আবাহনী লিমিটেডের জার্সিতে দীর্ঘ পথচলা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের। সেই পথচলার ১৩ বছরে জিতেছেন নয়টি শিরোপা। এবার তার হাত ধরেই আবারও চ্যাম্পিয়নের মুকুট উঠেছে ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটির মাথায়। সুপার লিগের অলিখিত ফাইনালে মোহামেডানের বিপক্ষে ৬ উইকেটের জয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।
৬৬ বলে ৭৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়েছেন, গড়েছেন মিথুনের সঙ্গে ১৩৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি। ম্যাচসেরা হয়েছেন, টুর্নামেন্টসেরা, সেরা অলরাউন্ডার— এমনকি হয়েছেন সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিও। মোসাদ্দেকের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ভর করেই বিতর্কহীন এক শিরোপা উৎসবে মাতল আবাহনী।
অবিচল আত্মবিশ্বাসের গল্পটা উঠে আসে সৈকতের কণ্ঠে, 'আপনি যখন ভালো খেলতে থাকবেন এবং আপনার জোনের যে শটগুলা আছে, সেগুলো খেলতে থাকবেন, তখন সেটা আপনাকে সাহস ও আত্মবিশ্বাস দেবে। একই সময়ে মিঠুন ভাইয়ের যে ইনিংসটা ছিল, সেটা আমাদের কাজ সহজ করে দিয়েছে। তো আমি বলব, এটা পুরো টিমের এফোর্ট এবং আমরা ডিজার্ভিং চ্যাম্পিয়ন।'
আবাহনীর সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে সৈকত বলেন, '২০১৩ সালে আবাহনীতে জয়েন করেছিলাম স্পষ্ট মনে আছে। এই ১৩ বছরে (মোট) নয়টা শিরোপা জিতলাম।'
দলের সঙ্গে নিজের আবেগ আর দায়বদ্ধতার জায়গাটাও স্পষ্ট করে দেন তিনি, 'আমি চেষ্টা করেছিলাম আবাহনীতে থাকতে। সব কিছু মিলিয়ে এমন পরিস্থিতি ছিল যে, আমাদের দল বানানোটা কঠিন হয়ে যাচ্ছিল। ওই সময়ে আমার ওই ডেডিকেশন ছিল যে, আমি আবাহনীতেই খেলব। শেষ পর্যন্ত খেলতে পেরেছি, টিম ম্যানেজমেন্টকে খুবই ধন্যবাদ তারা আমাকে রাখতে পেরেছে, তারা সেই সাপোর্টটা আমাকে করেছে।'
আবাহনীর শিরোপা মানেই বিতর্ক— এই অভিযোগ বহু পুরনো। এবার সে বিতর্ক দূরে ঠেলেই চ্যাম্পিয়ন তারা।
এই প্রসঙ্গে সৈকত বলেন, 'দেখুন, আপনারা সবাই দেখেছেন। একদম ক্লিয়ার ছিল সবকিছু। এই ব্যাপার নিয়ে আসলে আমার বলার কিছু নাই। চ্যাম্পিয়ন হতে পেরেছি, সব মিলিয়ে ভালো লাগছে। পুরো টিম ভালো খেলেছে। এটাই আমার কাছে অনেক বড় ব্যাপার।'
জাতীয় দলে ফেরার প্রসঙ্গে সৈকতের জবাব পরিণত, 'আসলে ভালো খেলতে থাকলে সুযোগ আসবে। আমি মনে করি, এ দলে খেলার একটা অপরচুনিটি এসেছে। সেখানে ভালো খেলতে পারলে অবশ্যই সিলেকশন প্যানেল আমাকে নিয়ে চিন্তা করবে। সো আমার কাজ ভালো খেলা, আমি সেটা চেষ্টা করব। বাকিটা উনাদের কাজ।'
আবাহনীর ঘরের ছেলে— কথাটির মধ্যে রয়েছে এক বিশেষ ধ্বনি, এক আত্মার সংযোগ। সৈকতের নিজের কণ্ঠেই সে অনুভূতির প্রকাশ, 'আমি আবাহনীর ঘরের ছেলে, সেটা শুনতে আমার কখনোই খারাপ লাগে না, ভালো লাগে। আরও অনেক দিন খেলতে চাই যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে। বিগত বছরগুলোতে আমরা যে ধরনের টিম করতাম, সেখানকার প্লেয়ারদের নামগুলো দেখবেন। আর এই বিতর্ক নিয়ে যে কথাগুলো আসে, তার সাথে আমি একমত না। এখানে আপনারা মাঠ থেকে খেলা দেখেন, আপনারাই প্রমাণ। এগুলা কোনো ম্যাটার করে না।'
নতুন আবাহনী, নতুন কৌশল, নতুন মানসিকতা। তাই তো এই শিরোপা সৈকতের কাছে আরও বেশি স্পেশাল। 'এটা অবশ্যই স্পেশাল কারণ, অনেককিছুই চেঞ্জ হয়েছে। অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল আমাদের সামনে। আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে পেরেছি, এটা অনেক বড় ব্যাপার আমার কাছে।'
চ্যাম্পিয়ন হওয়া যে ছিল এক সময় শুধু কল্পনার মতো, তা মানেন সৈকত নিজেও। 'আমি আজও বলেছি, প্রথমে আমাদের ওই টার্গেট ছিল যে, রেলিগেশন সেভ করতে চাই। তারপর আমরা যখন জিততে থাকি, তখন আমাদের এক্সপেক্টেশন বাড়তে থাকে। শেষ পর্যায়ে যখন চলে আসছি, তখন বিশ্বাস ছিল যে, আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে পারব।'
সবশেষে পেশাদারিত্বের জায়গাটা পরিষ্কার করে দেন মোসাদ্দেক, 'দেখুন, আমরা প্রফেশনাল প্লেয়ার। আজকে আমি মোহামেডানে খেলতে পারতাম। মোহামেডানের প্লেয়াররা এই টিমে খেলতে পারত। তো অ্যাজ এ প্লেয়ার এগুলা আমাদের জন্য ম্যাটার করে না। আমাদের কাজটা ছিল মাঠে ভালো খেলার।'
আবাহনীর ঘরের ছেলে মোসাদ্দেক— সেই পরিচয়ের ভার যে কতটা গর্বের, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন মাঠে, ব্যাটে-বলে এবং কথায়।
'ফেয়ার ক্রিকেট খেলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় আলাদা একটা আনন্দ আছে', হান্নান
ফাইনাল হেরে দর্শকের দিকে তেড়ে গেলেন মাহমুদউল্লাহ
উপভোগের মন্ত্রে ফাইনালে যেতে চায় আর্সেনাল