প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপির বৈঠক ১৬ এপ্রিল

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:৩১ এএম

১৬ এপ্রিল বিএনপিকে সময় দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়েছিল বিএনপি। ওইদিন দুপুর ১২টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ সাক্ষাৎ হতে পারে। প্রধান উপদেষ্টার সময় দেওয়ার বিষয়টি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ১৬ এপ্রিল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল দেখা করতে যাবে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে গতকাল বুধবার দুপুরের দিকে ১৬ এপ্রিল বিএনপিকে সময় দেওয়ার কথা জানানো হয়।

এর আগে গতকাল গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণার বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রধান উপদেষ্টার কাছে বিএনপি সময় চেয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তারা জুনের মধ্যে সব প্রস্তুতি সমাপ্ত করতে পারবে এবং প্রধান উপদেষ্টা ইতোপূর্বে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানে সব কর্মকা- পরিচালনা করছেন। যেহেতু বিভিন্ন বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে সেটা পরিষ্কার করার জন্য আমরা উনার কাছে আহ্বান জানাব।’

বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন খবর প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি পরিষ্কার করে তিনি বলেন, ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের স্প্রেডশিটের ৫, ৬ ও ৭ এ সংবিধানের মূলনীতি এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে উনারা যেটা বলেছেন, সংবিধানের মূলনীতিতে বহুত্ববাদের কথা বলেছেন, সাম্য-মানবিক মর্যাদার কথা বলেছেন। বহুত্ববাদসহ অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে আমরা (বিএনপি) একমত নই। এ ব্যাপারে আমাদের মন্তব্যও কমিশনকে দিয়েছি। রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিগুলো সংবিধানের ৮, ৯, ১০ ও ১২ অনুচ্ছেদগুলোতে বিধৃত আছে। সেই অনুচ্ছেদগুলোর বিষয়ে সংস্কার কমিশনে যে সুপারিশ করা হয়েছে, তারা একই বিষয়গুলো রিপ্লেস করতে চেয়েছেন। যেমন একটা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, ধর্ম নিরপেক্ষতা ইত্যাদি বিলুপ্ত করা হোক। বিভ্রান্তিটা ওই জায়গায়। আমরা সেখানে কী কী চাই সেটা জানিয়ে দিয়েছি।’

ব্যাখ্যা দিয়ে সালাহউদ্দিন বলেন, “আমরা চেয়েছি, পঞ্চম সংশোধনীতে যেটা গৃহীত হয়েছে যেটা পঞ্চদশ সংশোধনীর পূর্বাবস্থা, সেটা বহাল করা হোক। আমরা বলেছি, আপনাদের (সংস্কার কমিশনের) প্রতিস্থাপন বহুত্ববাদসহ অন্যান্য বিষয় একসঙ্গে আসতে হবে। তখন আমরা কেন একমত নই এবং কেন বিকল্প প্রস্তাব হিসেবে আগে যেসব সংস্কার প্রস্তাব সংস্কার কমিশনের কাছে দিয়েছি, সেটা তুলে ধরতে পারব। অর্থাৎ রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে ‘মহান আল্লাহর ওপর আস্থা-বিশ্বাস, জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র অর্থাৎ সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার’ এ বিষয়গুলো রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে গণ্য হবে। যেটা পঞ্চম সংশোধনীতে গৃহীত হয়েছিল বাকশালের বিলুপ্তির পর। আশা করি এ নিয়ে আর কোনো বিভ্রান্তি থাকবে না।”

রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনা প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সংবিধানের মূলনীতি, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বিষয়ে কথা বলছি। কিন্তু অন্যান্য বিষয়ে আমরা যেসব প্রস্তাবনা দিয়েছি তা কি ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে সংবিধানে ব্যাপক সংশোধনী আনিনি আমরা? আমরা উপরাষ্ট্রপতি, উপপ্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব করেছি, উভয় কক্ষে ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে নিয়ে আসার প্রস্তাব করেছি, আমরা দুই কক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্টের প্রস্তাব করেছি। আমরা রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনয়নের প্রস্তাব করেছি, নতুন করে কিছু ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়ার প্রস্তাব করেছি, আমরা সংসদে সংরক্ষিত ৫০ মহিলা আসন ১০০-তে উন্নীত করার প্রস্তাব করেছি। এসব অনেক প্রস্তাব করেছি যেটা রাষ্ট্রের তিন অঙ্গের মধ্যে একটা ভারসাম্যমূলক অবস্থা প্রতিষ্ঠিত করবে।’ এ সময়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিহউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এ সাক্ষাতে তারা আগামী জাতীয় নির্বাচনের পথনকশা ঘোষণা, চলমান সংস্কার প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলবেন। বিশেষ করে, নির্বাচন কবে হবে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত হতে চাইবেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সরকারের প্রকৃত মনোভাব যে কী, তা এখনো বুঝে উঠতে পারছে না বিএনপি। যতই দিন যাচ্ছে, নির্বাচন নিয়ে অস্পষ্টতা বাড়ছে বলে মনে করছে দলটি। এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে জানতেই বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে সময় চেয়েছিল।

বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত সোমবার বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্ষদ জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় দলের পক্ষ থেকে শিগগিরই প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের সিদ্ধান্ত হয়। যদিও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই মুহূর্তে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর রয়েছেন। ১৬ এপ্রিল তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। গত রবিবার তিনি সিঙ্গাপুর যান।

বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা এর আগে বিভিন্ন সময়ে দলীয় ও জাতীয় বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তবে এবার দলের পক্ষ থেকে সাক্ষাতের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেটি একটু ভিন্ন। বিএনপি যে এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন চায়, সেটা প্রধান উপদেষ্টাকে সরাসরি বলবে। কার্যত নির্বাচন নিয়ে সরকারের মনোভাব কী, তা স্পষ্ট হওয়ার চেষ্টা থাকবে। বিশেষ করে কবে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে জানা-বোঝার চেষ্টা করবেন বিএনপির নেতারা।

গত সোমবার রাতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক সূত্রগুলো বলছে, সরকারের উচিত নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্কারগুলো দ্রুত সম্পন্ন করা এবং চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। বিএনপি মনে করে, নির্বাচনকেন্দ্রিক যত সংস্কার রয়েছে, সেগুলো সরকার একটা অধ্যাদেশের মাধ্যমে করতে পারে। আর বাকি সংস্কারগুলো একটা রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে পরবর্তী নির্বাচিত সংসদ করবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত