বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে ফের চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। নির্বাচনের প্রায় ২২ মাস পর ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম এবং জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন তাপস। তারা পৃথক দুটি মামলায় ভোট কারচুপি, ফল পাল্টে দেওয়া ও প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে নিজ নিজ মেয়র ঘোষণার দাবি করেছেন। ফয়জুল করীম ১৭ এপ্রিল বরিশালের আদালতে মামলাটি করেন।
ফয়জুল করীমের পক্ষে দায়ের করা মামলার শুনানির দিন ছিল বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল)। শুনানির জন্য সকাল থেকেই চরমোনাই পীরের অনুসারী এবং ইসলামী আন্দোলনের শতাধিক নেতাকর্মী বরিশাল নগরীর সদর রোড ও ফজলুল হক অ্যাভিনিউ এলাকায় অবস্থান ও বিক্ষোভে অংশ নেন। আদালতের প্রধান ফটকের সামনের সড়কে সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তাদের অবস্থানে পুরো এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে আদালত মামলাটির শুনানি না করে ৫ মে পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
অন্যদিকে, জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন তাপসও বুধবার (২৩ এপ্রিল) একই দাবিতে আদালতে পৃথক মামলা করেছেন। তার অভিযোগ, ২০১৮ ও ২০২৩ সালের দুই নির্বাচনেই তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। এবারের নির্বাচনে ডিজিএফআই ও এনএসআইয়ের কিছু সদস্য সরাসরি আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন। ইভিএম পদ্ধতির মাধ্যমে ফলাফল পাল্টানো, বহিরাগতদের এনে ভোটকেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ, নিজের পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করার পরও ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
ফয়জুল ও তাপসের দুটি মামলাতেই প্রধান বিবাদী করা হয়েছে সাবেক মেয়র আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবুল খায়ের আবদুল্লাহকে। পাশাপাশি, উভয়ের পক্ষ থেকেই নিজ নিজ বিজয়ী ঘোষণা ও প্রতিদ্বন্দ্বীদের অযোগ্য ঘোষণার দাবি জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মোট সাতজন মেয়র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল খায়ের আবদুল্লাহ ৮৭,৭৫২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ফয়জুল করীম পান ৩৪ হাজার ৩৪৫ ভোট এবং জাপার প্রার্থী তাপস পান মাত্র ৬ হাজার ৬৬৫ ভোট। মোট ভোটার ছিলেন প্রায় ২ লাখ ৭৬ হাজার।
