শেরপুর জেলায় চালু হয়েছে অদ্ভুদ এক নিয়ম। কোন সংঘর্ষ, হত্যাকান্ডের ঘঁটনা ঘটলেই আসামি ও স্বজনদের বাড়িতে হামলা ও লুটপাট চালায় গ্রামের তৃতীয় একটি পক্ষ। যে যার মত প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে যায় নিজের বাড়ি। লুটপাটে বাদা দিতে গেলেই হামলার স্বীকার হতে হয়। এর থেকে পরিত্রান চায় গ্রামবাসী। পুলিশ সুপার জানান, লুটপাটকারীদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
জানা যায়, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত খুন-৩৫, ধর্ষণ- ৫২, অপহরন-২৭টির মত ঘঁটনা ঘটেছে। প্রত্যেক সংঘর্ষ ও হত্যাকান্ডের পর আসামিসহ শত শত সাধারন মানুষের বাড়ি ঘরে হামলা ভাংচুর লুটপাট চালায় উশৃংখল একদল গ্রামবাসী।
সরেজমিন দেখা যায়, জেলার সদর উপজেলার চরমোচারিয়া ইউনিয়নের হরিনধারা গ্রামে একটি স্কুলের ম্যানেজিং কমিটিকে কেন্দ্র করে গত ২২ ফেব্রুয়ারি দুপক্ষের সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের বল্লমের আঘাতে একজন নিহত হয়। তারপর থেকেই হরিনধরা পশ্চিমপাড়া গ্রামে শুরু হয় উশৃংখল গ্রামবাসীর লুটপাট। যে যার মত মাথায় এবং ভ্যানে করে নিয়ে যাচ্ছে মালামাল। দেখে মনে হতে পারে স্থানান্তর করা হচ্ছে ঘরের মালামাল। কিন্তু আসলে তা নয়। দিনের আলোয় প্রকাশ্যে লুটপাট হচ্ছে বাড়িঘর গুলোতে। গত দেড় মাসে এই গ্রামের প্রায় শতাধিক এর উপরে বাড়িঘরে লুুটপাট চালিয়েছে। গ্রামগুলো ঘুরে দেখা যায় বাড়িগুলোর প্রত্যেকটি ঘর ভেঙ্গে আসবাবপত্র, হাড়ি পাতিল, কাথা, বালিশ, ল্যাপ তোশক, টিনের চাল, বেড়া, বিদ্যুতের তার মিটার এমনকি দেয়ালের ইট পর্যন্ত খুলে নিয়ে গেছে। আতংকে এলাকা ছাড়া ওই গ্রামের মানুষ।
ভুক্তভোগী পরিবাররা জানায়, আমাদের গৃহপলিত ৭০ গরু, ১৮০ ছাগল, কয়েকশত হাস মুরগি, সেচ পাম্প-৮০টি, পানির টেংকি-১৫টি, ঘরের ধান চাল ভুশিসহ প্রায় কয়েক কোটি টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে উশৃংখল গ্রামবাসী। লুট পাটে বাধা দিতে গেলেই হামলা চালায় তারা। এই ধরনের লুটপাট থেকে পরিত্রান চেয়ে হরিনধরা গ্রামের কয়েক শতাধিক মানুষ মানববন্ধন করেছে।
হরিনধারা পশ্চিমপাড়া গ্রামের হাতেম আলী বলেন, আমাদের গ্রামে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির দ্বন্দে একজন খুন হয়। তারপর থেকে এলাকার
উশৃংখল কিছু মানুষ ব্যাপক ভাবে লুটপাট চালাচ্ছে। আমার বাড়ির পাচটি ঘর ছিলো সব গুলো ঘরই ভেঙ্গে যা ছিলো সব কিছু নিয়ে গেছে।ঘরের ইট পর্যন্ত খুলে নিয়ে গেছে। বাজারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লুট করেছে। যারা মামলার আসামি না ঢাকায় থাকে তাদের ঘর বাড়িও লুট
করেছে। আমাদের এখন থাকার জায়গা নেই।
আরেক বাসিন্দা সুফিয়া বেগম বলেন, আমাদের পাড়ার প্রায় দুইশ ঘর ভেঙে যা ছিলো সব নিয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ নেতা ছামেদুল এর নেতৃত্তে তারা সেচ পাম্প, গরু ছাগল, হাস মুরগি, ধান মারাই মেশিন বিদ্যুতের তার, মিটারসহ সব নিয়ে গেছে। খুনের বিচার আদালতে হবে।
কিন্ত লুটপাটের বিচারও প্রশাসনের করতে হবে। আমরা এর থেকে মুক্তি চাই।
শেরপুর মডেল গার্লস কলেজের প্রভাষক মাসুদ হাসান বাদল বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে আমাদের চিন্তিত করেছে। আইনের প্রতি
মানুষের ভয়বীতি কমেছে এবং আইন শৃংখলা বাহিনী মাঠে তৎপর না থাকায় শেরপুরে আইন শৃংখলা বেশ অবনতি হয়েছে। রাষ্টের সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন এখন ল এন্ড ওয়ার্ডার ফিরিয়ে নিয়ে আসা।
শেরপুর জজ কোর্টের পিপি এ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান দেশ রুপান্তরকে বলেন, মানুষ খুন হলে বিচার করবে আইন শৃংখলা বাহিনী এবং আদালত। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি শেরপুরে মার্ডার হলেই আসামি এবং তাদের আত্নীয়দের ঘর বাড়ি লুট হয়ে যাচ্ছে। যারা মার্ডার করছে
এবং যারা লুটপাট করছে তারা দু্ই গ্রুপই অপরাধী।
শেরপুর জেলা পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম বলেন, আমি শেরপুরে একটি বিষয়টি লক্ষ করলাম খুন হওয়ার পর আসামিরা বাড়িতে অনুপস্থিত থাকার সুযোগে একটি পক্ষ তাদের বাড়ি ঘর লুটপাট করে নিয়ে যায়। দেখুন আইন আসলে সবার জন্যই সমান। শেরপুরে যে কয়টি লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে আমরা তাদের অভিযোগও নিয়েছি এবং তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। যারা এখনো লুটপাটের অভিযোগ দেয়নি তারা অভিযোগ দিলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
বিয়ের প্রলোভনে ফেনীতে এনে থাইল্যান্ডের নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১
ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজের সং/ঘর্ষ, সতর্ক পুলিশ