জাতীয় নির্বাচন নিয়ে শোরগোল

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২৫, ১২:০৫ এএম

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আবারও বলেছেন, চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে। স্বাধীনতা দিবসে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে তিনি বেশ জোর দিয়েই বলেছেন এমন কথা। যদিও একই কথা তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর বহুবার বলেছেন। শুধু কিছুদিন আগে দুবাইয়ে ওয়ার্ল্ড গভর্নমেন্ট সামিটের এক অধিবেশনে সিএনএনের সাংবাদিক বেকি অ্যান্ডারসনের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে কিছু রাজনৈতিক দলের মধ্যে নির্বাচনের দোলা লেগেছিল। বিশেষ কওে, বিএনপি ডিসেম্বরের মধ্যে নিবাচন দাবি করে আসছে দীর্ঘদিন ধরেই। এর আগে বিভিন্ন সময়ে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার এবং জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বলেছিলেন- ‘রাজনৈতিক দলগুলো ছোট সংস্কার চাইলে ডিসেম্বরে আর বড় সংস্কার চাইলে আগামী বছর জুনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’ অর্থাৎ ঘুরেফিরে প্রধান উপদেষ্টা ডিসেম্বর থেকে আগামী জুনের মধ্যেই নির্বাচন ডেট লাইন রেখেছেন। তবে একটা ধারণা পাওয়া যায়, ডিসেম্বরে নির্বাচন করতে হলে অন্তর্বর্তী সরকারকে অনেক কাজ বাকি রেখে করতে হবে। তিনি যে ছোট সংস্কারের কথা বলছেন, এগুলোর জন্য দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু জুলাই বিপ্লবের স্পিডের ওপর দাঁড়িয়ে সংস্কার ছাড়া নির্বাচনে যেতেও চায় না সরকার। এতে বলা যেতে পারে, এই ডিসেম্বরে নির্বাচন না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ড. ইউনূস বলেছেন- আগামী বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে। ডিসেম্বরে যদি নির্বাচন না হয় তবে বড়জোর জানুয়ারিতে হতে পারে। কারণ ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত নির্বাচন করার মতো পরিস্থিতি বাংলাদেশে পাওয়া যায় না। এছাড়া ২০২৬ সালে ফেব্রুয়ারিতে রোজা শুরু হবে। মধ্য মার্চ পর্যন্ত রোজা থাকবে।  রোজার ঈদ শেষে এসএসসি পরীক্ষা। এরপর কালবৈশাখী ও বর্ষা মৌসুম শুরু হবে। সাধারণত বর্ষায় জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা হয় না বাংলাদেশে। শুধু বাধ্যবাধকতার কারণে ১৯৯৬ সালের ১২ জুন একবার নির্বাচন হয়েছিল। এই হিসেবে জুনের মধ্যে নির্বাচনের সময় বের করা কঠিন হয়ে যাবে। তাহলে নির্বাচন কবে?

নির্বাচন নিয়ে রাজনীতিতে অন্যতম বড় দল বিএনপি ও তাদের সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো প্রায় প্রতিদিনই কথা বলছে। তারা ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চায়। পাশাপাশি ছোটখাটো সংস্কারও চায়। দলটি মনে করে, সংস্কার চলমান প্রক্রিয়া। ফলে নির্বাচিত সরকার এলে সংস্কার এগিয়ে নেবে। অন্যদিকে জামায়াত কিংবা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) চাচ্ছে, সংস্কার শেষ করে নির্বাচন হোক। এতে যত সময় লাগুক আপত্তি নেই। ফলে আপাত দৃষ্টিতে নির্বাচনের সময় নিয়ে পক্ষ-বিপক্ষ অবস্থান তৈরি হয়েছে। যেটা রাজনীতির মাঠে বড় বিতর্ক তৈরি করতে পারে। এছাড়া এনসিপির সামনে লক্ষ্য, সাবেক সরকারের শীর্ষ নেতাদের বিচার। সঙ্গে সংস্কার এবং এরপর নির্বাচন। সংস্কার ও বিচার ছাড়া কোনো দলকে ক্ষমতায় বসানোর চেষ্টা করা হলে জনগণ মেনে নেবে না বলে জানিয়েছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। অন্তর্বর্তী সরকার এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করতে চাইলে নির্বাচনের সময় ঝুলে যেতে পারে। সেটা আবার নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে। প্রকৃতপক্ষে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আমাদের প্রতীক্ষার প্রহর বেশ দীর্ঘ। বিগত ১৫ বছর দেশে নির্বাচনের নামে প্রহসন হয়েছে। জনগণ ভোট দিতে চায়, কিন্তু পারেনি। একইসঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোও চায় ক্ষমতার পরিবর্তন। এছাড়া অনির্বাচিত সরকার দ্বারা রাষ্ট্র পরিচালনা সুষ্ঠুভাবে হয় না। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করবে, এটাই তো কাম্য। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচনের নামে তামাশা করে জনমানুষকে বিষিয়ে তুলেছিল। যার পরিণতিও ভোগ করেছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন শেখ হাসিনা। এ কারণেই বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আয়োজন করার জন্য সচেষ্ট রয়েছে। এই সরকার চায়, দেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের রোল মডেল রেখে যেতে।

নির্বাচনের প্রসঙ্গ যখন আসে, তখন সংস্কারের প্রসঙ্গ এসে যায়। অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারের জন্য ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করেছে। বেশিরভাগ সংস্কার কমিশন ইতিমধ্যে তাদের প্রস্তাব জমা দিয়েছে। এসব প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের’ আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন ঐকমত্য কমিশনের রাজনৈতিক দলগুলো তাদের মতামত তুলে ধরছে। কিন্তু সংস্কারের অনেক বিষয় নিয়েই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতানৈক্য রয়েছে। এসব মতানৈক্য দূর করে ঐকমত্যে পৌঁছা ড. মোহাম্মদ ইউনূস সরকারের জন্য বেশ কঠিন। এই ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করা চিন্তাই করা যায় না। তা ছাড়া আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো অতীতে নিজেদের সুবিধার কথা বিবেচনায় রেখে ঐক্যে পৌঁছাতে চেয়েছে। সে কারণে অতীতের অনেক সংলাপই ব্যর্থ হয়েছে। হয়তো রাজনীতিকদের অবস্থান থেকে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এবারের পরিস্থিতিটা ভিন্ন। অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে আলাদা। ঐক্যে পৌঁছাতে না পারলে বর্তমান প্রেক্ষাপটে যে বিপত্তি তৈরি হবে না, সে আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কারণ ফ্যাসিস্ট এবং তাদের দোসররা এখনো সক্রিয়। তাদের প্রতিহত করতে ঐক্যের বিকল্প নেই। ঐক্যের জন্য পুরনো রাজনৈতিক দলগুলোর যেমনি দায়বদ্ধতা রয়েছে, তেমনি নতুন গঠিত দলগুলোকেও সহনশীলতা ও ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে। যেন কোথাও কোনো ভুল হয়ে না যায়। আগামী নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক না হলেও, রাজনৈতিক দলগুলো ইতিমধ্যে নির্বাচনী আয়োজন শুরু করেছে। এই রমজানে ইফতার রাজনীতির মাধ্যমে সব দলই চেষ্টা করছে, আগামী নির্বাচনের জন্য নিজেদের এগিয়ে রাখতে। এছাড়া অনেকেই নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় যাচ্ছেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন। আবার শোডাউনও করছেন। ভোট না চাইলেও মানুষের মন জয়ের চেষ্টা করছেন। এমন পরিস্থিতিতে দলগুলোর নেতারা মাঠের রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থানও বুঝে নিতে চাচ্ছেন। হয়তো অনেকটা পেয়েও গেছেন। প্রবীণ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপি এবং জামায়াত নির্বাচনের মাঠে এগিয়ে থাকতে চাচ্ছে। নতুন গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি জুলাই বিপ্লবকে ধরে জনমানুষের কাছে যেতে চাচ্ছে। এই দলে নেতৃস্থানীয় যারা আছেন, তাদের অতীত ভোটের অভিজ্ঞতা নেই। তবে তাদের আছে আত্মবিশ্বাস ও ঝুড়িভরা স্বপ্ন। দেশকে পুনর্গঠনে তারা নতুন দিগন্তের সূচনা করতে চাচ্ছেন। এ কারণে দেশের জন্য ক্ষতিকর এবং কলুষিত রাজনীতির চর্চা থেকে বেরিয়ে আসতে সংস্কারকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। নির্বাচন কমিশন অবশ্য ডিসেম্বর ধরে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা সাংবিধানিকভাবে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দায়িত্ব। এই নির্বাচনের দিনক্ষণ তারাই ঠিক করে। তবে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে প্রকৃতঅর্থে নির্বাচন কবে হবে, তা মূলত নির্ভর করছে অন্তর্বর্তী সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ওপর। ইসি সরকারের সেই সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছে।

বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, বাম গণতান্ত্রিক জোটসহ কিছু রাজনৈতিক দল আলাদাভাবে ইসির সঙ্গে বৈঠক করেছে। সেখানে দলগুলো নির্বাচন প্রশ্নে তাদের অবস্থানও তুলে ধরে। বিএনপি এবং বাম জোট চলতি বছরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। তারা আগে স্থানীয় নির্বাচন করার বিপক্ষে মত দিয়েছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য কোনো সময় বেঁধে দেয়নি। তারা জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে মত দিয়েছে। জামায়াত চায় আগে সংস্কার, তারপর নির্বাচন। জাতীয় নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক করতে না পারার ক্ষেত্রে এটিও একটি কারণ। জামায়াতের মতো এনসিপিও চায় জাতীয় নির্বাচনের আগে গণপরিষদ নির্বাচন। কিন্তু বিএনপি তা চায় না। জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলে কী হতে পারে, বিএনপি হয়তো তা নিয়ে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করে। তাছাড়া জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে আগে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা আছে তাদের। মূলত দুটি বিষয় মাথায় রেখে জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কথা ভাবা হচ্ছে। প্রথমত, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর স্থানীয় সরকারের অনেক জনপ্রতিনিধিও আত্মগোপনে চলে যান। একপর্যায়ে বেশিরভাগ স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিকে বরখাস্ত করে অন্তর্বর্তী সরকার। এখন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোয় জনপ্রতিনিধি না থাকায় সাধারণ মানুষ বিভিন্ন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দ্বিতীয়ত, আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলে নতুন নির্বাচন কমিশনের একটি পরীক্ষা ও অভিজ্ঞতা হবে। সরকারও সেখান থেকে অভিজ্ঞতা নিতে পারবে। নির্বাচনী যেসব সংস্কার আনা হবে, সেগুলো কতটা কার্যকর হচ্ছে, সেটাও এর মাধ্যমে বোঝা সম্ভব হবে। তবে বিএনপি মনে করে, জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করতে গেলে সারা দেশে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। আগে স্থানীয় নির্বাচন চাওয়াকে দেশকে ভঙ্গুর করার পরিকল্পনা হিসেবে বর্ণনা করেছে বিএনপি। অন্যদের মধ্যেও এমন আশঙ্কা রয়েছে।

যদিও ড. মোহাম্মদ ইউনূস আগামী ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে বলে জানিয়েছেন, কিন্তু বিএনপির ভাষায় নির্বাচনী রোডম্যাপ তিনি দেননি। নির্বাচনের জন্য অনেকগুলো কাজ এখনো বাকি। ঐকমত্য কমিশনের মতৈক্যে পৌঁছা, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ, জাতীয় সনদ ঘোষণা, সংবিধান সংস্কার হবে কি না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগে না পরে সে বিষয়ে সিদ্ধান্তসহ অনেকগুলো বিষয় অপেক্ষমাণ রয়েছে। এসব বিষয় এক বসায় সুরাহা হয়ে যাবে, তেমনটি ভাবা যায় না। সবগুলো বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসতে গেলে, আগামী নির্বাচনের সময় জুনের মধ্যেও কাভার করা কঠিন। এক্ষেত্রে সরকার কোনটিকে প্রায়োরিটি দেবে, কোনটিকে এড়িয়ে যাবে- সেটাই বিবেচনার বিষয়। আবার যে বিষয়টিকে এড়িয়ে যাবে সেটা জুলাই বিপ্লব থেকে গঠিত রাজনৈতিক দল এনসিপি কতটা মানবে আর কতটা ছাড় দেবে, সেসব বিষয়েও ভাবনা-উদ্বেগ রয়েছে। অনেকের দাবি, সরকারের মধ্য থেকে তৈরি হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি। নতুন এই দলটিকে মাঠে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সরকার সময় দিচ্ছে। যেহেতু দলের নেতাকর্মীরা জনমানুষের পরিচিত মুখ না, তাই সরকার চাচ্ছে এই সময়টা কাজে লাগিয়ে তারা জনগণের আস্থা অর্জন করুক। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এসব দাবি উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়টিও ড. মোহাম্মদ ইউনূস সরকারকে জনগণের সামনে পরিষ্কার করতে হবে। এর ফলে আমরা যদি আগামী বছরের জুনেও নির্বাচনের কথা ভাবি সে হিসাব মেলাতেও কষ্ট হয়। এরপর আবহাওয়াগত কারণ তো আছেই। একটি জিনিস ভালো লাগছে, দেশে নির্বাচনের আবহ তৈরি হচ্ছে। আগামী নির্বাচনে যারা প্রার্থী হতে চান, তারা সাধারণ মানুষের কাছে যেতে শুরু করেছেন। বড় বড় পোস্টারে জনগণকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ঈদ শেষে হয়তো নির্বাচনী আমেজ আরও জোরোলো হবে। বিগত ১৫ বছর দেশের মানুষ এই আমেজ থেকে বঞ্চিত ছিল। এদেশের মানুষ নির্বাচনকে একটা বড় উৎসবের মতোই দেখে। তবে দ্রুততার সঙ্গে নির্বাচন হওয়া প্রয়োজন। যদিও অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই, তথাপি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে নির্বাচিত সরকারের অধীনে রাষ্ট্র পরিচালনাই স্বাভাবিক। এছাড়া নির্বাচন দেরিতে হলে নতুন নতুন সংকট সামনে এসে দাঁড়াতে পারে। নানা গুজব ডালপালা মেলে। গণতন্ত্রের শত্রুপক্ষ তো নিষ্ক্রিয় নয়। তারা সক্রিয় বলেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করবে। ১৫ বছর তো অনির্বাচিত সরকারের অধীনেই ছিলাম। আর কত?

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও সংবাদ বিশ্লেষক

[email protected]

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত