বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে ভারতে স্থগিত হয়ে যাওয়া ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) আবার কবে মাঠে গড়াবে—সে বিষয়ে চূড়ান্ত কিছু বলা যাচ্ছে না। সাবেক ভারতীয় উইকেটরক্ষক দীপ দাশগুপ্তের মতে, 'দেশের আবেগই ঠিক করে দেবে আইপিএল কবে আবার শুরু হবে।'
গত শুক্রবার ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার জেরে এক সপ্তাহের জন্য আইপিএল স্থগিত করে বিসিসিআই। এরপর থেকেই দেশজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগের মধ্যে ক্রিকেট নিয়ে আলোচনা অনেকটাই স্তিমিত হয়ে গেছে।
ইংল্যান্ডসহ বেশ কয়েকটি দেশের খেলোয়াড় ইতোমধ্যেই ভারত ছাড়তে শুরু করেছেন। টুর্নামেন্টের বাকি ১৬টি ম্যাচ আগে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ২৫ মে’র মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল।
'ক্রিকেট ভারতের জন্য যতটা গুরুত্বপূর্ণ, কিছু বিষয় তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ,' বলছিলেন দীপ দাশগুপ্ত বিবিসি স্পোর্টকে। 'গত কয়েক দিনে পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। তাই এই মুহূর্তে আইপিএল স্থগিত রাখাই যৌক্তিক। দেশের আবেগ এখন একেবারে ভিন্ন জায়গায়।'
গত মঙ্গলবার রাতে ভারত ‘অপারেশন সিন্দুর’ নামের এক অভিযানে পাকিস্তানে একাধিক বিমান হামলা চালায় বলে জানায় ভারতীয় সরকার। এর আগে পাকিস্তানকে তিনটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগও আনে নয়াদিল্লি, যদিও ইসলামাবাদ তা অস্বীকার করেছে।
পাকিস্তান দাবি করছে, ভারতীয় বিমান হামলায় তাদের দেশ ও পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে এখন পর্যন্ত ৩১ জন নিহত ও ৫৭ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে গত মাসে ভারত-অধিকৃত কাশ্মীরে ২৬ জন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে, যার দায় পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গিদের ওপর চাপিয়েছে ভারত।
এমন পরিস্থিতিতে দাশগুপ্ত বলছেন, 'পরিস্থিতি ঠিক থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যে আইপিএল ফের শুরু হতে পারে, তবে সেটা বাস্তবসম্মত নয়।'
আইপিএল ফের শুরু হলে কম ভেন্যুতে ম্যাচগুলো গুচ্ছ আকারে আয়োজন এবং ডাবল হেডার বাড়ানোর চিন্তা করা হতে পারে। তবে বিদেশি খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতিতে টুর্নামেন্ট আবার শুরু করাটাও কঠিন হবে বলে মনে করছেন দাশগুপ্ত।
ইতোমধ্যেই ইংল্যান্ডের ১০ ক্রিকেটারের অধিকাংশই ভারত ছাড়ছেন, অস্ট্রেলিয়ানরাও একই পথে হাঁটার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড়রা এখনো ভারতেই রয়েছেন।
তবে আর্থিক দিক বিবেচনায় রেখে বিসিসিআই এবং সম্প্রচার সংস্থা জিওস্টার টুর্নামেন্টটি পরে হলেও শেষ করতে আগ্রহী। ২০২২ সালে আইপিএলের সম্প্রচার স্বত্ব ৬.০২ বিলিয়ন ডলারে বিক্রি করে বিসিসিআই, যা টুর্নামেন্টের আর্থিক গুরুত্ব অনেকগুণ বাড়িয়ে দেয়।
বর্তমানে সেপ্টেম্বর মাসকে বিকল্প সময় ধরে বিবেচনা করা হচ্ছে, যেখানে আগে এশিয়া কাপ হওয়ার কথা ছিল। তবে ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচের সম্ভাবনা না থাকায় সেই টুর্নামেন্ট বাতিল হওয়ার সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে। ফলে আইপিএলের বাকি ম্যাচগুলো তখন আয়োজন করা যেতে পারে।
দীপ দাশগুপ্ত বলেন, 'এই পরিস্থিতিতে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে কথা বলাটাই সংবেদনশীল। ভবিষ্যতে হয়তো সে আলোচনা হবে, কিন্তু এখন এসব খুব তুচ্ছ মনে হয়।'
ইতিমধ্যেই চলতি বছরের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির জন্য পাকিস্তান সফর করতে ভারত রাজি হয়নি। ফলে আইসিসি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এ ধরনের দ্বিপাক্ষিক ম্যাচ নিরপেক্ষ ভেন্যুতে হবে।
তবে অক্টোবরের নারী বিশ্বকাপে—যেখানে পাকিস্তান কোয়ালিফাই করেছে—তাদের ম্যাচও অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি আইসিসি।
এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান সুপার লিগও (পিএসএল) বৃহস্পতিবার আমিরাতে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর একদিনের ব্যবধানে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে।
অবসরের সিদ্ধান্ত বিসিসিআইকে জানিয়ে দিলেন কোহলি
দুবাই সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর এবার স্থগিত পিএসএলও
বাংলাদেশ সফরে আসবে না ভারত, হবে না এশিয়া কাপও!