প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ‘মৌলিক অধিকার’ ঘোষণার সুপারিশ

আপডেট : ০৬ মে ২০২৫, ০৭:১৭ এএম

দেশের স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিন থেকে যেসব সমস্যা রয়েছে, তা নিরসনে স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। যেসব সুপারিশ এখনই বাস্তবায়নযোগ্য, তা দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের প্রতিবেদন পেশ করার পর সরকারপ্রধান এই নির্দেশ দেন।

কমিশনপ্রধান জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খানের নেতৃত্বে এই কমিশনের সদস্যরা তাদের প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করেন। কমিশন সংবিধান সংশোধন করে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে ‘মৌলিক অধিকার’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছে। ‘স্বাস্থ্য সবার অধিকার’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনে দেশের স্বাস্থ্য খাতে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনাও তুলে ধরা হয়েছে।

এ ছাড়া স্বাস্থ্য খাতের জন্য পৃথক স্বাস্থ্য কমিশন গঠন, অতি দরিদ্র ২০ শতাংশ রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া, মেডিকেল পুলিশ গঠন, জাতীয় বাজেটের ১৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ, নতুন আইন প্রণয়ন ও পুরনো আইনের সংশোধন, ওষুধ বিক্রয় প্রতিনিধিদের চিকিৎসকদের চেম্বার ও হাসপাতালে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাসহ মোটা দাগে ৩২টি সুপারিশ করেছে কমিশন।

স্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্কার কমিশনের এই প্রতিবেদনকে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতের সমস্যাগুলো বহুদিনের সমস্যা, এর মাধ্যমে আমরা যদি এসব সমস্যার সমাধান করতে পারি, তা হবে যুগান্তকারী ঘটনা। সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যেসব সুপারিশ আশু বাস্তবায়নযোগ্য, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের এখনই মনোযোগী হতে হবে। একটি বড় সমস্যা হচ্ছে ডাক্তারের সংকট আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডাক্তার থাকলেও যেখানে দরকার সেখানে ডাক্তার নেই। এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হবে।’

চিকিৎসাব্যবস্থা বিকেন্দ্রীকরণের ওপর জোর দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এটা ছাড়া সমস্যা নিরসন সম্ভব নয়। চিকিৎসকদের যেখানে পোস্টিং, সেখানে থাকাটা নিশ্চিত করতে হবে।’

প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন হস্তান্তরের পর সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন কমিশনপ্রধান জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খানের নেতৃত্বে কমিশনের সদস্যরা।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান বলেন, ‘বাংলাদেশ স্বাস্থ্য কমিশন জনগণের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা তদারকি করবে। কমিশনপ্রধান উপদেষ্টার কাছে জবাবদিহির আওতাভুক্ত থাকবে এবং ১৭টি বিভাগের মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।

এ সময় কমিশনের সদস্য ডা. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন কমিশনের প্রতিবেদন উপস্থাপন করে বলেন, ‘দেশের স্বাস্থ্য খাতে সংস্কার আনার জন্য তারা যেসব সুপারিশ করেছেন, তার মধ্যে অন্যতম হলো সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং জনগণকে বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান। সবার জন্য সর্বজনীন ও সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কমিশন ‘বাংলাদেশ স্বাস্থ্য সার্ভিস’ গঠনের কথা বলেছি। আমরা বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবার পূর্ণ বিকেন্দ্রীকরণের সুপারিশ করেছি।’

কমিশনের সুপারিশে বলা হয়েছে, এই সুপারিশ সম্পূর্ণ করতে কমপক্ষে দুই বছর সময় লাগবে এবং বাস্তবায়নের জন্য সরকারের আন্তঃমন্ত্রণালয় উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি কমিটি প্রয়োজন। সুপারিশ বাস্তবায়নে কমিশন সার্বিক সহযোগিতা করতে পারে।

গত ২০২৪ সালের ১৭ নভেম্বর বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খানকে প্রধান করে ১২ সদস্যের স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। কমিশন গঠনের ৯০ দিনের মধ্যে কমিশনের প্রতিবেদন সরকার প্রধানের কাছে জমা দেওয়ার কথা ছিল। পরে দুই দফায় সময় বাড়িয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়।

সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার : যেসব সুপারিশ এখনই বাস্তবায়নযোগ্য, তা দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতের সমস্যাগুলো বহুদিনের সমস্যা। এর মাধ্যমে আমরা যদি এসব সমস্যার সমাধান করতে পারি, তা হবে যুগান্তকারী ঘটনা। সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যেসব সুপারিশ আশু বাস্তবায়নযোগ্য, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের এখনই মনোযোগী হতে হবে।’

সংবিধান সংশোধন ও বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবার প্রস্তাব : সুপারিশে সংবিধান সংশোধন করে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে একটি মৌলিক অধিকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, একটি পৃথক ‘প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আইন’ প্রণয়ন করতে হবে, যা বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাপ্রাপ্তির ব্যাপারে নাগরিকদের অধিকার ও রাষ্ট্রের কর্তব্য নির্ধারণ করবে। সরকারকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে (ক্ষেত্রবিশেষ ভর্তুকি মূল্যে) দিতে হবে, যাতে কোনো নাগরিক আর্থিক প্রতিবন্ধকতার কারণে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত না হন।

১৫ নতুন আইন, ৬ আইনের সংশোধন : কমিশন ১০টি নতুন আইন প্রণয়নের সুপারিশ করেছে। এগুলো হলো বাংলাদেশ স্বাস্থ্য কমিশন আইন, বাংলাদেশ হেলথ সার্ভিস আইন, জনস্বাস্থ্য ও অবকাঠামো আইন, বাংলাদেশ সেইফ ফুড, ড্রাগ, আইভিডি ও মেডিকেল ডিভাইস আইন, ওষুধের মূল্য নির্ধারণ ও প্রাপ্তি আইন, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী ও রোগী নিরাপত্তা আইন, অ্যালায়েড হেলথ প্রফেশনাল কাউন্সিল আইন, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক অ্যাক্রেডিটেশন আইন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন, নারী স্বাস্থ্য আইন, ক্যানসার নিয়ন্ত্রণ আইন, শিশু বিকাশ কেন্দ্র আইন, বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল আইন, স্বাস্থ্য তথ্য সুরক্ষা আইন এবং স্বাস্থ্য খাতে টেকসই অর্থায়ন আইন।

এ ছাড়া বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, মেডিকেল শিক্ষা অ্যাক্রেডিটেশন আইন, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল আইন, বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিল আইন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন, পৌর ও সিটি করপোরেশন আইন সংশোধনের সুপারিশ করেছে।

স্বাধীন ও স্থায়ী স্বাস্থ্য কমিশন গঠন : সুপারিশে একটি স্বাধীন ও স্থায়ী ‘বাংলাদেশ স্বাস্থ্য কমিশন’ গঠনের কথা বলা হয়েছে। এই কমিশন স্বাস্থ্যবিষয়ক নীতি প্রণয়নে সংসদ ও সরকারকে কৌশলরা পরামর্শ দেবে। পাশাপাশি সেবা ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মানদন্ড এবং ক্লিনিক্যাল গাইডলাইন প্রণয়ন করবে। এই কমিশন সরাসরি সরকারপ্রধানের কাছে জবাবদিহি করবে। প্রতিবছর একটি বার্ষিক প্রতিবেদন সংসদে পাঠাবে।

কমিশন স্বাস্থ্য খাতের জন্য স্বতন্ত্র পাবলিক সার্ভিস কমিশন (স্বাস্থ্য) গঠনের সুপারিশ করেছে। বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য খাতের নিয়োগ ও পদোন্নতিপ্রক্রিয়া নিয়মিতকরণ ও স্বচ্ছতা আনয়নের লক্ষ্যে একটি স্বতন্ত্র পাবলিক সার্ভিস কমিশন (স্বাস্থ্য) গঠন করতে হবে।

অতিদরিদ্র ২০% মানুষের বিনামূল্যে সেবা : দেশের জনসংখ্যার ২০ শতাংশ অতিদরিদ্র মানুষকে সরকারি ও বেসরকারি সব হাসপাতালে বিনামূল্যে সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিশন। সুপারিশে বলা হয়েছে, উপজেলাপর্যায়ে সেকেন্ডারি স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করে জনগণের জন্য স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজলভ্য করতে হবে। জেলা হাসপাতালগুলোয় বিশেষায়িত (টারশিয়ারি স্তরের) চিকিৎসাসেবা চালু করতে হবে। প্রতিটি বিভাগীয় সদরে অন্তত একটি পূর্ণাঙ্গ, সর্বাধুনিক সুবিধাসম্পন্ন ও বিশ্বমানের টারশিয়ারি সেবা হাসপাতালের প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

বিনামূল্যে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ : কমিশন সুপারিশ করেছে, দেশের সব নাগরিককে প্রয়োজনের ভিত্তিতে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ বিনামূল্যে বা ভর্তুকি মূল্যে সরবরাহ করতে হবে।

মেডিকেল পুলিশ ও ডিজিটাল অভিযোগ প্ল্যাটফর্ম : স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তার জন্য মেডিকেল পুলিশের সুপারিশ করেছে কমিশন। বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে একটি নির্দিষ্ট ইউনিট থাকবে, যেখানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সংরক্ষিত কিছু পুলিশ সদস্য থাকবেন, যারা জরুরি পরিস্থিতিতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।

স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের জন্য পৃথক বেতন বোর্ড : কমিশন বলেছে, বাংলাদেশ স্বাস্থ্য কমিশনের অধীনে ইন্টার্ন চিকিৎসক, স্নাতকোত্তর ছাত্রছাত্রী (ভাতা), বেসরকারি চিকিৎসক, নার্স ও সব ধরনের স্বাস্থ্যকর্মীর জন্য একটি সুসংগঠিত এবং যুগোপযোগী বেতনকাঠামো প্রণয়ন করতে হবে।

সরকারি হাসপাতাল ও কলেজের স্বায়ত্তশাসন : বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি (বিএমইউ), অন্যান্য মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস), সব মেডিকেল কলেজ ও বিশেষায়িত হাসপাতালের জন্য পৃথক ও স্বায়ত্তশাসিত শাসন কাঠামো গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে।

জাতীয় বাজেটের ১৫% বরাদ্দ : স্বাস্থ্য খাতে জাতীয় আয়ের কমপক্ষে ৫ শতাংশ এবং জাতীয় বাজেটের ১৫ শতাংশ বরাদ্দ রাখার সুপারিশ করেছে কমিশন। এ ছাড়া স্বাস্থ্য শিক্ষা ও সেবা বিভাগ পৃথক্করণ, নতুন চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের আগেই প্রয়োজনীয় ও দক্ষ জনবল নিয়োগ, দালাল দমন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন ও রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ গঠন, ফিজিওথেরাপি বিভাগ ও পদ সৃষ্টি এবং গ্রামপর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য বেসরকারি সংস্থাগুলোকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে প্রতিবেদনে।

জাতীয় নারী স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সুপারিশ : নারীর সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও সুস্থতা নিশ্চিত করতে ‘জাতীয় নারী স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠা করার প্রস্তাব করেছে কমিশন। এখানে মা, শিশু, কৈশোরকালীন ও বিশেষ প্রয়োজনে থাকা ব্যক্তিদের জন্য উপযোগী এবং সম্মানভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া জেলা ও ঊর্ধ্বতন সব সরকারি হাসপাতাল এবং ১০০ শয্যার অধিক বেসরকারি হাসপাতালে ক্যানসার শনাক্ত ও চিকিৎসা, আন্তঃজেলা সড়কের পাশে প্রতিটি উপজেলায় ট্রমা সেন্টার ও রক্ত পরিসঞ্চালন কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রস্তাব করেছে কমিশন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্য ইনফরমেটিকস বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাকির হোসেন, অধ্যাপক লিয়াকত আলী, ডা. সায়েবা আক্তার; সাবেক সচিব এম এম রেজা, ডা. আজহারুল ইসলাম, ডা. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন, ডা. সৈয়দ আতিকুল হক, ডা. আহমেদ এহসানুর রাহমান এবং শিক্ষার্থী প্রতিনিধি উমায়ের আফিফ।

স্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্কার কমিশনের অন্য দুই সদস্য হলেন ডা. নায়লা জামান খান ও ডা. মোজাহেরুল হক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত