মিয়ানমারে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ১৬০০ ছাড়াল

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২৫, ০৯:১১ এএম

মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডে ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৬০০ ছাড়িয়েছে। মিয়ানমারের সামরিক সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৭.৭ মাত্রার এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৬৪৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ১৩৯ জন।

ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের কাছাকাছি অবস্থিত মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্ডালে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শহরজুড়ে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েছেন বহু মানুষ।

রাজধানী নেইপিদো থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক জানিয়েছেন, ‘ভূমিকম্পের আতঙ্কে অনেক মানুষ রাতে ঘরের বাইরে খোলা জায়গায় ঘুমিয়েছে। পার্ক ও রাস্তায় মাদুর বিছিয়ে থাকতে দেখা গেছে। এখনো বেশকিছু আফটারশক অনুভূত হচ্ছে, যা বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়িয়ে তুলছে।’

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কারণে সড়ক ও অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ সেতু ও রাস্তাগুলো ধসে পড়ায় দুর্গত এলাকাগুলোতে সাহায্য পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

মিয়ানমারের সামরিক সরকার জানিয়েছে, ইয়াঙ্গুন-নেইপিদো-মান্ডালে এক্সপ্রেসওয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে সেনাবাহিনী, জাতিসংঘ ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা যৌথভাবে উদ্ধার ও চিকিৎসা সহায়তা কার্যক্রম চালাচ্ছে।

এদিকে, মিয়ানমারের ছায়া সরকার ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকাগুলোতে দুই সপ্তাহের জন্য একতরফা যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে। শনিবার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাদের সশস্ত্র শাখা পিপলস ডিফেন্স ফোর্স জাতিসংঘ ও অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার কার্যক্রম চালাবে।

ভূমিকম্পের কেন্দ্র থেকে প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার দূরের থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ব্যাংককের গভর্নর চাদচার্ট সিত্তিপুন্ট জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার বেশিরভাগই ভবন ধসের কারণে।

বিশেষ করে, শহরের বিখ্যাত চাতুচাক মার্কেটের কাছে একটি নির্মাণাধীন ৩০-তলা ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়ে। এতে প্রায় ১০০ জন শ্রমিক আটকে পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। গভর্নর বলেছেন, ‘আমরা আমাদের সম্পদ ও জনবল দিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, কারণ প্রতিটি জীবন মূল্যবান।’

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্যাংককে ৭০টিরও বেশি আফটারশক অনুভূত হয়েছে, যা সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করে তুলছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে ১০০-এর বেশি প্রকৌশলী শহরের বিভিন্ন ভবন পরিদর্শনে নেমেছেন, কারণ ইতোমধ্যে ২ হাজারের বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা শেল্টারবক্সের স্বেচ্ছাসেবক হ্যারি রবার্টস জানিয়েছেন, মিয়ানমারের সরকার আন্তর্জাতিক সহায়তার জন্য বিরল আবেদন জানিয়েছে, যা পরিস্থিতির জটিলতা বোঝায়। তিনি বলেন, ‘এই সহায়তা যথাযথভাবে বিতরণ করতে হবে, যাতে জরুরি সাহায্য দ্রুত পৌঁছায়।’

এখনো বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে রয়েছেন। উদ্ধারকর্মীরা রাতভর অভিযান চালাচ্ছেন, বিশেষ করে ব্যাংককে ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে নিরলস প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত