গাজা উপত্যকায় হত্যা ও রক্তপাত বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জরুরিভাবে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপিসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠনের নেতারা। গতকাল শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতি এবং বিভিন্ন প্রতিবাদী কর্মসূচি থেকে এ আহ্বান জানানো হয়। এদিন জুমার নামাজের পর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম এলাকাসহ রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ফিলিস্তিনের গাজায় রক্তপাত এবং ইসরায়েলের সম্প্রসারণবাদী আগ্রাসন বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়। এসব কর্মসূচি ঘিরে রাজধানী জুড়ে সতর্ক অবস্থানে ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
গাজায় হত্যা ও রক্তপাত বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জরুরিভাবে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের সম্প্রসারণবাদী আগ্রাসন বন্ধ করে সেখানে জনগণের জানমালের নিরাপত্তাসহ শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিশ্বসম্প্রদায়কে আরও বেশি সোচ্চার হতে হবে।’ গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তিনি এ আহ্বান জানান।
বিএনপি মহাসচিব অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সেনাদের কয়েক দিন ধরে চলা হামলায় অসংখ্য ফিলিস্তিনি জনগণ ও শিশু হতাহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ এবং তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে শোক প্রকাশ করেছেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘পবিত্র রমজান মাসেও ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর ওপর চলছে মানবতাহীন নিষ্ঠুর বর্বরতা। গাজা উপত্যকাকে বধ্যভূমিতে পরিণত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক রীতিনীতি উপেক্ষা করে নির্বিচারে বিমান হামলায় নারী ও কোলের শিশুসহ হাজারেরও অধিক ফিলিস্তিনিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। বছরাধিক কাল ধরে চলা ইসরায়েলের অবিরাম হামলায় ফিলিস্তিনের উপত্যকাটি যেন প্রাণহীন ঊষর মরুভূমিতে পরিণত হতে যাচ্ছে, উপত্যকাটি যেন এখন এক ভয়াল মৃত্যুপুরী।’
যুদ্ধবিরতির পরও নতুন করে এ হামলা বেআইনি ও মানবতার বিরুদ্ধে জঘন্যতম অপরাধ উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘গাজা উপত্যকায় রক্তপাত বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জরুরিভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ইসরায়েলের এ ভয়াবহ রক্তাক্ত আগ্রাসন ফিলিস্তিন জাতিকে নিশ্চিহ্ন করার একটি সুপরিকল্পিত মাস্টারপ্ল্যান। বিশ্ব জনমতের কোনো তোয়াক্কা না করে দখলদার শক্তি ইসরায়েলিরা আধিপত্য বজায়ের খেলায় মেতে রয়েছে।’
গাজা হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক বলেছেন, ‘মুসলমান ও বিশ্বের মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বাংলাদেশ সরকারকে আহ্বান জানাই।’ গতকাল দুপুরে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে ‘ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের বর্বরতা ও ভারতে মুসলিমদের ওপর আক্রমণের প্রতিবাদে’ বিভিন্ন ইসলামি দল ও সংগঠন ঢাকায় বিক্ষোভের ডাক দেয়। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবিতেও বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় অনেক দল ও সংগঠন। এসব কর্মসূচি কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে এমন আশঙ্কায় সামগ্রিক পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। এরই অংশ হিসেবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সামনের এলাকায় সেনাবাহিনী, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। মোতায়েন ছিল জলকামান ও এপিসি।
মামুনুল হক বলেন, ‘বিশ্ব সম্প্রদায় ও জাতিসংঘের প্রতি আমরা আহ্বান জানাই, ফিলিস্তিনে এভাবে নারী-শিশুদের ওপর আগ্রাসন বন্ধ করতে না পারেন; তাহলে এ হামলা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়তে পারে। আমরা দ্রুত ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার দাবি জানাই। আরব লিগ ও ওয়াইসিসহ মুসলমানদের সব সংগঠন মিলে জাতিসংঘের নির্লিপ্ততার প্রতিবাদ জানিয়েছে। সবাই মিলে বিশ্ব মুসলমানদের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। ফিলিস্তিন মুক্ত করতে সারা বিশ্বে মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাই।’
এ বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরের সভাপতি জুনায়েদ আল হাবিব।
পশ্চিমা বিশ্বের মদদে ইসরায়েল যুগের পর যুগ ধরে গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমী। গতকাল বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ শাখার বিক্ষোভ মিছিল-পরবর্তী সমাবেশে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা আজিজুল হকের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেনের পরিচালনায় এ সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, অধ্যাপক আবদুল জলিল ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক কাজী মিনহাজুল আলম।
