কক্সবাজার

যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে এনসিপি নেতাসহ ৩ জন কারাগারে

আপডেট : ০৬ মে ২০২৫, ০৬:২৯ পিএম

কক্সবাজার সদরে যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় এনসিপির স্থানীয় এক নেতাসহ গ্রেপ্তার তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। তবে ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় এখনো মামলা করা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার দুপুরে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আখতার জাবেদের আদালত এ আদেশ দেন। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন- কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া এলাকার জাহাঙ্গীর কাশেমের ছেলে রাইয়ান কাশেম, তার বাবার মালিকাধীন আল্লাওয়ালা হ্যাচারির নৈশপ্রহরী মোহাম্মদ হোসাইন ও মোহাম্মদ মিজান।

রাইয়ান কাশেম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কক্সবাজারের সমন্বয়ক এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) স্থানীয় নেতা। তার বাবা জাহাঙ্গীর কাশেম ছাত্রশিবিরের আলোচিত সাবেক নেতা এবং বর্তমানে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন বলেন, রবিবার দিবাগত রাতে কক্সবাজার সদরের খুরুশকুল পুরাতন ব্রিজ সংলগ্ন আল্লাওয়ালা হ্যাচারিতে যুবককে পিটিয়ে খুনের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে রাতেই ঘটনার পরপরই জড়িত সন্দেহে ৪ জনকে আটক করা হয়। এদের মধ্যে রাইয়ান কাশেম উত্তেজিত জনতার মারধরে আহত হয়। পরে পুলিশ হেফাজতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। সোমবার রাতে পুলিশ তাকে কক্সবাজার নিয়ে আসে।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার সকালে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আটক তিনজনকে কক্সবাজারের আদালতে পাঠানো হয়। পরে আদালত শুনানি শেষে তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এ ঘটনায় আটক একজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

জসিম উদ্দিন জানান, ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় এখনো মামলার এজাহার জমা দেননি। লিখিত অভিযোগ পেলে মামলা নথিভুক্ত করা হবে। তারপরও পুলিশ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে বলে জানান তিনি।

এদিকে, রাইয়ান কাশেমের মুক্তির দাবি মঙ্গলবার সন্ধ্যা মশাল মিছিল বের করার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জুলাই আন্দোলনের ছাত্ররা।

উল্লেখ্য, রবিবার মধ্যরাতে কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের একটি হ্যাচারিতে আলী আকবর নামে ওই যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। নিহত আলী আকবর কক্সবাজার সদরের খুরুশকুল ইউনিয়নের কুলিয়াপাড়ার বাসিন্দা আলী আহমদের ছেলে।

নিহতের পরিবারের দাবি, মাছ চুরির অপবাদে আলী আকবরকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। জমি নিয়ে বিরোধের জেরেই পরিকল্পিতভাবে এ হত্যা হয়েছে।

তবে ঘটনায় উত্তেজিত জনতার হামলা শিকারের আগে গণমাধ্যমে এনসিপি নেতা রাইয়ান কাশেম দাবি করেন, তাদের হ্যাচারিতে চুরির করার সময় আলী আকবরকে হাতেনাতে ধরে নিরাপত্তা প্রহরীরা। পরে আলী আকবর আঘাত করলে আত্মরক্ষার্থে নিরাপত্তা প্রহরীরা পাল্টা আঘাত করে। এতে মারা যান তিনি।  

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত