শামীমের জন্য কেন্দ্রীয় চুক্তির দরজা এখনও বন্ধ হয়নি

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২৫, ০৩:০৭ পিএম

বাংলাদেশ ক্রিকেটে শামীম হোসেন পাটোয়ারি হয়ে ওঠা সহজ নয়। একজন মিডল-অর্ডার ব্যাটার হিসেবে, বিশেষ করে সাদা বলের ক্রিকেটে, প্রায়ই তাকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। কোনো দিন তাকে দলের ব্যাটিং বিপর্যয় সামাল দিতে হয়, আবার কোনো দিন ইনিংসের গতি বাড়িয়ে শক্তিশালী ফিনিশিংয়ের দায়িত্ব নিতে হয়। কখন কী চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে, তা বলা কঠিন। 

তবে মাঠের বাইরেও কম লড়াই করতে হয়নি শামীমকে। জাতীয় ও ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফর্ম করেও তিনি জায়গা পাননি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কেন্দ্রীয় চুক্তির তালিকায়। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা হয়, আর সাম্প্রতিক সময়ে তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্স সেই বিতর্ক আরও উসকে দিয়েছে। 

যদিও বিসিবির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এখনো কেন্দ্রীয় চুক্তির দরজা বন্ধ হয়নি শামীমের জন্য। সে ভালো করছে। এখনো সুযোগ রয়েছে তার সামনে। যেহেতু ৬ মাস পর একটা রিভিউ হয় ক্রিকেটারদের। নিয়মিত ভালো করলে চুক্তিতে শামীমকে দেখা যেতে পারে।’

তবে শামীম নিজের খেলায় মনোযোগ ধরে রেখেছেন। গত কয়েক মাসে তিনি ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে যথাযথ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন এবং নিজেকে মানিয়ে নিচ্ছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী এই ব্যাটার বিপিএলে চট্টগ্রাম কিংসকে ফাইনালে তুলতেও বড় ভূমিকা রাখেন। আর এখন বসুন্ধরা ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে প্রাইম ব্যাংকের হয়ে একের পর এক ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলছেন। 

সর্বশেষ ম্যাচে, মঙ্গলবার শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাবের বিপক্ষে ৩৭ বলে অপরাজিত ৬২ রান করে দলকে ৩০৮/৫ রানের শক্তিশালী সংগ্রহ গড়তে সাহায্য করেন শামীম। তার এই ইনিংসের ওপর ভর করেই ৫৫ রানের জয় পায় প্রাইম ব্যাংক। 

ম্যাচ শেষে শামীম বলেন, ‘আমার ব্যাটিং পজিশন এমন যে প্রায়ই কঠিন পরিস্থিতিতে খেলতে হয়, তবে আমি এসব চ্যালেঞ্জ উপভোগ করি।’

তার ইনিংসে বড় ভূমিকা রাখেন ইরফান শুক্কুর, যার সঙ্গে দারুণ জুটি গড়েন শামীম, ‘আমরা দুজনই ইতিবাচক ব্যাটিং করেছি। ইরফান ভাই আমাকে অনেক সমর্থন দিয়েছেন। উনি নিজের খেলাটা খেলেছেন, আমিও আমার মতো খেলেছি।’ 

প্রাইম ব্যাংকের টপ অর্ডারকেও কৃতিত্ব দিতে ভোলেননি এই তরুণ ব্যাটার, ‘আমাদের ব্যাটসম্যানরা শুরুটা ভালো করেছিল। যদি নিয়মিত এমন শুরু পাই, তাহলে আমাদের মতো লেট-অর্ডার ব্যাটারদের জন্য কাজটা অনেক সহজ হয়ে যায়। আমাদের জয়ের খুব দরকার ছিল, আজ সেটা পেয়েছি। তাই খুব ভালো লাগছে।’

শুধু ব্যাটিংয়েই নয়, বল হাতেও কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন শামীম। ম্যাচের মাঝপথে ৫ ওভার বল করে মাত্র ২১ রান দিয়ে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দল আমার বোলিংকে কাজে লাগাচ্ছে, এতে আমি খুব খুশি। আমি সবসময় নিজেকে একজন অলরাউন্ডার ভাবি এবং সেই অনুযায়ী অনুশীলন করি।’

অবহেলিত থেকে এখন দলের অপরিহার্য সদস্য হয়ে ওঠার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন শামীম হোসেন। কঠিন পরিস্থিতিতে দলের জন্য লড়াই করা তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি শুধু নিজেকে আরও পরিণত করছেন—এবং বারবার প্রমাণ দিচ্ছেন, বাংলাদেশ ক্রিকেটে শামীম হোসেন মানেই চ্যালেঞ্জের আরেক নাম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত