প্রকাশ্য দখল-দূষণে বিলুপ্ত হতে যাচ্ছে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সামুদ্রিক মাছের বৃহৎ পাইকারী বাজার মহিপুর বন্দরের খাস পুকুরটি। ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরত্বের এ পুকুরটি অবৈধ স্থাপনায় আর ময়লা নিষ্কাশনে অস্তিত্ব সংকটে পড়লেও রক্ষায় উদ্যোগ নেয়নি ইউনিয়ন পরিষদসহ উপজেলা প্রশাসন। বর্তমানে বড় আকারের দখল প্রক্রিয়ায় চলছে নানা প্রস্তুতি। শত বছরের পুরনো পুকুরটি এমন সংকট দেখে সচেতন মহল পুকুরটি উদ্ধারে দাবি জানালেও নিস্ক্রিয় সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়রা জানান, শত বছর আগে মিষ্টি পানির নিত্য প্রয়োজনে ও সংরক্ষণের মহিপুর বন্দরের এই খাস পুকুরটি খনন করা হয়। বছরজুড়ে নদীতে লবণাক্ত পানি থাকায় গোসল ও রান্নার কাজে ব্যবহৃত হতো এই পুকুরের পানি। সমুদ্র যাত্রার সময় জেলেরা এই পুকুর থেকে ড্রাম ভর্তি করে প্রয়োজনীয় পানি নিয়ে যেতেন। বর্তমানে পুকুরটি পরিণত হয়েছে ময়লার ভাগাড়ে। বছরের পর বছর ধরে প্রতিনিয়ত ময়লা ফেলায় ইতোমধ্যে ভড়াট হয়ে গেছে পুকুরটি। ময়লা পঁচার দুর্গন্ধে বিষময় হয়ে উঠেছে আশপাশের পরিবেশ। পুকুরসহ পাড় দখল করে প্রায় অর্ধশতাধিক পাকা স্থাপনা তুলে মার্কেট, আবাসিক হোটেল করেছে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল।
স্থানীয় সমাজকর্মী মিজানুর রহমান বুলেট বলেট বলেন, বারবার মৌখিক আবেদনের পর ২০২০ সালের ২৬ জুলাই পুকুরটি খননে মহিপুর সদর ইউনিয় পরিষদ জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করলেও পুকুরটি উদ্ধারে কোনও ব্যবস্থা জেলা কিংবা উপজেলা প্রশাসন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, এই পুকরটির সামন্য দূরে কালীবাড়ি পুকুর, হিন্দুপট্টি এলাকার আরেকটি খাস পুকুরও এখন দখল-দূষণে অস্তিত্ব হারায়ে দখলের অপেক্ষায় রয়েছে।
মহিপুরের শাহ্ আলম মুন্সী বলেন, শত বছর আগের এই পুকুরটি এলাকার মানুষের পানীয় জলের প্রধান উৎস ছিল। এটি শুধু একটি জলাধার নয়, মহিপুরের ইতিহাস-ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির প্রতীক।
জেলে আব্দুল জলিল বলেন, পুকুরটি আমাদের প্রত্যাহিক জীবনের একটি অংশ ছিল। সাগর থেকে ফিরে এখানে গোসল করতাম। সাগরে মাছ শিকারে যাওয়ার সময় এখান থেকে রান্নার পানি নিয়ে যেতাম।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করব।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, পুকুরটির দখল উদ্ধারসহ খনন ও সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শেখ হাসিনা লাদেনের মতো ভিডিও বার্তা দিচ্ছেন: রিজভী