রাজধানীর মিরপুর কালশি নতুন রাস্তা ফ্লাইওভারে প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে দুই তরুণ নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন রিয়াদ (১৬) ও তোফাজ্জল (১৭)।
আজ শনিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে এসে স্বজনরা তাদের মরদেহ সনাক্ত করেন।
নিহত তোফাজ্জলের বড় ভাই মো. নাঈম জানান, তাদের বাড়ি কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার মাওরা গ্রামে। তার বাবা রেনু মিয়া মানিকদি বাজারে কাঁচামালের ব্যবসা করেন। বর্তমানে তারা মানিকদি বাজারের একটি বাসায় ভাড়া থাকেন। তোফাজ্জল ইসিবি চত্বরে ইএলএফ স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল এবং পাশাপাশি বাবার দোকানে কাজ করত।
নাঈম আরও বলেন, তোফাজ্জলের বন্ধু রিয়াদের বাড়ি চাঁদপুর জেলার একটি গ্রামে। মোবাইলে ফ্রি ফায়ার গেম খেলতে খেলতে রিয়াদের সাথে তার পরিচয় হয় এবং বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। গত বৃহস্পতিবার রিয়াদ তার বাড়িতে বেড়াতে আসে। শুক্রবার সন্ধ্যায় তারা ঢাকার রাস্তায় ঘুরতে বের হয় এবং তোফাজ্জল নিজেই মোটরসাইকেল চালাচ্ছিল। দুর্ঘটনার পর জানা যায়, কালশি ফ্লাইওভারের ওপর একটি প্রাইভেটকারের ধাক্কায় তারা নিহত হন।
এদিকে, রিয়াদের মামাতো ভাই মো. রাসেল জানান, রিয়াদের বাড়ি চাঁদপুর সদর উপজেলার হামান কুদ্দি গ্রামে। রিয়াদের বাবা বিল্লাল কাজী দুবাই প্রবাসী। রিয়াদ স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় হেফজ বিভাগে পড়াশোনা করছিল। গত বৃহস্পতিবার সে তার বন্ধুর বাসায় ঢাকায় বেড়াতে এসেছিল। আজ সকালে তার মৃত্যুর খবর শুনে রাসেল ঢাকা মেডিকেল কলেজে এসে রিয়াদের মরদেহ দেখতে পান।
এদিকে, শুক্রবার রাত পৌনে ১০টার দিকে মিরপুর-১২ কালশি নতুন রাস্তা ফ্লাইওভারে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। মুমূর্ষু অবস্থায় পথচারীরা দুজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসলে, চিকিৎসকরা রাত ১১টার দিকে তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আতিকুর রহমান জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। স্বজনরা শনিবার ভোরে ও সকালে মরদেহ সনাক্ত করেন এবং তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। এসআই আতিকুর রহমান জানান, তোফাজ্জল ফ্লাইওভারের উপরে মারা যান এবং রিয়াদ নিচে পড়ে মারা যান।
‘বাংলাদেশের মত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কোথাও নেই’
রসাটমের পরিকল্পনায় নর্থ সী-রুট উন্নয়ন