আসন্ন ঈদুল ফিতরকে ঘিরে দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলিতে বিভিন্ন সেমাই কারখানাগুলোতে নোংরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কৃত্রিম রং মিশিয়ে বানানো হচ্ছে বাহারি রঙের সাদা সেমাই ও লাচ্ছা সেমাই। এমনকি পা দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে সেমাইয়ের খামিড়। স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে দ্রুত এসব সেমাই কারখানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি স্থানীয়দের।
ঈদকে ঘিরে হিলির স্টেশন ডাঙ্গাপাড়া এলাকায় গড়ে উঠেছে ছোট-বড় সেমাই কারখানা। এসব কারখানার মধ্যে কিছু কারখানার অনুমোদন থাকলেও অনেক কারখানার নেই অনুমোদন বা লাইসেন্স। আবার কারও একটি কারখানার অনুমোদন নিয়ে দুটি কারখানা পরিচালনা করছেন। এসব কারখানাগুলোতে নোংরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি করা হচ্ছে সেমাই। সেই সাথে কৃত্রিম রং মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে বাহারি রংয়ের সেমাই। এমনকি পা দিয়ে সেমাই এর তৈরির চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। হিলির ডাঙ্গাপাড়া এলাকায় ১৫টির মতো কারখানা গড়ে উঠলেও অধিকাংশের লাইসেন্স নেই।
স্থানীয় আব্দুল করিম বলেন, মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরে সবাই সেমাই খায়। এটি খুব মুখরোচক খাবার, সেই সঙ্গে সেমাই খেতেও ভালো লাগে। কিন্তু শুনছি পা দিয়ে খামিড় করে সেমাই বানানো হচ্ছে। এ ছাড়া তাতে নানা রকম রং মেশানো হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
সেমাই কারখানাতে কর্মরত শ্রমিক শহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা সেমাই কারখানাগুলোতে শ্রমিক হিসেবে সেমাই তৈরি ও ভাজার কাজ করছি। প্রত্যেককে স্বাস্থ্যসম্মত পোষাক ব্যবহারের নির্দেশনা থাকলেও সেটি মানা সম্ভব হয় না। কারণ আগুন ও তেলের কাজের কারণে প্রচণ্ড গরম। যার কারণে কাপড় পরে থাকতে পারি না। তবে পোষাক না পরলেও সমস্যা হবে না, আমরা যথেষ্ট পরিষ্কার থাকি।
বিএসটিআই দিনাজপুর অফিসের ফিল্ড অফিসার ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে তদারকি করা হয়। এ সময় যাদের ত্রুটি পাওয়া যায় তাদের লাইসেন্স বাতিলসহ শোকজ করা হয়। এরপরও আমাদের একটি বৃহৎ এলাকা দেখতে হয়। সবসময় তদারকি করা সম্ভব হয় না।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর দিনাজপুরের সহকারী পরিচালক বোরহান উদ্দিন বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে সেমাই কারখানাগুলোতে তদারকি করা হচ্ছে। হিলির ডাঙ্গাপাড়ায় অবস্থিত ৫টি সেমাই কারখানা পরিদর্শন করা হয়েছে। এ সময় দুটি প্রতিষ্ঠানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও কৃত্রিম রংয়ের ব্যবহার করায় এবং সেমাইগুলো ভাজার পর যে স্টেইনলেস স্টিলের ওপর রাখার কথা থাকলেও টিন ব্যবহার করায় তাদের ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত রায় বলেন, এখন পর্যন্ত দুই দফায় অভিযান চালিয়ে ৬টি সেমাই কারখানাকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। দুটি সেমাই কারখানা সিলগালা করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
