সম্প্রতি চীন সফরে গিয়ে ভারতের ‘সেভেন সিস্টার্স’ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আসছে ভারত। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সেই বক্তব্যের ছয় দিন পর এক রকম প্রতিবাদ জানালেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি দাবি করেছেন, বঙ্গোপসাগরের দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের। গতকাল বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। এতে বলা হয়েছে. বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ‘স্থলবেষ্টিত’ বলে বর্ণনা করার এবং বাংলাদেশকে এই অঞ্চলের ‘সমুদ্র প্রবেশাধিকারের অভিভাবক’ হিসেবে উল্লেখ করার কয়েক দিন পর বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
এক বিবৃতিতে জয়শঙ্কর বলেন, বঙ্গোপসাগরে আমাদের দীর্ঘতম উপকূলরেখা রয়েছে, যা প্রায় ৬ হাজার ৫০০ কিলোমিটার। ভারত কেবল পাঁচটি বিমসটেক সদস্যের সঙ্গেই সীমান্ত ভাগ করে না, তাদের বেশিরভাগকে সংযুক্তও করে এবং ভারতীয় উপমহাদেশ ও আসিয়ানের মধ্যে সংযোগের একটি বড় অংশও প্রদান করে।
জয়শঙ্করের দাবি, বিশেষ করে ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চল বিমসটেকের জন্য একটি ‘সংযোগ কেন্দ্র হিসেবে’ আবির্ভূত হচ্ছে। যেখানে সড়ক, রেলপথ, পানিপথ, গ্রিড এবং পাইপলাইনের অসংখ্য নেটওয়ার্ক রয়েছে।
ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা সচেতন যে এই বৃহত্তর ভৌগোলিক ক্ষেত্রে পণ্য, পরিষেবা এবং মানুষের সুষ্ঠু প্রবাহের জন্য আমাদের সহযোগিতা এবং সুবিধা প্রদান একটি অপরিহার্য পূর্বশর্ত। এই ভূ-কৌশলগত বিষয়কে মাথায় রেখে, আমরা গত দশকে বিমসটেক’কে শক্তিশালী করার জন্য ক্রমবর্ধমান শক্তি এবং মনোযোগ নিবেদিত করেছি। আমরা আরও বিশ্বাস করি যে সহযোগিতা একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি, ‘চেরি-পিকিং’ (পক্ষপাতদুষ্ট) বিষয় নয়।
চার দিনের চীন সফরে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ‘সেভেন সিস্টার্স’ খ্যাত সাতটি রাজ্যের ব্যবসায়িক সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন।
স্থলবেষ্টিত এই রাজ্যগুলোর সমুদ্রে পৌঁছানোর জন্য যোগাযোগের কোনো উপায় নেই জানিয়ে তিনি বলেন, এই অঞ্চলের জন্য সমুদ্রের একমাত্র অভিভাবক বাংলাদেশ। আর বিষয়টি বিশাল এক সম্ভাবনা উন্মোচন করে। এটি চীনা অর্থনীতির একটি সম্প্রসারণও হতে পারে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এই মন্তব্য নিয়ে ভারতের রাজনীতিক, সাবেক আমলা ও নীতি নির্ধারকদের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়।
