মাগুরায় আট বছরের শিশু ধর্ষণ-হত্যা মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। এতে শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখসহ চারজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
রবিবার রাত ১০টার পর মাগুরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলাউদ্দিন।
থানার ওসি আইয়ুব আলী বলেন, হিটুর মা রোকেয়া বেগমকে তথ্য গোপন, শিশুটির বোনজামাই সজিব শেখ ও তার ভাই রাতুল শেখের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি প্রদর্শন অভিযোগ আনা হয়েছে।
জানা গেছে, অভিযোগপত্রে শিশুটির বোনের শ্বশুরকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯/২ ধারায় ধর্ষণের ফলে মৃত্যুর অপরাধে অভিযুক্ত করা হয়েছে। শিশুটির বোনের স্বামী ও ভাশুরকে ভয়ভীতি প্রদর্শন (দণ্ডবিধির ৫০৬ ধারা) এবং বোনের শাশুড়ির বিরুদ্ধে অপরাধের আলামত নষ্টের (দণ্ডবিধির ২০১ ধারা) অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে ধর্ষণের ঘটনাটি সকালে ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আইন অনুযায়ী তদন্ত শেষে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে পুলিশি প্রতিবেদন দাখিলের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে অনুযায়ী ২৪ এপ্রিল প্রতিবেদন দাখিলের শেষ দিন। ইতোমধ্যে ফরেনসিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত শেষে মামলার আজ চার আসামির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র দেওয়া হল।’
উল্লেখ্য, গত ১ মার্চ মাগুরা শ্রীপুর উপজেলার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বড় বোনের বাড়ি বেড়াতে আসে ৮ বছরের শিশুটি। সেখানে গত ৬ মার্চ সে ধর্ষণের শিকার হয়। প্রথমে তাকে মাগুরা ২৫০ শয্যার হাসপাতাল, পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পাঠানো হয়।
সবশেষ চিকিৎসারত অবস্থায় গত ১৩ মার্চ ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) শিশুটি মারা যায়।
এ ঘটনায় শিশুটির মা মাগুরা সদর থানায় মেয়ের শ্বশুর হিটু শেখ, জামাই সজীব শেখ, তার ভাই রাতুল শেখ ও তাদের মা রোকেয়া বেগমের নামে মামলা করেন। পুলিশ চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
