গাজা উপত্যকায় ফের রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয়েছে। রাতের অন্ধকারে ইসরায়েলি বাহিনীর বোমা হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৪০৪ ফিলিস্তিনি, আহত হয়েছেন ৫৬২ জন। হতাহতদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু। গাজার দক্ষিণের খান ইউনিস, উত্তরের গাজা নগর এবং মধ্যাঞ্চলের দেইর আল-বালাহসহ প্রায় সব এলাকায় যুদ্ধবিমান ও ড্রোন থেকে বোমাবর্ষণ চালিয়েছে ইসরায়েল।
১৫ মাস ধরে ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় ৪৮ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হওয়ার পর গাজাবাসীর মধ্যে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছিল যুদ্ধবিরতি। কিন্তু গত সোমবার মধ্যরাতের পর ঘুমন্ত গাজাবাসীর ওপর এই হামলায় ফের ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গাজা। হামলার শব্দে ভেঙে যায় ঘুম, চারদিকে শোনা যায় আহত মানুষের আর্তচিৎকার আর আতঙ্কিত মানুষের ছোটাছুটি।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় নিহত ও আহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। গাজার আল-জাজিরার প্রতিনিধি তারেক আবু আজৌম জানান, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, অস্থায়ী হাসপাতাল, আবাসিক ভবন—সর্বত্র বিমান থেকে বোমা হামলা চলছিল। হামলায় হামাসের কিছু শীর্ষ নেতাও নিহত হয়েছেন।
হামাসের অভিযোগ: যুক্তরাষ্ট্রের মদদে বিশ্বাসঘাতকতা
গাজায় ইসরায়েলের এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে হামাস। সংগঠনটি বলেছে, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তি একতরফাভাবে বাতিল করেছে এবং এই হামলার মধ্য দিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। হামাস আরও বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনেই ইসরায়েল এই হামলা চালিয়েছে।
ইরানও যুক্তরাষ্ট্রকে এই হামলার জন্য সরাসরি দায়ী করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অব্যাহত হত্যাযজ্ঞের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি দায়ী।’
বিশ্ব সম্প্রদায়ের নিন্দা
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, ‘ইসরায়েলের হামলা ফিলিস্তিনিদের জীবনকে অসহনীয় দুর্দশায় ফেলেছে। তিনি যুদ্ধবিরতি মেনে চলা, ত্রাণসহায়তা প্রবেশে বাধা না দেওয়া এবং জিম্মিদের নিঃশর্তে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।’
কাতার, সৌদি আরব, জর্ডানসহ আরব দেশগুলোও ইসরায়েলের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। কাতার বলেছে, ইসরায়েলের এই হামলা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে অশান্তির ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিয়েছে।
যুদ্ধবিরতি আলোচনা বন্ধ
কয়েক মাসের আলোচনার পর মিসর, কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ১৯ জানুয়ারি গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। কিন্তু সোমবার রাতের হামলার পর যুদ্ধবিরতির আলোচনা বন্ধ হয়ে গেছে। হামাস এখনো মূল যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলতে চায় বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির মুখপাত্র আবদেল লতিফ।
ইসরায়েল দাবি করেছে, হামাস জিম্মিদের মুক্তি না দেওয়ায় এই হামলা চালানো হয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, ইসরায়েল এখন থেকে আরও বেশি সামরিক শক্তি নিয়ে হামাসের ওপর হামলা চালাবে।
গাজায় চলমান এই সংঘাত ফিলিস্তিনিদের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে। বিশ্ব সম্প্রদায়ের নিষ্ক্রিয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ইসরায়েলের এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অশান্তির আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। খবর: আল জাজিরা
অনুমোদন পেল ‘গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়’
ওসমান পরিবারের কর ফাঁকির অভিযোগ তদন্ত হবে