সাভারে এক কলেজছাত্রকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে কৌশলে ডেকে নিয়ে অপহরণ ও মারধর করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে দুই জনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে সাভার পৌর এলাকার মুক্তির মোড় তারাপুর মহল্লায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
এর আগে গত সোমবার (৩১ মার্চ) ঈদের দিন সন্ধ্যায় সাভার পৌরসভার মুক্তির মোড় তারাপুর মহল্লার প্রবাসী সিদ্দিকুর রহমানের বাড়িতে ভুক্তভোগী কলেজছাত্রকে কৌশলে ডেকে নিয়ে আটকে রেখে মারধর করে মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা।
আটককৃতরা হচ্ছেন সাভার পৌরসভার আনন্দপুর মহল্লার আব্দুস সামাদের ছেলে সাজেদুল ইসলাম সাদ (২৫) ও চট্টগ্রাম জেলার মানিকছড়ি গ্রামের সৈয়দ মোহাম্মদ ইসমাইলের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস ওরফে মায়া (২০)। তারা দুজনে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ৭ তলায় একটি ফ্লাট ভাড়া নিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিভিন্ন বয়সী লোককে জিম্মি করে মুক্তিপণ বাণিজ্য করছিলেন। এ ছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত জিহাদ ও সৌরভ নামে তাদের অপর দুই সহযোগী পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
থানা পুলিশ ও ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে কৌশলে মনোয়ার হোসেন পলাশ (২০) নামে এক কলেজছাত্রকে আশুলিয়া থেকে সাভারে ডেকে এনে একটি ফ্ল্যাটে আটকে রাখেন। সেখানে তার হাত-পা বেঁধে মারধর ও উলঙ্গ করে নগ্ন ভিডিও ধারণের পর মুক্তিপণ ও চাঁদা দাবি করে অপহরণকারীরা।
ভুক্তভোগী কলেজছাত্র জানান, তিনি ঢাকা জেলার আশুলিয়ার ভাদাইল দক্ষিণপাড়া এলাকার প্রবাসী মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে এবং আশুলিয়ার সৃষ্টি সেন্ট্রাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী। কয়েকদিন আগে জান্নাতুল ফেরদৌস মায়ার সঙ্গে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক মেসেঞ্জারে কথাবার্তা ও ছবি আদান-প্রদানের মাধ্যমে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ঈদের দিন বিকেলে জান্নাতুল দেখা করার জন্য তাকে সাভারের মুক্তির মোড়ে আসতে বলেন। তার কথা মতো সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সাভার মুক্তির মোড়ে এলে জান্নাতুল ও সাজেদুল ইসলাম সাদসহ ৩-৪ জন মিলে তাকে অপহরণ করে পাশের একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গামছা দিয়ে হাত-পা এবং ওড়না দিয়ে চোখ বেঁধে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে নগদ ৫ হাজার ৬০০ টাকাসহ পরিবারের কাছে বিকাশের মাধ্যমে ২৬ হাজার টাকা আদায় করেন অপহরণকারীরা। অবশিষ্ট টাকা দেওয়ার শর্তে নগ্ন ভিডিও ধারণ করে ঐদিন রাতেই ১ লাখ টাকা মূল্যের স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ২০-৫জি মোবাইল ফোন হাতিয়ে নিয়ে কলেজছাত্রকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাকিজা এলাকায় ফেলে রেখে যায় চক্রটি। পরে স্থানীয়রা অসুস্থ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরবর্তীতে মোবাইলে ধারন করা নগ্ন ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মুঠোফোনে কল করে অবশিষ্ট টাকা দাবি করে আসছিল অভিযুক্তরা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কলেজছাত্র মনোয়ার হোসেন পলাশের মা পারুল আক্তার বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় এক নারীসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে শনিবার রাতে মুক্তির মোড় এলাকায় প্রবাসী সিদ্দিকুর রহমানের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এক নারীসহ চক্রের মূল হোতাকে আটক করেছে পুলিশ।
ভাড়া বাড়ির কেয়ারটেকার মো. ইমন বলেন, আটককৃতরা স্বামী ও স্ত্রী পরিচয়ে ৭ তলা ভবনের একটি ফ্লাট ভাড়া নিয়েছিলেন। তাদের অগোচরেই দীর্ঘদিন যাবত এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল এই চক্রটি।
সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আশিক ইকবাল জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে এক নারীসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
