ববি উপচার্যের পদত্যাগ চেয়ে বাসভবনে তালা

আপডেট : ০৭ মে ২০২৫, ০৮:১৯ পিএম

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ভিসি ড. শুচিতা শরমিনের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে তার বাসভবনের মূল ফটকে তালা দিয়েছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এদিন পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। 

বুধবার (৭ মে) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা অবস্থান ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি পালন করেন ৷ পরে দুপুর ২টায় একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপাচার্যের বাসভবনে গিয়ে তারা ঐ ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয় ৷   

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী বাংলা বিভাগের আশেক এলাহী বলেন, আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ এই উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করে আসছি। কারণ তার কর্মকাণ্ড জুলাই বিপ্লবের সাথে সাংঘর্ষিক৷ তিনি সময়মত বিভিন্ন ফাইলে স্বাক্ষর না করায় বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন নতুন যোগ্য উপাচার্য নিয়োগ না দেওয়া হবে ততক্ষণ পর্যন্ত উপাচার্যের বাসভবনের গেটে তালা ঝুলবে।

মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুম বিল্লাহ বলেন, জুলাই বিপ্লবে যারা শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল, তাদের বিভিন্ন পদে বেছে বেছে পদায়ন করেছেন এই উপাচার্য, আর যারা শিক্ষার্থীদের পক্ষে ছিল, তাদের নানাভাবে হয়রানি ও হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী একজন উপাচার্যের সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে থাকার কথা থাকলেও, আমাদের উপাচার্য বেশিরভাগ সময় অনুপস্থিত থাকেন। ফলে প্রশাসনিক স্থবিরতা তৈরি হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় তার স্বাভাবিক গতিতে পরিচালিত হচ্ছে না। সাত মাসের পর্যবেক্ষণে আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে, বর্তমান উপাচার্যের অধীনে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব নয়।  

এ দিকে চলমান পরিস্থিতির মধ্যে কর্মকর্তাদের একাংশ উপাচার্যকে প্রধান অতিথি করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের একটি সভা করেছেন শিক্ষার্থীরা। সেখানে ভিসি ঘেসা কর্মকর্তাদের একটি অংশ শিক্ষার্থীদের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়াতে দেখা গেছে। 

এছাড়াও ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে শেরে  বাংলা হলের প্রভোস্ট ড. আবদুল আলিম বছির এবং জীবনানন্দ দাশ রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক সঞ্জয় কুমার সরকার তাদের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন। এর আগে গত ২৯ এপ্রিল একই কারণ দেখিয়ে বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান পদত্যাগ করেছে। 

জানতে চাইলে সদ্য পদত্যাগ করা প্রভোস্ট আব্দুল আলিম বছির জানান, আমি ব্যক্তিগত কারন দেখিয়ে আজকে ভিসি দপ্তরে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি। তবে এর পিছনে অনেক কারণ আছে। আমি এখন বলতে চাই না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হলের প্রভোস্ট ও দপ্তরের পরিচালকগণ পদত্যাগ করার কারণ জানতে চাইলে উপাচার্য বলেন, এখানে বেশকিছু বিষয় এক হয়েছে তাদেরও কিছু অভিসন্ধি রয়েছে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে এজন্য তারা এখন পদত্যাগ করছেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী আগের সরকারের আমলের নিয়োগকৃত। তাদের প্রত্যেকের ফ্যাসিস্টের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কারও কম কারও বেশি।

তিনি আরও বলেন, যে বা যারা ইন্ধন দিয়ে আন্দোলন করাচ্ছে তাদের সহজেই ছেড়ে দেওয়া হবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত