পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি স্থানে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ভারত। দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার ও ব্যবস্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানোর দাবি করেছে ভারত। এমন পরিস্থিতিতে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার ঝুঁকির কারণে পাকিস্তানে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ভারত সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লাহোরে একটি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। তবে কীভাবে এই সিস্টেমগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বিবৃতিতে বলা হয়নি।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী বলছে, ভারতের ২৫টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। ধ্বংস করা এসব ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের করাচি, রাওয়ালপিন্ডি, বাহাওয়ালপুরসহ অন্তত ১১টি স্থানে ভারত ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তবে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী ‘উচ্চ সতর্ক’ থাকায় কিছু ড্রোন নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে এবং সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
লাহোরে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেট জেনারেল সব কর্মীদের ‘নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার’ নির্দেশ দিয়েছেন। যেহেতু লাহোর এবং তার কাছাকাছি ‘ড্রোন বিস্ফোরণ’ এবং ‘আকাশসীমায় সম্ভাব্য অনুপ্রবেশের’ খবর রয়েছে।
এদিকে বুধবার রাতে পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি স্থানে ভারত বিমান হামলা চালানোর পর দেশটির বিমান চলাচল বন্ধ হয়। যদিও পরে পাকিস্তান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ (পিএএ) জানায়, পাকিস্তানের সব বিমানবন্দর এবং আকাশসীমা সম্পূর্ণরূপে চালু আছে।
আল জাজিরা জানিয়েছে, ভারতের ড্রোন হামলা পর অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বেশ কয়েকটি সীমান্তবর্তী শহরকে রাতে তাদের আলো বন্ধ করতে বলা হয়েছে এবং লোকজনকেও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ফ্লাইট বন্ধ থাকায় রাস্তায় ব্যাপক আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। লাহোরে সকালে বিস্ফোরণের শব্দে লোকজনের ঘুম ভাঙে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশ কোন দিকে যাচ্ছে তা তারা নিশ্চিত নয়।
এমন উদ্বেগের মধ্যেই পাক-ভারতের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মধ্যে যোগাযোগ হয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে শত্রুতা বাড়তে থাকায় পাকিস্তান ও ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের কার্যালয়ের মধ্যে যোগাযোগ হয়েছে।
