স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধের বার্ষিকী আজ

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২৫, ০৫:৪৬ এএম

আজ বুধবার ১৯ মার্চ স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধের ৫৪তম বার্ষিকী। ১৯৭১ সালের এই দিনে জয়দেবপুরে (গাজীপুর) ভাওয়াল রাজবাড়িতে তৎকালীন সেনানিবাসে দ্বিতীয় বেঙ্গল রেজিমেন্টকে নিরস্ত্র করার উদ্দেশ্যে ব্রিগেড কমান্ডার জাহানজেবের নেতৃত্বে পাঞ্জাব রেজিমেন্টের একদল সৈন্য জয়দেবপুর সেনানিবাসে আগমন করবে এই খবর পেয়ে জয়দেবপুরের সর্বস্তরের জনসাধারণ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড গড়ে তুলে। ঐ সময় জয়দেবপুর সেনানিবাসের অধিনায়ক ছিলেন লে. কর্নেল মাসুদ ও সহ-অধিনায়ক ছিলেন মেজর কে এম সফিউল্লাহ। এ সময় গাজীপুরের বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতা (সাবেক মন্ত্রী ও রাষ্ট্রদূত) মরহুম শামসুল হক পাক হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।

বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতাকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম হাবিব উল্লাহর নেতৃত্বে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি হাইকমান্ড এবং ৯ সদস্য বিশিষ্ট অপর একটি অ্যাকশন কমিটি গঠন করা হয়। নেতাদের পরামর্শে ছাত্র-শ্রমিক-জনতা পাক হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধকল্পে চান্দনা চৌরাস্তা থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার রাস্তায় বহু সংখ্যক ব্যারিকেড তৈরি করে। দুপুরের দিকে পাক হানাদার বাহিনী চান্দনা চৌরাস্তায় উপস্থিত লোকজনকে অস্ত্রের মুখে ব্যারিকেড সরাতে বাধ্য করে সেনানিবাসে প্রবেশ করলে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা পুনরায় রাস্তায় ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। ছাত্র-জনতা জয়দেবপুর রেলওয়ে লেভেল ক্রসিং-এ মালগাড়ির ওয়াগন ফেলে বন্দুক ও বাঁশের লাঠি নিয়ে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলে।

সেনানিবাস থেকে ফেরার পথে জয়দেবপুর লেভেল ক্রসিং-এ পাক হানাদার বাহিনী উপস্থিত হলেই স্থানীয় সাহসী বীরদের বন্দুক গর্জে ওঠে। পাক হানাদার বাহিনীর প্রতি মরহুম কাজী আজিম উদ্দিন আহমেদ (মাস্টার) স্বীয় বন্দুক দিয়ে প্রথম গুলিবর্ষণ করেন। ওই সময় হানাদার বাহিনী পাল্টা গুলিবর্ষণ করলে নিয়ামত, মনু খলিফা শহীদ হন এবং ডা. ইউসুফ আলী সরকার, শাহজাহান, সন্তোষসহ বহু লোক আহত হন।

জয়দেবপুর থেকে চৌরাস্তা পর্যন্ত রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড থাকায় হানাদার বাহিনী পায়ে হেঁটে চান্দনা চৌরাস্তায় উপস্থিত হলে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার মিয়ার নেতৃত্বে স্থানীয় ছাত্র-জনতার সশস্ত্র প্রতিরোধের মুখে তারা এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণ করে। এখানে গুলিতে হুরমত আলী শহীদ হন এবং কানু মিয়াসহ অনেকে আহত হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরে কানু মিয়া মারা যান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত