কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় 

যুবদলের পদ নিতে ঢাকায় ভাইভা সদস্য সচিবের, ক্ষুব্ধ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা

আপডেট : ০৫ মে ২০২৫, ০৭:১১ পিএম

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আল-আমিন সম্প্রতি যুবদলের একটি পদ পেতে ঢাকায় ভাইভা দিয়েছেন। নিজ সংগঠনে অনুপস্থিত থাকা এবং ছাত্রদলের কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা রাখার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

২০২১ সালের ৬ জুন কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ২৭ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেয়, যেখানে ইমরান হোসেন প্রধানকে আহ্বায়ক এবং আল আমিনকে সদস্য সচিব করা হয়। তবে ২৭ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির ২০ জন সদস্যই মাঠে সক্রিয় নন। এদিকে, আহ্বায়ক কমিটির অধিকাংশ সদস্যের ছাত্রত্ব না থাকা এবং সদস্য সচিবের নিষ্ক্রিয়তায় অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা এবং বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে।

ছাত্রদলের এক যুগ্ম আহ্বায়ক বলেন, ‘আমাদের সদস্য সচিব একদিকে নিজে নিষ্ক্রিয়, অন্যদিকে পদ আকড়ে ধরে সংগঠনের গতিও শ্লথ করে ফেলেছেন। এর ফলে অন্যান্য সংগঠনগুলো সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে, যা ছাত্রদলের ভবিষ্যতের জন্য হুমকিস্বরূপ।’

ছাত্রদলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ ৩ মাস হলেও প্রায় চার বছর ধরে আহ্বায়ক কমিটি দিয়েই চলছে ইউনিটটির সাংগঠনিক কার্যক্রম। ফলে, ইতোমধ্যে ৫টি সাব-গ্রুপে বিভক্ত হয়ে রাজনীতি করছেন নেতাকর্মীরা। সম্প্রতি আবাসিক হলে প্রভাববিস্তার, ছাত্রলীগকে পুনর্বাসন এবং সিট দখলকে কেন্দ্র করে সুস্পষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে আহ্বায়ক কমিটির এক সদস্যকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যহতি দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।

এদিকে, যুবদলের পদ পেতে আল আমিনের সাক্ষাৎকার দেয়ার কিছু ছবিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সংগঠনটির ছাত্রদলের আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক বলেন, ‘আল-আমিন যুবদলে যুক্ত হোক, আমরা গর্ব করব। কিন্তু ছাত্রদলের পদ আঁকড়ে ধরে সংগঠনকে নিষ্ক্রিয় করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে আল-আমিন দেশ রুপান্তরকে বলেন, ‘যুবদলে যোগ দেওয়ার জন্য আমি কোনো ভাইভা দিইনি। ঢাকায় আমার নিজের কোনো প্রয়োজনে যাইনি। আর একজন রাজনৈতিক কর্মী  হিসেবে সংগঠন পরিবর্তন করতে হবেই, সেরকম কিছু হলেও জানতে পারবেন আপনারা।’ 

ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন অনুপস্থিতির ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘সবার ব্যক্তিত্বের সাথে আমাকে মিলিয়ে লাভ নাই। ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের যতো প্রোগ্রাম হয় সবকিছুর ডিরেকশন আমি দেই।’ 

সর্বশেষ কবে ক্যাম্পাসে এসেছিলেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো উত্তর দিতে পারেননি তিনি।

এমতাবস্থায় এ বিষয়ে সংগঠনের শাখা আহ্বায়ক ইমরান হোসেন প্রধান বলেন, ‘তিনি তার পারিবারিক কিছু কারণে দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসে না থাকলেও আমাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। আর যুবদলের কমিটির ব্যাপারে সেই ভালো বলতে পারবে, এব্যাপারে আমার কিছু বলার নেই।’

তবে, এ বিষয়ে জানতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত