অফ স্টাম্পের বাইরের বলে সৌম্য সরকারের একটা দুর্বলতা রয়েছে। উইকেটে সেট হওয়ার আগেই অনেক সময় তিনি বড় শট খেলতে যান। আর বোলারদের এ ধরনের ডেলিভারিতে খেলতে গিয়ে এজ হয়ে আউট হতে দেখা যায় এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানকে। বিশেষ করে সিøপ বা উইকেটকিপারের কাছে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যেতে দেখা যায় তাকে। তার দুর্বলতা অফসাইডে হলেও আরেক বাঁহাতি ব্যাটার নাজমুল হোসেন শান্তর দুর্বলতা আবার লেগ সাইডে। দুজনেই বুধবার কাজ করেছেন এই নিজেদের দুর্বলতা নিয়েই।
সামনেই টানা দুটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ অপেক্ষা করছে বাংলাদেশের জন্য। আগামী ১৭ মে থেকে আমিরাতের বিপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজ হবে শারজাহতে। এছাড়া ২৫ মে থেকে শুরু থেকেই শুরু হচ্ছে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। দুই সিরিজকে সামনে রেখে ৫ মে থেকে শুরু হয়েছে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের অনুশীলন ক্যাম্প। বুধবার তৃতীয় দিনে এই দুই ব্যাটারকে দেখা গেল নিজেদের দুর্বলতা নিয়ে অনুশীলন করতে। নিজেদের অতীতের সব ভুল শুধরে যেতে চান শারজা, ফয়সালাবাদ আর লাহোরে।
সৌম্য সরকারকে ফাস্ট বোলারদের অফ-স্টাম্পের বাইরে সুইং বা সিম মুভমেন্ট করা ডেলিভারি সমস্যায় ফেলে। আবার স্পিনারদের বিরুদ্ধে অনেক সময় ফুটওয়ার্ক ঠিকমতো হয় না, বিশেষ করে লেগ স্পিন বা গুগলি খেলতে গেলে। আসন্ন সিরিজ দুটিতে এই ভুলগুলোর যেন পুনরাবৃত্তি না হয় সেদিকেই পূর্ণ মনোযোগ তার। ক্যাম্পের শুরুর দিন থেকেই তাই দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনের মনোযোগী ছাত্র তিনি।
টি-টোয়েন্টির নেতৃত্ব ছেড়ে দেওয়া শান্ত আবার অনেক সময় লেগ স্টাম্পের দিকে পিচ করা ডেলিভারিতে টাইমিং মিস করেন। কখনো-বা শরীর ঘুরিয়ে খেলার চেষ্টা করেন। স্পিনাররা যদি মিডল-লেগ লাইনে শর্ট লেংথে বল করে, সেখানে শান্ত অনেক সময় বল পড়ে যাওয়ার আগে শরীর ঘুরিয়ে ফেলেন। ফলে শটের ওপর পুরো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। অনুশীলনে তিনি সেই দুর্বলতাগুলো নিয়েই কাজ করেছেন। আসন্ন দুই সিরিজে নিজের সেরাটাই দেওয়ার লক্ষ্য তার।
তাদের অনুশীলনের সময় ছিল ভিন্নতা ও পরিকল্পনার ছাপ। দুই ব্যাটারই এদিন বোলিং মেশিনের সাহায্য নিয়েছেন। তবে মেশিন থেকে আসা বলগুলো ছিল কৃত্রিম স্পিনে মোড়ানো। উইকেটের মাঝ বরাবর রাখা হয়েছিল একটি স্টিলের পাত্র, যাতে মেশিন থেকে বের হওয়া গতিময় ডেলিভারিগুলো সেই পাত্রে পড়ে গিয়ে স্পিন নিতে শুরু করে। স্পিন বোলিং মেশিন না থাকায় গত কয়েক মাস ধরে এভাবেই স্পিন বোলিং অনুশীলনের উপায় বের করেন কোচ সালাহউদ্দিন।
এই কৌশলগত সেটআপেই নিজেদের স্পিন মোকাবিলার দক্ষতা যাচাই করেন শান্ত ও সৌম্য। শান্ত খেলেছেন লেগ সাইড ঘিরে দৃষ্টিনন্দন শট, তুলে মারার আগ্রহও ছিল চোখে পড়ার মতো। অন্যদিকে সৌম্য ছিলেন অফ সাইডে চড়াও, কাভার ও পয়েন্ট অঞ্চলে কয়েকটি নিখুঁত টাইমিংয়ে বড় শট বের করে আনেন তিনি। তবে ডেলিভারিগুলো স্টাম্প বরাবর এলে দুজনকেই দেখা গেছে ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে সামলে খেলতে।
শুধু এই দুজনই নন। তাওহীদ হৃদয়কেও দেখা গেছে অফ সাইডে শট খেলতে। তার ব্যাটিংয়ের সময় আবার পাশে ছিলেন প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। মাঠের মাঝের উইকেটটিতে সদ্য সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়া স্পিনার শেখ মেহেদী হাসান ও হাসান মুরাদ চালিয়ে যান তাদের বোলিং ড্রিল। পুরো অনুশীলন সেশনটি গভীর মনোযোগে পর্যবেক্ষণ করেছেন বাংলাদেশ দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন ও ফিল্ডিং কোচ জেমস প্যামেন্ট।
