সকালে ছিল রৌদ্রজ্জ্বল আকাশ, টসও হয়েছিল তেমনই পরিষ্কার পরিবেশে। তবে সিলেটের আবহাওয়া যে কতটা রূপ বদলায়, তা আবারও প্রমাণ হলো। ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই মেঘে ঢেকে যায় চারদিক। আলো কমে গেলে জ্বলে ওঠে ফ্লাডলাইট, মাঠে নামে চাপা উত্তেজনা—বৃষ্টি নামবে নামবে এমন এক আমেজ।
এর মধ্যেই প্রথম সেশন পেরিয়েছে রোমাঞ্চ আর রোমাঞ্চে। ওপেনারদের হারিয়ে বিপদে পড়া বাংলাদেশ এখন টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে মুমিনুল হক ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটে ভর করে।
তবে শুরুটা সহজ ছিল না। মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদমান ইসলামের বিদায়ের পর বাংলাদেশের ইনিংসে নেমে আসে অনিশ্চয়তার ছায়া। এর মাঝেই শূন্য রানে জীবন পান মুমিনুল। ব্লেসিং মুজারাবানির বাড়তি লাফানো এক ডেলিভারি তাঁর গ্লাভস ছুঁয়ে যায়। কিন্তু উইকেটরক্ষক নিয়াশা মায়াভো সময়মতো প্রতিক্রিয়া দেখাতে না পারায় ব্যর্থ হন ক্যাচ নিতে। শুরুতেই মুমিনুলকে ফিরিয়ে দিতে না পারায় মাথায় হাত জিম্বাবুয়ে শিবিরে।
এর কিছুক্ষণ পরই আরও একবার হতাশ হতে হয় সফরকারীদের। এইবার এলবিডব্লিউর আবেদন শান্তকে ঘিরে। রিচার্ড এনগারাভার বল ব্যাটে না লাগায় জোরালো আবেদন ওঠে। আম্পায়ার না করায় রিভিউ নেন অধিনায়ক ক্রেইগ আরভাইন। কিন্তু রিপ্লেতে দেখা যায়, বল স্টাম্পের অনেক ওপরে চলে যেত। শান্ত বেঁচে যান, আর জিম্বাবুয়ে হারায় মূল্যবান একটি রিভিউ।
সব চাপ সামলে এরপর এগিয়ে যান শান্ত ও মুমিনুল। প্রথমে ধৈর্য ধরে কাটিয়ে দেন কঠিন সময়, পরে সাবলীলভাবে খেলে দলকে এগিয়ে নেন। বিশেষ করে শান্তর ব্যাটে এসেছে দারুণ কিছু শট। মুমিনুলও খেলেছেন আত্মবিশ্বাস নিয়ে।
২৪ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২ উইকেটে ৮৪ রান। নাজমুল হোসেন শান্ত ৪৩ বলে ৩০ রান করে খেলছেন পাঁচটি চারে, মুমিনুল হক ৪৬ বলে করেছেন ২১ রান দুইটি চারে।
প্রথম ঘণ্টার ধাক্কা সামলে এখন এগিয়ে যাওয়ার পালা। তবে মেঘলা আকাশ আর বৃষ্টি-আশঙ্কার মধ্যে সেটাও যে সহজ হবে না, সেটা একরকম নিশ্চিত।
সাবধানী শুরুর পরও দুই ওপেনারকে হারিয়ে চাপে বাংলাদেশ
ক্রেমাশ্চির হেডে মায়ামির জয়রথ অব্যাহত