বগুড়ায় চাকরি দেওয়ার নামে হাতিয়ে নিল ৮ লাখ টাকা

আপডেট : ০৯ মে ২০২৫, ১২:৫২ এএম

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় সোনাহাটা আলহাজ কেয়ামতুল্ল্যাহ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামে প্রায় ৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চাকরিপ্রত্যাশীর বাবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ধুনট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একরামুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অভিযোগটি তদন্ত করে যথাসময়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সোনাহাটা আলহাজ কেয়ামতুল্ল্যাহ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নিরাপত্তাকর্মী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে ২০২৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন প্রধান শিক্ষক। তখন ওই বিদ্যালয়ের সভাপতি ছিলেন নিমগাছি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাসিম উদ্দিন। একই এলাকার সরুগ্রামের দুদু মিয়ার ছেলে সোহান মিয়া ওই বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে চাকরির জন্য আবেদন করেন। ওই পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে সোহানের বাবা দুদু মিয়ার কাছ থেকে ১২ লাখ ৮০ টাকা নেওয়া হয়। এর মধ্যে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুজ্জামান জুয়েল ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা, সহকারী শিক্ষক খলিলুর রহমান ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও সভাপতি নাসিম উদ্দিন ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। পরে সোহান মিয়াকে চাকরি দিতে ব্যর্থ হয়ে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক খলিলুর রহমান ৫ লাখ টাকা ফেরত দেন। বিদ্যালয়ের সভাপতি আওয়ামী লীগ নেতা নাসিম উদ্দিন গত ৫ আগস্টের পর থেকে পলাতক রয়েছেন। আর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক টাকা ফেরত দেওয়ার পরিবর্তে দুদু মিয়াকে এক বিঘা জমি চাষাবাদের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু দুদু মিয়া প্রধান শিক্ষকের জমি চাষাবাদ করে ফসল ঘরে তুলতে পারছেন না। এ ঘটনায় দুদু মিয়া বাদী ৫ মে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক ও সভাপতির বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

সোনাহাটা আলহাজ কেয়ামতুল্ল্যাহ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক কামরুজ্জামান জুয়েল টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিমেল রিছিল বলেন, ‘অভিযোগের প্রতিবেদনের আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত