ধানুড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় চ্যালেঞ্জ বাল্যবিয়ে, ঝরে পড়ছে ছাত্রীরা

আপডেট : ০৫ মে ২০২৫, ০১:১৩ পিএম

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ধানুড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের মধ্যে বাল্যবিয়ের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। এর ফলে ঝরে পড়ছে একের পর এক শিক্ষার্থী। গত চার বছরে ১০৬ জন ছাত্রী বাল্যবিয়ের কারণে বিদ্যালয় ত্যাগ করেছে, যা বিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ এবং শিক্ষার মানের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, চাপিলা ইউনিয়নের ধানুড়া, চন্দ্রপুর, শ্যামপুর, পুঠিমারী এবং ওয়াপদাবাজার এলাকার মেয়েরা এই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে আসে। অধিকাংশ ছাত্রীর পরিবারই কৃষক বা দিনমজুর, যারা আর্থিকভাবে দুর্বল। দারিদ্র্য, কুসংস্কার এবং শিক্ষার প্রতি উদাসীনতা এইসব পরিবারের জন্য এক বড় সমস্যা। এ কারণে অনেক অভিভাবক তাদের মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে দেয়।

বিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিল ২০৩ জন ছাত্রী। কিন্তু অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি ৮০ জন, তারা বাল্যবিয়ের কারণে বিদ্যালয় ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য ২৫ জন ছাত্রী ফরম পূরণ করেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ১০ জনই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি, কারণ তাদের বিয়ে হয়ে গেছে।

২০০০ সাল থেকে বিদ্যালয়ে ‘মিড ডে মিল’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছিল, যার মাধ্যমে সপ্তাহে এক কেজি চাল ও ২০ টাকা সংগ্রহ করা হতো। এটি কিছুটা শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ালেও, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে অর্থ সংকটের কারণে এই কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যায়।

বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘প্রতি সপ্তাহেই কেউ না কেউ বিয়ের কারণে পড়াশোনা ছেড়ে দিচ্ছে। আমাদের মাঝে ভয় থাকে, আমার পালা কবে আসবে! ক্লাসে বান্ধবী কমে যাচ্ছে, অথচ তারা শ্বশুরবাড়িতে সংসার করছে।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর বলেন, ‘আমরা সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সভা করছি, এলাকাভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছি, এমনকি বিদ্যালয়ের খরচে ছাত্রীদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করেছি। তবে পরিস্থিতি এখনও তেমন উন্নতি হয়নি। অষ্টম শ্রেণিতে উঠলেই অনেক পরিবার মেয়েদের বিয়ের প্রস্তুতি নেয়।’

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ  বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। মিড ডে মিল পুনরায় চালু করতে প্রশাসন থেকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে আরও কার্যক্রম নেওয়া হবে, যাতে পরিবারগুলো তাদের মেয়েদের বিয়ে না দিয়ে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে উৎসাহিত হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত