ভারত ও পাকিস্তান দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র বরাবরই বড় প্রতিদ্বন্দ্বী। কাশ্মীর ইস্যুতে বারবার মুখোমুখিও হতে হয়েছে দুই দেশকে। এদিকে ফের উত্তেজনা শুরু হয়েছে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে। যেখানে যুদ্ধের সাজ দেখা দিচ্ছে দুই রাষ্ট্রের দিক থেকেই।
এমন যখন পরিস্থিতি তখন আলোচনায় তুঙ্গে সামরিক শক্তিতে কোন দেশ এগিয়ে। সময়ের ব্যবধানে সামরিক শক্তিতে সমৃদ্ধ হয়েছে দুই দেশেই। যেখানে রয়েছে পারমাণবিক শক্তিও। এখন দেখার বিষয় সংখ্যার হিসেবে কে এগিয়ে আর কে পিছিয়ে।
হিসাব বলছে, পাকিস্তানের আছে ১৬৫টি নিউক্লিয়ার ওয়ারহেডের বিপরীতে ভারতের রয়েছে ১৬০টি। তবে পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপের সক্ষমতায় এগিয়ে ভারত। পাকিস্তান যেখানে ভূমি ও আকাশ থেকে নিক্ষেপ করতে পারবে সেখানে ভারত ছুড়তে পারবে আকাশ, স্থল ও পানি থেকেও। বিশ্বজুড়ে এই সক্ষমতায় ভারতের অবস্থান ৪র্থ ও ৩ ধাপ পিছিয়ে পাকিস্তানের অবস্থান ৭ম।
যুদ্ধাস্ত্রেও দুই দেশের প্রতিযোগিতা রয়েছে। যেখানে ভারতের ট্যাংক ৪ হাজার ৬১৪টি সেখানে পাকিস্তানের রয়েছে ৩ হাজার ৭৪২টি। সাঁজোয়া যানেও লাখের বেশি ব্যবধানে এগিয়ে ভারত। তাদের রয়েছে ১ লাখ ৫১ হাজার ২৪৮টি এবং পাকিস্তানের রয়েছে আনুমানিক ৫০ হাজার। কামানের সংখ্যাতেও পিছিয়ে পাকিস্তান। ভারতের যেখানে কামান ৯ হাজার ৭১৯টি সেখানে পাকিস্তানের রয়েছে ৪ হাজার ৪৭২টি।
স্থলপথের পর আকাশপথেও রয়েছে ভারতের আধিপত্য। ভারতের মোট বিমানের সংখ্যা ২ হাজার ২২৯টি। যার মধ্যে যুদ্ধবিমান ৫১৩ থেকে ৬০৬টি। বিপরীতে পাকিস্তানের রয়েছে ১ হাজার ৩৯৯ থেকে ১ হাজার ৪৩৪টি বিমান, যার মধ্যে যুদ্ধবিমান ৩২৮ থেকে ৩৮৭টি।
ভারত মহাসাগরে ভারতের সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষায় ও আরব সাগরে পাকিস্তানের অভিযানের জন্য নৌসক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন অবস্থায় ভারতের ঝুঁলিতে রয়েছে ২৯৪টি জাহাজ। বিমানবাহী রণতরী আছে ২টি। পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিনসহ মোট ১৮টি সাবমেরিন রয়েছে ভারতের। এছাড়া ডেস্ট্রয়ার ১৩টি, ফ্রিগেট ১৪টি ও প্যাট্রল নৌযান রয়েছে ১০৬টি। যুদ্ধে ব্যবহারের উপযোগী বিমান ৭৫টি। বিপরীতে পাকিস্তানের রয়েছে কেবল ১২১টি জাহাজ। ৮টি সাবমেরিন, ৯টি ফ্রিগেট ও প্যাট্রল নৌযান ১৭টি। পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান রয়েছে ৮টি।
এই তুলনা থেকে এটি স্পষ্ট, ভারতীয় নৌবাহিনী তুলনামূলক বেশি শক্তিশালী ও গভীর সমুদ্রে অভিযান চালানোর উপযোগী। অন্যদিকে পাকিস্তানের রয়েছে অপেক্ষাকৃত ছোট নৌবাহিনী, যা মূলত উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ও আঞ্চলিক অভিযানে মনোযোগ দেয়।
এছাড়া যুদ্ধে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো সামরিক ও বেসামরিক জনশক্তি। আর তাই এই আলোচনায় জায়গা পেয়েছে ভারত পাকিস্তানের জনশক্তিতে কোন দেশ এগিয়ে। হিসাব বলছে, ভারতের জনসংখ্যা বিশ্বের দ্বিতীয় যা প্রায় ১৪০ কোটি, যেখানে পাকিস্তানের রয়েছে ২৫ কোটি ২০ লাখ। ভারতের সক্রিয় জনশক্তি ৬৬ কোটি ২০ লাখ। আর পাকিস্তানের সক্রিয় জনবল ১০ কোটি ৮০ লাখ।
এছাড়া সামরিক শক্তির জনবলে ভারতের সক্রিয় সেনা রয়েছে ১৪ লাখ ৬০ হাজার এবং পাকিস্তানের রয়েছে ৬ লাখ ৫৪ হাজার। ভারতের রিজার্ভ সেনা রয়েছে ১১ লাখ ৬০ হাজার আর পাকিস্তানের ৬ লাখ ৫০ হাজার।
সামরিক খাতে প্রয়োজন বিপুল বাজেট। যেখানে ভারতের বাজেট ৭ হাজার ৯০০ কোটি ডলার, যা চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের পর তৃতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ। বিপরীতে সামরিক খাতে পাকিস্তানের বাজেট ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার মাত্র।
ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে অধিকতর গুরুত্ব পাবে রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে কৌশলগত জোট ও তার জটিল মূল্যায়ন। ভারতের কৌশলগত জোটে রয়েছে ইসরায়েল, রাশিয়া ও ফ্রান্স। অন্যদিকে পাকিস্তানের রয়েছে চীনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক। আছে সীমিত পরিসরে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনও।
জনবল, সামরিক ব্যয় ও প্রচলিত অন্যান্য প্রতিরক্ষা খাতে ভারতের এগিয়ে থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হলেও পাকিস্তানের সামরিক শক্তিকে খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। পরমাণু ও কৌশলগত অস্ত্রের সমৃদ্ধ ভাণ্ডার, অপ্রতিসম যুদ্ধকৌশল ও চীনের জোরালো সমর্থন দেশটিকে এক সুবিধাজনক প্রতিরক্ষা অবস্থানে রেখেছে।
তবে এমন পরিস্থিতিতে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতির ভাষ্য অনুযায়ী ভারত ও পাকিস্তান ব্যয়বহুল যুদ্ধের সামর্থ্য রাখে না। একদিকে মোদির হুঙ্কার বিপরীতে পাকিস্তানের পাল্টা জোড় বার্তা যেন সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধের হাওয়াকে গরম করে দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয় হুঙ্কার আর গর্জনের পরিণতি কী যুদ্ধে পৌছায় নাকি নতুন কোন সমঝোতায়?
