‘নিজের শর্তেই’ ট্রাম্পকে মোকাবিলা করবে কানাডা 

আপডেট : ০১ মে ২০২৫, ১২:২৩ এএম

ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রতিবেশী কানাডার সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হতে থাকে। দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে চলমান টানাপড়েনের মধ্যেই দেশটির সাধারণ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টি আবারও জয় পেয়েছে। জাস্টিন ট্রুডোর স্থলাভিষিক্ত হওয়া ব্যাংক অব কানাডা ও ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সাবেক গভর্নর মার্ক কার্নি হতে যাচ্ছেন দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচনে জয়ের পর তিনি বলেন, তার দেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে যথাযথ সম্মান প্রাপ্য এবং তারা কেবল নিজেদের শর্তেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বাণিজ্য ও নিরাপত্তা আলোচনায় যাবে। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন- কানাডার সার্বভৌমত্বকে সম্মান করে যখন কোনো আলোচনা হবে, কেবল তখনই তিনি ওয়াশিংটন সফর করবেন। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করতে হলে তা হতে হবে দুপক্ষের জন্যই সমান।

কার্নির লিবারেল পার্টি নির্বাচনে জয়ী হলেও, তারা এককভাবে সরকার গঠন করার মতো প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় জোট সরকার গঠন করতে হবে। কানাডার নির্বাচনের আগে দেশটিকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার প্রস্তাব রাখেন। যা নিয়ে দেশটির সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে শোরগোল তৈরি হয়। শুরু থেকেই ট্রাম্পের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত পেয়েছিলেন কার্নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, তার এই ট্রাম্পবিরোধী অবস্থানই নির্বাচনে লিবারেলদের জয় নিশ্চিত করেছে। এদিকে, নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কানাডার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই নেতাই স্বাধীন ও সার্বভৌম জাতি হিসেবে পারস্পরিক উন্নতির জন্য কানাডা-যুক্তরাষ্ট্রের একযোগে কাজ করার গুরুত্বের বিষয়ে একমত হয়েছেন। তবে মঙ্গলবারও হোয়াইট হাউজের উপ-মুখপাত্র আন্না কেলি বলেছেন, কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম রাজ্য করতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পরিকল্পনায় নির্বাচন কোনো প্রভাব ফেলবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত