তরমুজ চুরিতে বাধা, কৃষককে পিটিয়ে হত্যা

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৬:১৯ পিএম

বাকেরগঞ্জে তরমুজ চুরিতে বাধা দেওয়ায় কুদ্দুস হাওলাদার (৪৫) নামে এক কৃষককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) ভোররাতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান। এর আগে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে বাকেরগঞ্জ উপজেলার রানীরহাটের দিয়ারচর এলাকায় এ হামলা হয়।

নিহত কুদ্দুস হাওলাদার ওই এলাকার আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং চলতি মৌসুমে বর্গাচাষ নিয়ে তরমুজ চাষ করেন।  

কুদ্দুসের মামাতো ভাই, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মো. মজিবুর রহমান জানান, সম্প্রতি পার্শ্ববর্তী চরাদি এলাকার কয়েকজন বখাটে কুদ্দুসের ক্ষেত থেকে তরমুজ চুরি করছিল। একাধিকবার বাধা দেওয়া সত্ত্বেও তারা চুরি অব্যাহত রাখে এবং চাঁদা দাবি করে। বৃহস্পতিবার দুপুরে কুদ্দুস হাওলাদার তাদের বাধা দিলে মিরাজ, আনোয়ার, হাসনাইন, সরোয়ার সানি, মতিউর রহমান, ফয়সালসহ ১০-১৫ জন যুবক তাকে ঘিরে ধরে। একপর্যায়ে তারা ক্ষেতের পাশে থাকা রেইনট্রি গাছের মোটা লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে।  

স্থানীয়রা জানায়, হামলাকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং মাদকাসক্ত। তারা প্রায়ই এলাকায় চাঁদাবাজি, চুরি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করত।  

চরামদ্দি ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই এনামুল হক জানান, গুরুতর আহত কুদ্দুসকে প্রথমে স্থানীয়রা উদ্ধার করে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আসে। তবে তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে দ্রুত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে রাতে তিনি মারা যান।  

তিনি বলেন, এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি, তবে আমরা তদন্ত শুরু করেছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং এরই মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করা হয়েছে। 

নিহতের মেয়ে সাদিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার বাবা নিরীহ কৃষক ছিলেন। চুরির প্রতিবাদ করায় তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হলো। আমি বাবার হত্যার সঠিক বিচার চাই।

শুক্রবার সকালে হাসপাতালের মর্গে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার আবুল কালাম। পুলিশ বলেছে, এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত