পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা ৯ দিনের ছুটিতে পর্যটনকেন্দ্রগুলোয় ভিড় থাকবে বলে আশা করছেন পর্যটনসংশ্লিষ্টরা। তাই পর্যটককেন্দ্রগুলো সেজেছে বর্ণিলভাবে। ইতিমধ্যে বেশিরভাগ হোটেল-মোটেল বুক হয়ে গেছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর
ঈদে সমুদ্র নগরী কক্সবাজার মাতাবে সাড়ে ৭ লাখ পর্যটক : ঈদের ছুটিতে দেশের পর্যটন রাজধানী কক্সবাজারের দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখতে প্রায় সাড়ে সাত লাখ পর্যটকের সমাগম হবে বলে ধারণা পোষণ করছেন পর্যটনসেবীরা।
তাদের দেওয়া তথ্য বলছে, শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে ঈদের ছুটি। এবার ঈদে সাপ্তাহিক ছুটিসহ ৯ দিনের ছুটির কবলে পড়ছে দেশ। তবে শুরুতে তেমন পর্যটকের চাপ না থাকলেও ১ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন কক্সবাজারে পর্যটকের ভিড় থাকবে। ইতিমধ্যে কক্সবাজারের পাঁচ শতাধিক আবাসিক হোটেল, মোটেল, গেস্টহাউজ ও রিসোর্টগুলোর কক্ষ অগ্রিম বুকিং হচ্ছে। শুক্রবার পর্যন্ত তারকামানের অনেক হোটেলের রুম বুকিং হয়েছে শতভাগ। অন্যান্য আবাসিক প্রতিষ্ঠানেও ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ বুকিংয়ের তথ্য জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীরা ধারণা করছেন এই পাঁচ দিন গড়ে দেড় লাখ করে সাড়ে সাত লাখ পর্যটক দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কক্সবাজার ভ্রমণে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই ছুটিতে পর্যটকদের স্বাগত জানানোর জন্য প্রস্তুত রয়েছেন তারা। ইতিমধ্যে হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে বার্মিজ পণ্যের দোকান সবখানে শেষ হয়েছে মেরামত কিংবা সাজসজ্জার কাজ।
কক্সবাজার আবাসিক হোটেল-মোটেল, গেস্টহাউজ মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, এবারের ঈদের ছুটিতে ১ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত পর্যটক থাকবে। যারা ইতিমধ্যে বুকিং দেওয়া শুরু করেছে। এতে পাঁচ দিনে সাড়ে ৭ লাখের কমবেশি পর্যটকের সমাগম ঘটতে পারে। পর্যটক বাড়লে কিছু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ব্যাপারে তিনি বলেন, প্রতি হোটেলের কক্ষ ভাড়ার তালিকা টানানো থাকে। পর্যটকরা তালিকা দেখে কক্ষ ভাড়া পরিশোধের নির্দেশনা দেওয়া থাকে। অনলাইনেও অধিকাংশ হোটেলের কক্ষ ভাড়া অগ্রিম বুকিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
হোটেল সি-গালের ম্যানেজার এনায়েত উল্লাহ বলেন, ঈদুল ফিতরের পরপর দুদিন পুরো হোটেলের শতভাগ রুম বুকিং হয়েছে। এখন এরপরের তারিখগুলোর রুম বুকিং চলছে। আশা করি, ঈদের-পরবর্তী সপ্তাহখানেক পর্যন্ত কক্সবাজারে পর্যটকে ভরপুর থাকবে।
সুন্দরবন শুঁটকি দোকানের ব্যবসায়ী শরিফ বলেন, প্রচুর পরিমাণ লইট্টা, ছুরিসহ ১০ ধরনের শুঁটকি দোকানে তুলেছি। ঈদের ছুটিতে পর্যটকরা কক্সবাজার এলে এসব শুঁটকি বিক্রি করব, এজন্য শুঁটকিগুলো প্যাকেটজাত করছি।
কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, ঈদের ছুটিতে সাত থেকে আট লাখ পর্যটকের সমাগম ঘটবে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ এবং যানবাহনে যাতে অতিরিক্ত টাকা আদায় না করা হয়, সেদিকে দৃষ্টি রাখতে অনুরোধ জানাচ্ছি। তিনি বলেন, ঈদের ছুটিতে ভ্রমণে আসা পর্যটকদের নিয়ে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ১৩টি খাতে অন্তত সাড়ে ৭০০ কোটি টাকার ব্যবসা হতে পারে।
ঈদের ৬ দিনে ৬ লাখ পর্যটক আগমনের আশা : ঈদুল ফিতরের টানা ৯দিনের ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের বরণে নবরূপে সেজেছে সাগরকন্যা কুয়াকাটা। হোটেল, মোটেল, কটেজ, খাবার দোকান, বিপণিবিতানসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট ১৬টি পেশার সর্বত্রই চলছে শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জা।
সৈকতের ছাতা বেঞ্চি থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানগুলোয় দেওয়া হচ্ছে নতুন রূপ। ইতিমধ্যে বুকিং হয়ে গেছে অধিকাংশ হোটেলের কক্ষ। ঈদের টানা ছয় দিনের ছুটিতে প্রায় ছয় লাখ পর্যটকের সমাগম প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে চারস্তরে নিরাপত্তার উদ্যোগ নিয়েছে কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ।
ব্যবসায়ীরা জানান, বিগত বছরগুলোয় ঈদ-পরবর্তী টানা ১৫ দিন পর্যটকের ভিড়ে মুখরিত ছিল পর্যটন নগরী কুয়াকাটা। এবার আরও বেশিসংখ্যক পর্যটক আগমনের আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। ইতিমধ্যে আগাম বুকিং হয়েছে অধিকাংশ হোটেল-মোটেল। তাই পর্যটকদের বরণে নতুন করে সাজানো হচ্ছে সবকিছু। রংতুলির আঁচড় এবং ধুয়েমুছে পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে হোটেল-মোটেল। এবার ঈদে টানা ৯ দিনের সরকারি ছুটি থাকলেও ইদের দিন ৩১ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত ৬ দিনে ৬ লাখ পর্যটক আগমনের আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
প্রস্তুত চায়ের রাজধানী মৌলভীবাজার : চায়ের রাজধানীখ্যাত মৌলভীবাজারে ঈদের লম্বা ছুটিতে ভ্রমণপ্রিয় পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত জেলার পর্যটন স্পটগুলো। পর্যটকদের বরণ করে নিতে নানাভাবে সাজিয়ে তোলা হয়েছে জেলার দেড় শতাধিক হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট।
প্রকৃতির নিজ হাতে সাজানো-গোছানো অপরূপ সৌন্দর্যের মনোমুগ্ধকর এ জেলায় উঁচু-নিচু পাহাড়-টিলা আর সবুজ চা বাগানের বিশাল বিস্তৃতি। সেই সঙ্গে রয়েছে মাধবকু- ও হামহাম জলপ্রপাত, প্রাণ-প্রকৃতি আর জীববৈচিত্র্যের আধার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ অসংখ্য পর্যটন স্পট। টানা এক মাস সিয়াম সাধনার পর কর্মজীবনের ক্লান্তি ভুলতে প্রতি ঈদে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের সমাগম ঘটে এসব পর্যটনস্পট। বেড়ে যায় পর্যটনসংশ্লিষ্টদের ব্যস্ততা। নানাভাবে সাজিয়ে তোলার চেষ্টা চলে হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলো। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট প্রায় ৭০ শতাংশ বুকিং সম্পন্ন হয়েছে।
বিশেষ করে এ জেলায় প্রধান পর্যটনকেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, ধলই বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধ, রাজকান্দি বন খাসিয়াপল্লী, হাম হাম জলপ্রপাত, কলাবন, বড়লেখায় মাধবকু- জলপ্রপাত, হাকালুকি হাওর, রাজনগর উপজেলার কমলা রানীর দীঘি, কাউয়াদীঘি হাওর, কুলাউড়ায় চা বাগান ও গগনটিলা, শ্রীমঙ্গলে চা বাগান, খাসিয়াপুঞ্জি, মণিপুরী ও ত্রিপুরাদের গ্রাম, বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন, বাইক্কাবিল হাইল, বধ্যভূমি ৭১, নিমাই শিববাড়ী ও ফিনলে চা বাগানের ভেতরে ডিনস্টন সিমেট্রি।
জেলার বিভিন্ন উপজেলার একাধিক হোটেল, মোটেল ও কটেজ ঘুরে দেখা গেছে, প্রত্যেকেই সাজিয়ে-গুছিয়ে রেখেছেন তাদের প্রতিষ্ঠান। শুধু অপেক্ষা পর্যটকদের বরণ করে নিতে। তবে ঈদ লক্ষ্য রেখেই অনেকে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা নেওয়ায় বুকিং বেড়েছে। গেল বছরের চেয়ে এবারের ঈদে ভালো ব্যবসার আশাবাদী একাধিক ব্যবসায়ী।
কয়েকটি রিসোর্টের ম্যানেজার জানান, এখন পর্যন্ত অনলাইনে ৭০ শতাংশ বুকিং হয়ে গেছে। এবার পর্যটকদের ব্যাপক সাড়া মিলছে। এ ছাড়া রেস্টুরেন্টে মানসম্মত খাবার যাতে বজায় রাখা যায়, সেটি খেয়াল রাখা হচ্ছে।
শ্রীমঙ্গলে পর্যটকদের জন্য সবচেয়ে বেশি রিসোর্ট রয়েছে রাধানগর এলাকায়। রাধানগর পর্যটন কল্যাণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ও নিসর্গ নিরব ইকো কটেজের স্বত্বাধিকারী কাজী সামছুল হক জানান, ‘রমজান মাসে প্রায় পুরোটা সময়ই একেবারে ফাঁকা ছিল রিসোর্টগুলো। ঈদের টানা ছুটিতে এবার ভালো ব্যবসা হবে বলে আমরা আশাবাদী। তবে পর্যটকদের জন্য ঢাকা-সিলেট পথে একটি নতুন ট্রেন সংযোগ করা হলে পর্যটক আরও বাড়বে।’
কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক ও নুরজাহান চা বাগান ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকে। লাউয়াছড়ার ট্যুরিস্ট গাইড অজানা আহমেদ কামরান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে লাউয়াছড়া বনের পরিবেশ পর্যটকদের মুগ্ধ করবে। ঈদ কেন্দ্র করে প্রস্তুত আমরা।’
শ্রীমঙ্গলের পাঁচতারকা মানের হোটেল গ্র্যান্ড সুলতান টি-রিসোর্ট অ্যান্ড গলফের মহাব্যবস্থাপক আরমান খাঁন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের রিসোর্টে ঈদের জন্য বেশিরভাগ রুম আগাম বুকিং হয়েছে। ঈদে পর্যটকদের জন্য বরাবরের মতোই আমরা প্রস্তুত।’
কমলগঞ্জের টিলাগাঁও ইকো ভিলেজের ব্যবস্থাপক সোহেল আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পর্যটকরা প্রতিবছর ঈদের সময়টায় চায়ের রাজ্যে সপরিবারে ঘুরতে আসেন। ইতিমধ্যে আমাদের কটেজের সব রুম বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটকদের বরণ করতে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’
ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি (ঢাকা-সিলেট) এম সাখাওয়াত হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, এবারের লম্বা ছুটিতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নির্বিঘœ রাখতে তিনস্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পর্যটকরা যাতে নিরাপদে ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে পারেন, সেজন্য ঈদের আগে-পরে পর্যটন স্থানগুলোয় ট্যুরিস্ট পুলিশের টহল থাকবে।
স্বাগত জানাতে প্রস্তুত সোনারগাঁয়ের সব স্পট : ঈদুল ফিতরের ছুটিতে বেড়াতে যাওয়া পর্যটকদের জন্য সোনারগাঁয়ের সরকারি-বেসরকারি সব পর্যটন স্পট ইতিমধ্যে তাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। রমজান মাসে পর্যটকদের তেমন আনাগোনা না থাকায় ছোটখাটো সংস্কার ও প্রয়োজনীয় রঙ করাসহ বিভিন্ন ধরনের সাজসজ্জার কাজ শেষ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
রাজধানী ঢাকার খুব কাছাকাছি হওয়ায় প্রতিবছর ঐতিহাসিক সোনারগাঁয়ে ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের ঢল নামে। বিশেষ করে সোনারগাঁয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন (সোনারগাঁ জাদুঘর), ঐতিহাসিক পানাম নগরী ও বাংলার তাজমহলে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর আগমন ঘটে থাকে। রাজধানী ঢাকা ছাড়াও আশপাশের বেশ কয়েকটি জেলা থেকেও এখানে বেড়াতে আসেন দর্শনার্থীরা।
আগত দর্শনার্থীদের বাড়তি চাপ সামলাতে ও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য সোনারগাঁ থানা-পুলিশের পাশাপাশি মাঠে থাকবে ট্যুরিস্ট পুলিশের টিম। এ ছাড়া এসব দর্শনীয় স্থানের সড়কগুলো যানজটমুক্ত রাখতে উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
ঈদ উপলক্ষে ঈদের দিন দুপুর ২টা থেকেই দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে সোনারগাঁ জাদুঘর। এখানে জনপ্রতি প্রবেশ ফি ৫০ টাকা।
এদিকে জাদুঘরের উত্তরদিকে অবস্থিত ঐতিহাসিক পানাম নগরীতেও ঈদের ছুটিতে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর আগমন ঘটবে বলে জানিয়েছেন পানাম নগরীর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিয়াম চৌধুরী।
বিশে^র ধ্বংস প্রায় ১০টি নগরীর মধ্যে এই পানাম নগরী একটি। তাই এ নগরী দেখার জন্য ঈদের ছুটিতে দেশি-বিদেশি অসংখ্য পর্যটকের আগমন ঘটে।
পানাম নগরীতে ছোট-বড় ৫২টি প্রাচীন ভবন রয়েছে, যেগুলো পর্যটকদের নজর কাড়ে। এখানে জনপ্রতি প্রবেশ ফি ২০ টাকা। পানাম নগরীর বাইরে রয়েছে অসংখ্য কারুপণ্যের দোকান। পছন্দ অনুযায়ী এখান থেকে দর্শনার্থীরা কারুপণ্য কিনতে পারবেন।
সোনারগাঁয়ের বেসরকারি পর্যটন স্পট হিসেবে জনপ্রিয় বাংলার তাজমহল ও পিরামিড। উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের পেরাব গ্রামে তাজমহল ও পিরামিডের অবস্থান।
এখানে প্রতি ঈদের ছুটিতেই বিপুল লোকসমাগম হয়ে থাকে। তাজমহল ও পিরামিড এ দুটি স্পট একটি টিকিট কেটেই দেখা যায়। টিকিটের মূল্য জনপ্রতি ১৫০ টাকা।
এসব দর্শনীয় স্থান ছাড়াও জাদুঘরের পাশের রয়েছে বিশাল আকৃতির খাস নগরের দীঘি। সোনারগাঁয়ের মোগরাপাড়া শাহচিল্লাপুর গ্রামে রয়েছে বাংলার স্বাধীন সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের সমাধি। পাশেই আছে পাঁচপীরের দরগাহ। মোগরাপাড়া হাইস্কুলের পাশে রয়েছে উপমহাদেশের প্রথম ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা শরফূদ্দিন আবু তাওয়ামা ও এ প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ সৈয়দ ইব্রাহিম দানেশ মান্দের সমাধি ও প্রাচীন মসজিদ।
সোনারগাঁয়ে যারা বেড়াতে আসবেন, তারা ঈদের ছুটিতে ঘুরে যেতে পারেন অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা মেঘনা নদী পরিবেষ্টিত নুনেরটেক (মায়াদ্বীপ) থেকে।
বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের রেজিস্ট্রেশন কর্মকর্তা এ কে এম মোজাম্মিল হক বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে প্রতিবছরই সোনারগাঁ জাদুঘরে বিপুল দর্শনার্থীর আগমন ঘটে। আমরা দর্শনার্থীদের বাড়তি চাপ সামলাতে ইতিমধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। তা ছাড়া এ বছর সোনারগাঁ জাদুঘরের ৫০ বছরপূর্তি হয়েছে। এ উপলক্ষে ঈদের পর ১ বৈশাখের সঙ্গে মহাযজ্ঞে মেলা ও আনন্দ উৎসব করা হবে।’
