তারেক রহমান আরেক মামলায় নিষ্কৃতি পেলেই মুক্ত

ঘুষের অভিযোগে খালাস

রেকর্ডপত্র দেখেই ব্যবস্থা নিতে পারে আদালত : আইনজীবী

আপডেট : ২১ মার্চ ২০২৫, ০২:১২ এএম

আরও একটি মামলায় খালাস পেলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বসুন্ধরা গ্রুপের পরিচালক হুমায়ুন কবির সাব্বির আহমেদ হত্যা মামলার আসামিদের বাঁচাতে ২১ কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগের মামলায় তাকে এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ আটজনকে খালাস দিয়েছে আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক মো. আবু তাহের এ রায় দেন। খালাস পাওয়া অন্যরা হলেনশ্বে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, তার দুই ছেলে সাফিয়াত সোবহান এবং সাদাত সোবহান, সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, তারেক রহমানের সাবেক একান্ত সহকারী সচিব (এপিএস) মিয়া নুরুদ্দিন অপু ও আবু সুফিয়ান।

এ নিয়ে প্রায় সাত মাসে তারেক রহমান বিগত পলাতক সরকারের দায়ের করা অন্তত ৪৬টি মামলায় খালাস কিংবা অব্যাহতি পেলেন। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলায় সাজার পর উচ্চ আদালত থেকে খালাস পান তিনি। আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, সাজামুক্ত হতে তারেককে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলায় ৯ বছর সাজা থেকে খালাস পেতে হবে। এই মামলায় দেড় বছরের বেশি সময় আগে তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানকে তিন বছর কারাদ-াদেশ দিয়েছিল ঢাকার একটি আদালত। বিএনপির শীর্ষ আইনজীবীরা দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, এ মামলার বিষয়ে তারা স্টেট ডিফেন্সের (রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী) মাধ্যমে আদালতে খালাসের আবেদন করতে পারেন এবং তারা আশাবাদ ব্যক্ত করে এও বলেছেন, সাজা ও আইনি বেড়াজালমুক্ত হয়ে তারেক রহমান দেশে ফিরবেন। ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে ২০০৭ সালের ৪ অক্টোবর এ মামলাটি করে দুদক। ২০০৮ সালের ২৪ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা। অভিযোগপত্রে বলা হয়, সাব্বির হত্যা মামলার ঘটনা ধামাচাপা দিতে তারেক, বাবর ও আহমেদ আকবর সোবহানের মধ্যে বাবরের বেইলি রোডের সরকারি বাসায় একটি বৈঠক হয়। বৈঠকে আকবর সোবহানের কাছে ১০০ কোটি টাকা দাবি করেন তারেক ও বাবর। ৫০ কোটি টাকার বিনিময়ে এ হত্যা রহস্য ধামাচাপা দেওয়ার জন্য তারেক ও বাবরের সঙ্গে চুক্তি হয়। চুক্তি অনুসারে আকবর সোবহানের কাছ থেকে বাবর ২১ কোটি টাকা গ্রহণ করেন। এ টাকার মধ্যে বাবরের নির্দেশে বসুন্ধরা গ্রুপের পরিচালক আবু সুফিয়ান ২০০৬ সালের ২০ আগস্ট হাওয়া ভবনে ১ কোটি টাকা তারেকের পিএস অপুকে বুঝিয়ে দেন। বাবর ৫ কোটি টাকা আবু সুফিয়ানের মাধ্যমে নগদ গ্রহণ করে কাজী সালিমুল হক কামালের কাছে জমা রাখেন। বাকি ১৫ কোটি টাকা বাবরের নির্দেশে আবু সুফিয়ান প্রাইম ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় সালিমুল হক কামালকে ২০টি চেকের মাধ্যমে দেন।

আরও এক মামলায় সাজা রয়েছে তারেকের : বিএনপির শীর্ষ আইনজীবীরা জানান, ১৬ বছরের বেশি সময় ধরে দেশের বাইরে থাকা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গত ১৭ বছরে হত্যা, দুর্নীতি, মানহানি, রাষ্ট্রদ্রোহসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৮০টির বেশি মামলা হয়। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অন্তত ৪৬টি মামলায় খালাস কিংবা অব্যাহতি পেয়েছেন তিনি। সবশেষ গতকাল ঘুষ গ্রহণের অভিযোগের মামলায় খালাস পেলেন তিনি। এর আগে গত ৬ মার্চ অর্থ পাচারের একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তাকে খালাস দেয়।

আইনজীবীদের তথ্যমতে, পাঁচটি মামলায় সাজা হয় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে। গত বছর ১ ডিসেম্বর ২১ আগস্ট মামলায় হাইকোর্টের রায়ে খালাস পান তিনি। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় গত ১৫ জানুয়ারি তাকে ১০ বছর সাজা থেকে খালাস দেয় আপিল বিভাগ। শেখ মুজিবুর রহমানকে কটূক্তির অভিযোগের মামলায় ২০২১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি নড়াইলের একটি বিচারিক আদালত তারেককে দুই বছর কারাদ-াদেশ দেয়। বাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছর ৩১ ডিসেম্বর এ মামলায় তাকে খালাস দেয় একই আদালত।

২০২৩ সালের ২ আগস্ট জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের একটি মামলায় তারেক রহমানকে ৯ বছর ও তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানকে তিন বছর কারাদ-াদেশ দেয় ঢাকার একটি বিশেষ জজ আদালত। ফৌজদারি বিধান অনুযায়ী, আদালত কাউকে পলাতক উল্লেখ করে সাজা দিলে পরে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে আত্মসমর্পণ করে আপিল করতে হয়। বিএনপির অন্তত দুজন শীর্ষ আইনজীবী কয়েক দিন আগে দেশ রূপান্তরকে বলেছিলেন, যে মামলাটিতে তারেক রহমানের সাজা রয়েছে, সেটিতে তিনি হাজির হবেন, নাকি ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারায় সাজা মওকুফের আবেদন করা হবে, সে বিষয়টি তাদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছে।

জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও দলটির শীর্ষ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তারেক রহমান যদি আদালতে নাও হাজির হন তাহলে আদালত রেকর্ডপত্র দেখে তাকে খালাস দিতে পারেন।’ তিনি বলেন, ‘যখন কোনো আসামি অনুপস্থিত থাকে তখন স্টেট ডিফেন্স হতে পারে। এখানে আসামিকে হাজির হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। আদালত নিজেও এটি করতে পারেন। আমরাও আপিল করতে পারি।’ ৪০১ ধারার প্রসঙ্গ উল্লেখ করলে অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিজেই বলেছেন, তিনি সব মামলা আইনগতভাবে মোকাবিলা করার পরেই দেশে ফিরবেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত