খুলশী মার্টে কোয়ালিটি কন্ট্রোলের প্রধান হিসেবে দায়িত্বে থাকা সাইদুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ফুড সায়েন্সে  পড়ালেখা করে চাকরির বাজার যেমন অনেক বড় তেমনি মানুষকে সঠিক ফুডের সেবাও দেওয়া যায়।’

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা ইফতারিসহ বিভিন্ন ধরনের ফুডে যে নতুনত্ব আসছে সেগুলো নিয়ে কাজ করছি। আর এরই ফলাফল হিসেবে বাজারে বিভিন্ন ধরনের নতুন নতুন ফুড আইটেম দেখতে পাওয়া যায়। আবার এই ফুডগুলো বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে কীভাবে সংরক্ষণ করা যায় তাও নিশ্চিত করা হয়।

উল্লেখ্য, ভেটেরিনারি বিশ^বিদ্যালয়ের এই অনুষদ থেকে প্রতিবছর গড়ে ৭০ জন করে শিক্ষার্থী ডিগ্রি নিয়ে বের হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত