উৎসব আনন্দে বাংলা নতুন বছর বরণ করা হলো রাজশাহীতে। বৈশাখের প্রথম সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে আনন্দ, উৎসব আর ঐতিহ্যের এক অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। সোমবার (১৪ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় বর্ষবরণের উদ্বোধন শেষে আনন্দ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু করে , বিভিন্ন বিভাগ এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনসমূহ বৈশাখকে স্বাগত জানাতে আয়োজন করেছে নানা ভিন্নধর্মী অনুষ্ঠান । চারুকলার ছাত্রছাত্রীদের আঁকা আলপনা, মুখোশ, ও বিশাল আনন্দ শোভাযাত্রা যেন প্রাণ ছুঁয়ে যায় হাজারো শিক্ষার্থীর মনে।
চারুকলা অনুষদ আয়োজন করেছে ঐতিহ্যবাহী আনন্দ শোভাযাত্রা—যেখানে ছিল বাঙালির লোকজ মুখোশ, পেঁচা, হাতি, সূর্যসহ নানা প্রতীক। এছাড়া জুলাই অভ্যুত্থান এবং ফিলিস্তিনি জনগণের উপর বর্বরোচিত হামলার প্রতীকী চিত্র তুলে ধরা হয়। "এসো হে বৈশাখ" গানের সঙ্গে র্যালির সূচনা হয়, এরপর চারুকলা প্রাঙ্গণে চলে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও লোকসংগীত।
এদিকে শুধুমাত্র চারুকলা নয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও সংগঠনে থাকছে বৈশাখী উৎসবের ছোঁয়া। নাট্যকলা, লোক প্রশাসন , ইতিহাস,গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউট ,বাংলা,আইন, ফোকলোরসহ একাধিক বিভাগ আয়োজন করেছে বৈশাখী আড্ডা, দেয়ালিকা প্রদর্শনী, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটক, গান, আবৃত্তি, লোকনৃত্য ও বৈশাখী ফ্যাশন শো।
উদ্বোধনকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব বলেন, নববর্ষ সবাইকে কাছাকাছি আনার মাধ্যমে ঐক্য ও সহমর্মিতা সৃষ্টি করা। বাঙালির নববর্ষ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উৎসব। এ উৎসব জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে। আবার বিচ্ছেদও করে। আমরা বাংলাদেশি, আমরা বাঙালি, আমাদের প্রাণ প্রকৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য, এগুলোর কথা বিবেচনা করলে পহেলা বৈশাখ আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। অতীতে আমরা দেখেছি উৎসবকে কেন্দ্র করে একটি নিদিষ্ট দলের চিন্তা ভাবনা মানুষের উপর চাপিয়ে দিত। যা অত্যন্ত ন্যক্যারজনক প্রবণতা। আমরা এ উৎসবকে সকল বাংলাদেশী বাঙালি, পাহাড়ি সকল নাগরিকের জন্য ঐক্যের প্ল্যাটফর্ম বানাতে চাই।
আ. লীগের মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়, দাফন দিল্লিতে: সালাহউদ্দিন
জাতীয় দলের কারও সঙ্গে দ্বন্দ্ব নেই: ফাহমেদুল