কারিগরি শিক্ষা এখনো বৈষম্যের শিকার

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:১৮ এএম

কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা খাত চরম বৈষম্যের শিকার বলে মন্তব্য করেছেন এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, বৈষম্য ও অবহেলার উৎকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে দেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা। নাগরিক সমাজ প্রত্যাশা করেছিল যে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বর্তমান সরকার এ খাতের সমস্যাগুলো নিরসনে আন্তরিক হবে। কিন্তু এ সরকারও কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সমস্যা সমাধানে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না উল্লেখ করে দেবপ্রিয় বলেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের এমন নেতিবাচক আচরণ রীতিমতো পীড়াদায়ক।

রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডি কার্যালয়ে গতকাল মঙ্গলবার নাগরিক প্ল্যাটফর্মের মিডিয়া ব্রিফিংয়ে কথা বলছিলেন দেবপ্রিয়। ‘বাংলাদেশে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা : বর্তমান পরিস্থিতি ও সংস্কার চিন্তা’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের অনুষ্ঠানে এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান। নাগরিক প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকে কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়নের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

বাংলাদেশে শিক্ষা এখন বড় বৈষম্যের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, এর কারণ হলো, এখনো কারিগরি শিক্ষাকে যথোপযুক্ত সম্মান ও মর্যাদা দেওয়া হয়নি। সামাজিকভাবেও এই শিক্ষাকে নিচু দৃষ্টিতে দেখা হয়। মধ্যবিত্ত শ্রেণি এখনো কারিগরি শিক্ষাকে মিস্ত্রি তৈরির শিক্ষা মনে করে।

তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলোর উন্নয়নের মূল ভিত রচনা করেছে কারিগরি শিক্ষা। তিনি দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, জার্মানি, মেক্সিকোসহ বিভিন্ন দেশের উদাহরণ উল্লেখ করেন। পাশর্^বর্তী দেশ ভারতেও কারিগরি শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে বলে জানান।

তিনি কারিগরি শিক্ষায় নাগরিক প্ল্যাটফর্মের গবেষণার ফল তুলে ধরেন। এতে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে দেশে ১৮ লাখ কারিগরি শিক্ষার্থী রয়েছে। এর ৭৫ শতাংশই বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করছে। আর বর্তমানে যারা আন্দোলন করছে তারা মূলত সরকারি বিভিন্ন পলিটেকনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। তারা ছয়টি দাবি সামনে এনেছে। এর মধ্যে কয়েকটি দাবির সঙ্গে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম একমত বলে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য উল্লেখ করেন। বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়নের যে দাবি তারা তুলেছেন, সেটি অত্যন্ত যৌক্তিক বলে তিনি মনে করেন। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার পাঠ্যক্রম আধুনিকায়নের ওপর জোর দেন এ অর্থনীতিবিদ।

অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কারিগরি শিক্ষাকে অবমূল্যায়ন করলে উন্নত দেশ গঠন বাধার মুখে পড়বে। কারিগরি শিক্ষায় দেশের উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বুঝতে পারবেন যে কী ধরনের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ জরুরি। পাশাপাশি আধুনিক যন্ত্রপাতি যুক্ত করে শিক্ষাপ্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।

নাগরিক প্ল্যাটফর্মের নেটওয়ার্ক ফোকাল পয়েন্ট তারান্নুম জিনান, গবেষণা সহযোগী শৌর্য তালুকদার, সংলাপ সহযোগী রিফাত বিন আওলাদ, গবেষণা সহযোগী নাইমা জাহান তৃষা ও গবেষক ইন্টার্ন মালিহা রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত