আওয়ামী লীগ নেতার নামে সুইসাইড নোট লিখে তরুণ ঠিকাদারের আত্মহত্যা 

আপডেট : ১৩ মে ২০২৫, ০২:৩৬ পিএম

ফরিদপুর সদর উপজেলার কৈজুরি ইউনিয়নের কৈজুরি গ্রামে নিজ পৈত্রিক বাসভবনের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে নুরুজ্জামান বুলবুল (৪৮) নামে এক তরুণ ঠিকাদার ও ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। সোমবার বিকেল ৪টার দিকে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

বুলবুলের কক্ষ থেকে মৃত্যুর আগে লেখা একাধিক সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে পুলিশ। একটিতে লেখা ছিল—“বিল্লাল ভাই আমাকে আর বাঁচতে দিলেন না।” প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ব্যবসায়িক বিরোধ ও পারিবারিক ঝামেলার কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

নিহত নুরুজ্জামান বুলবুল ছিলেন কৈজুরীর বাসিন্দা ও মরহুম মোজাফফর হোসেন রাঙা মিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র। তার বাবা ছিলেন ফরিদপুরের মুন্সিবাজারের একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। চার বছর আগে তার বাবা মারা যান। গত বছর মা-ও মৃত্যুবরণ করেন। স্ত্রী ও তিন কন্যাসন্তানসহ পৈত্রিক বাসভবনে বসবাস করতেন বুলবুল।

স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, গত রবিবার দুপুরে বুলবুল তিনতলা বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে প্রবেশ করেন। এরপর থেকে আর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। সোমবার বিকেলে পরিবারের সদস্যরা দরজা ভেঙে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান এবং পুলিশে খবর দেন।

নিহত বুলবুল বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ঠিকাদারির কাজ করতেন। সর্বশেষ তিনি বাগেরহাটে একটি মডেল মসজিদ নির্মাণের বড় প্রকল্প শেষ করেন। আওয়ামী লীগের বিগত সরকারের আমলের প্রথম দিকে তিনি পার্শ্ববর্তী হাড়কান্দি গ্রামের বাসিন্দা ও জেলা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক বিল্লাল হোসেনের সঙ্গে যৌথভাবে ঠিকাদারি ব্যবসায় যুক্ত হন। মুন্সিবাজার বাইপাস মোড়ের পাশে দুজনে মিলে কেনা জমিতে চারতলা একটি ভবন নির্মাণ করেন। ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব ছাড়াও বিল্লালের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল বড় ভাই-ছোট ভাইয়ের মতো।

সূত্র জানায়, সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ভাই এবং দুই হাজার কোটি টাকার আলোচিত মানি লন্ডারিং মামলার আসামি খন্দকার মোহতেশাম হোসেন বাবরের মুরগির খামারের ম্যানেজার ছিলেন বিল্লাল হোসেন। ফরিদপুর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে মোশাররফ হোসেনের পতনের পর বিল্লাল আত্মগোপনে চলে যান। পরবর্তীতে তিনি ওই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন এবং পরে জামিনে মুক্তি পান।

নিহতের কক্ষ থেকে উদ্ধার হওয়া চিরকুটে বিল্লালের নাম উল্লেখ থাকলেও আওয়ামী লীগ নেতা বিল্লাল হোসেনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি, কারণ তার সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। নিহতের পরিবারের সদস্যরাও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

জানা গেছে, বুলবুলের স্ত্রী ও তিন কন্যা রয়েছে। তার মেঝো কন্যার প্রথম স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ির পর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফাহিম আহমেদের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। পারিবারিক নানা জটিলতা নিয়ে বুলবুলের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। এ পরিস্থিতিতে তিনি পূর্বেই মেয়েদের নামে কিছু সম্পত্তি লিখে দেন।

লাশ উদ্ধারের সময় একটি চিরকুটে বুলবুল লিখে যান—“আল্লাহ পাক যদি আমার মৃত্যু দেয় তাহলে আমার মেয়েরা যেনো আমার মরামুখ না দেখে, এছাড়া, আমার মায়ের কবরের পাশে যেন আমার কবর দেওয়া হয়।”

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। তিনি বলেন, এটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত