নিজ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত প্রধান শিক্ষক

আপডেট : ১৩ মে ২০২৫, ১১:২১ এএম

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ময়না ইউনিয়নের ময়না এ সি বোস ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক মোখলেছুর রহমান অরুণকে অপসারণের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে শিক্ষার্থীরা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা গেছে, নিজ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হচ্ছেন ওই শিক্ষক।

জানা গেছে, সোমবার (১২ মে) সকালেই আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষক মিলনায়তনে ঢুকে প্রধান শিক্ষককে কিল-ঘুষি মারে তারা। একপর্যায়ে শিক্ষকরা যখন মিলনায়তনে অবস্থান করছিলেন, তখন বাইরে থেকে তালা মেরে অবরুদ্ধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা। এ সময় ক্লাস বর্জন করে তারা স্কুল চত্বরে বিক্ষোভে নামে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ তুলেছে, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়ম রয়েছে। এর প্রতিবাদে এর আগেও তারা বোয়ালমারী-মোহাম্মদপুর সড়কে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। গত ২৪ এপ্রিল তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হাসান চৌধুরীর কাছে লিখিত অভিযোগও জমা দেয়। ইউএনও জানিয়েছেন, এসএসসি পরীক্ষার পর এ অভিযোগের তদন্ত হবে।

ঘটনার দিন সকালেই শিক্ষকেরা মিলনায়তনে প্রবেশ করলে শিক্ষার্থীরা বাহির থেকে তালা লাগিয়ে দেন। এরপর তারা প্রধান শিক্ষকের বিচারের দাবিতে মিছিল বের করে এবং স্কুলের বাউন্ডারি ঘেরা টিনের বেড়া ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে ময়না ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল হক মৃধা ও থানা পুলিশ এসে তালা খুলে শিক্ষকদের মুক্ত করেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করেন। পরে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জনের কারণে স্কুল ছুটি ঘোষণা করা হয়।

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মৃধা আবুল হাশেম বলেন, “আমরা শিক্ষকরা রুমে ঢুকতেই শিক্ষার্থীরা তালা মেরে দেয়। পরে ইউপি চেয়ারম্যান এসে তালা খোলেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষকের রুমে জোর করে প্রবেশ করে, ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।”

প্রধান শিক্ষক মোখলেছুর রহমান অরুণ বলেন, “স্কুলে গেলে দেখি শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের রুমে তালা দিয়ে রেখেছে। এরপর তারা ক্লাস বর্জন করে।”

ময়না ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হক মৃধা বলেন, “কয়েকজন শিক্ষক ফোন করে জানান, শিক্ষার্থীরা তাদের রুমে আটকে রেখেছে। আমি স্কুলে গিয়ে দেখি, তারা তালাবদ্ধ। পরে পুলিশসহ আমরা তালা খুলে দিই।”

বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, “সংঘাতের খবর পেয়ে আমরা সেখানে যাই। তবে পৌঁছানোর আগেই পরিবেশ অনেকটা শান্ত হয়ে আসে।”

বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হাসান চৌধুরী বলেন, “স্কুলে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তবে পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত