‘বৈষম্যমূলক’ ড্যাপে অসন্তোষ

অর্থনীতির স্থবিরতা কাটাতে পদক্ষেপ চান ব্যবসায়ীরা

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:৩২ এএম

বৈষম্যমূলক ড্যাপ (২০২২-৩৫) নিয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছে গৃহায়ন খাত সংশ্লিষ্ট শিল্প সংগঠনগুলো। ড্যাপের কারণে অর্থনীতিতে স্থবিরতা বিরাজ করছেন বলে মনে করছেন তারা। এ খাতে গতিশীলতা আনতে অন্তর্বর্তী সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে কথা বলেন আবাসন খাত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন লিংকেজ শিল্পের ব্যবসায়ী নেতারা। আবাসন শিল্প ও সংশ্লিষ্ট লিংকেজ ইন্ডাস্ট্রির স্থবিরতা হতে উত্তরণের লক্ষ্যে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) প্রেসিডেন্ট মো. ওয়াহিদুজ্জামান।

সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়, অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনার জন্য অবশ্যই আবাসন শিল্প ও সংশ্লিষ্ট লিংকেজ ইন্ডাস্ট্রির স্থবিরতা থেকে অতিদ্রুত উত্তরণ ঘটাতে হবে। সরকারকে এ ব্যাপারে ইতিবাচক উদ্যোগ নিতে হবে।

লিংকেজ শিল্পের ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, ড্যাপ অনুযায়ী ভবনের উচ্চতা ও আয়তন সীমিত হওয়ায় জমির মালিকরা আর জমি ডেভেলপারদের হাতে দিতে রাজি হচ্ছেন না। এতে করে নতুন প্রকল্প শুরু হচ্ছে না, ফলে আবাসন খাতসহ এর সঙ্গে জড়িত ২০০টির বেশি লিংকেজ শিল্প যেমন রড, সিমেন্ট, ইট, কেবল, রং, টাইলস, লিফট, থাই অ্যালুমিনিয়াম, স্যানিটারি সামগ্রী ইত্যাদির বাজারে মারাত্মক মন্দাভাব চলছে।

লিখিত বক্তব্যে রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, নতুন ড্যাপের ফ্লোর এরিয়া রেশিও সংক্রান্ত বিধি-নিষেধের কারণে আবাসন খাতে মারাত্মক স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ফলে বিনিয়োগ কমেছে, কর্মসংস্থান হ্রাস পেয়েছে এবং দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এই শিল্পে ৪০ লাখেরও বেশি মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থান এবং প্রায় ২ কোটি মানুষের জীবিকা জড়িত। অথচ রডের চাহিদা ৫০ শতাংশ কমে গেছে, অনেক প্রতিষ্ঠান উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে, শ্রমিক ছাঁটাই শুরু হয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আরও বড় বিপর্যয় নেমে আসবে।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অস্থায়ী সরকার হলেও আবাসন খাত ও সংশ্লিষ্ট শিল্পগুলোর সংকট নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এ খাত সচল না হলে জাতীয় অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, যা দেশের উন্নয়ন থমকে দিতে পারে।

বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন এর ফাউন্ডার চেয়ারম্যান শেখ মাসাদুল আলম মাসুদ বলেন, আবাসন খাত ভালো থাকলে আমাদের সংশ্লিষ্ট লিংকেজ শিল্পগুলো স্বাভাবিকভাবেই ভালো থাকার কথা কিন্তু আমরা ভালো নেই। কারণ লিংকেজ শিল্পগুলোর সব শেষ ফিনিস প্রোডাক্টের বেশির ভাগ ক্রেতা ডেভেলপাররা। বৈষম্যমূলক ড্যাপ (২০২২-২০৩৫) ও ইমারত নির্মাণ বিধিমালাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন যাবৎ আবাসন শিল্প মারাত্মক সমস্যায় রয়েছে যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে লিংকেজ শিল্পগুলোর ওপর। লিংকেজ শিল্পগুলোর পণ্যের চাহিদাও ব্যাপকভাবে কমে গেছে। রডের চাহিদা ৫০ শতাংশ কমে গেছে। একইভাবে চাহিদা কমেছে সিমেন্ট, ইটসহ অন্য উপকরণের।

রিহ্যাব এর ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফিন্যান্স) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তার আবাসন সংশ্লিষ্ট লিংকেজ কোম্পানিতে ৩৫০ জন লোক ছিল, কিন্তু বর্তমানে ৭৫ কর্মী রয়েছে। বাকি কর্মী ছাঁটাই করতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশ ইলেকট্রিক্যাল ক্যাবলস্ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি মো. আকতার হোসেন ঢালী বলেন, ৯৮ শতাংশ কেবল আমরা দেশে উৎপাদন করি ২ শতাংশ আমদানি করি। কিন্তু আবাসন প্রকল্প কমে যাওয়াতে তাদের উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে।

বাংলাদেশ এলিভেটর এক্সেলেটর অ্যান্ড লিফট ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট এমদাদ উর রহমান বলেন, বিল্ডিংয়ের উচ্চতা কমে যাওয়াতে লিফটের চাহিদা একেবারে কমে গেছে। তারা বড় ধরনের সমস্যায় পড়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক শংকর কুমার রায়, ইলেকট্রানিক ইকুইপমেন্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট মো. নিয়াজ আলী চিশতি, বাংলাদেশ প্লাস্টিক গুডস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন প্রেসিডেন্ট শামীম আহমেদ, বাংলাদেশ গ্লাস মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট, মো. হোসেন আলমগীর, বাংলাদেশ টিম্বার ইমপোর্টার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের ট্রেজারার তানভীর মোহাম্মদ দিপু, রিহ্যাবের পরিচালক ও প্রেস অ্যান্ড মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান মুহাম্মদ লাবিব বিল্লাহ্।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত