ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী ও স্যার এএফ রহমান হল ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যার বিচার দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঘোষিত অর্ধবেলা ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণাকে বর্জন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক অনুষদ ও রেজিস্ট্রার ভবনের গেটে তালা দেন বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। এতে বাধ্য হয়ে দুপুরের পর সব ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত করে প্রশাসন।
সাম্য হত্যার ঘটনায় বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রধান তিন আসামিকে গ্রেপ্তর করেছে পুলিশ। ঘটনা তদন্তে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ঢাবি প্রশাসন। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় টিএসসিসংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেট স্থায়ীভাবে বন্ধ করার। এ ছাড়া উদ্যানের ভেতরে পুলিশ বক্স স্থাপন, নিয়মিত প্যাট্রলিংসহ বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে উদ্যানকে মাদকমুক্ত করার জন্য।
সারা দেশে ছাত্রদলের কর্মসূচি : সাম্য হত্যার ঘটনায় সারা দেশে বিক্ষোভ ও হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেছে ছাত্রদল। গতকাল সকাল থেকেই ঢাবি, জাহাঙ্গীরনগর, জগন্নাথসহ প্রায় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়; ঢাকা, চট্টগ্রাম, রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট, রাজশাহী, বরিশাল, খুলনাসহ প্রতিটি জেলা শহর, বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে সাম্য হত্যার বিচার চেয়ে বিক্ষোভ করে তারা। বিক্ষোভ সমাবেশগুলোতে শিক্ষার্থীরা সাম্য হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
জাবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন বাবর বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস হচ্ছে একজন ছাত্রের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ স্থান। এ পবিত্র স্থানে আমাদের ভাই সাম্যকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। প্রশাসনের নির্লিপ্ততার কারণে আজকে ক্যাম্পাসে লাশ পড়ছে। আমরা অবিলম্বে সাম্য হত্যার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের দাবি জানাচ্ছি এবং ঢাবি উপাচার্য ও প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করছি।
ঢাবির অ্যাকাডেমিক-প্রশাসনিক ভবনে তালা : গতকাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অর্ধবেলা ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রাখা হয়। তবে দুপুর ১২টার দিকে ‘সন্ত্রাসবিরোধী শিক্ষার্থীরা’ ব্যানারে বিক্ষোভ করলে সেখানে ছাত্রদল ও বাম সংগঠনের নেতাকর্মীরা যোগ দেন। পরে তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিভিন্ন অনুষদের সামনে যান এবং সামাজিক বিজ্ঞান, কলা, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ, রেজিস্ট্রার ভবন, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন।
এদিকে সব অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়ায় পরীক্ষা শুরুর অনিশ্চয়তা দেখা দিলে বাধ্য হয়ে গতকাল পূর্ণদিবস ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দেয় ঢাবি প্রশাসন। জনসংযোগ দপ্তরের পাঠানো এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আইইআর ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী সাম্যর মৃত্যুতে আজ (গতকাল) শোক দিবস পালিত হচ্ছে এবং দুপুর ১টা পর্যন্ত অর্ধদিবস বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় আজকে পূর্ণদিবস সব ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। স্থগিত পরীক্ষার সময়সূচি পরে জানানো হবে।
ছাত্রদল নেতা সাম্য হত্যায় ব্যর্থতার দায়ে ঢাবি উপাচার্য ও প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, (ছাত্রফ্রন্ট বাসদ), গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটসহ বেশ কয়েকটি বাম সংগঠন।
সাম্য হত্যায় রাজনৈতিক কারণ আছে : এদিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সাম্যকে হত্যার পেছনে কী কারণ ছিল, কী অন্যায় করেছিল সাম্য? পুলিশ গ্রেপ্তার করেছেন তিনজনকে, তারা ভবঘুরে। আমার তো মনে হয় এর মধ্যে রাজনৈতিক কারণ আছে। রাজনৈতিক কারণ না থাকলে সাম্যর মতো একজনকে কে হত্যা করবে? ভবঘুরেরা তাকে কেন হত্যা করবে? জাতীয় সংগীতের বিরোধী যারা, তাদের বিপক্ষে সাম্যের অবস্থান ছিল, তাই কি তাকে হত্যা করা হলো? শিক্ষাঙ্গনে কেন রক্ত ঝরবে? ক্যাম্পাসে কেন রক্ত ঝরবে?
‘সাম্য হত্যার পেছনে রাজনৈতিক কারণ আছে’ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যাকাণ্ডের পেছনে ‘রাজনৈতিক কারণ’ আছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, ‘এখনো কেন ক্যাম্পাসে লাশ পড়ছে, কেন ক্যাম্পাসে রক্ত ঝরছে, রক্তের আলপনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের ভেতরে? এখন তো আওয়ামী দোসররা নেই। এখন যারা ক্ষমতায় আছেন তাদের যারা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন তারা সমর্থন করেছে। এখন কেন লাশ পড়বে? সাম্য ছাত্রদলের এফ রহমান হলের একটি সম্পাদকীয় পদে রয়েছে। কী কারণ ছিল? কী অন্যায় করেছিল সাম্য? পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে তিনজন ভবঘুরে। আমরা তো মনে করি এর পেছনে রাজনৈতিক কারণ আছে। রাজনৈতিক কারণ না থাকলে এই ধরনের সুদর্শন সাম্যকে হত্যা করবে কে? ভবঘুরেরা কেন হত্যা করবে?
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরামের উদ্যোগে সিরাজগঞ্জের কৃতি শিক্ষার্থী ছাত্র দলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যার বিচারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে রিজভী এ কথা বলেন।
শাহরিয়ার আলম সাম্যের ফেসবুকে দেওয়া পোস্টের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘কয়েক দিন আগে সে ফেসবুকে একটা পোস্ট দিয়েছে। কারণ শাহবাগে জাতীয় সংগীত বন্ধের জন্য একটা আন্দোলন চলছিল। তার বিরুদ্ধে সে একটা পোস্ট দিয়েছে জাতীয় সংগীতের পক্ষে। যারা জাতীয় সংগীতের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে ছিল তাদের বিরুদ্ধে তার একটা বার্তা ছিল। এটাই কী কারণ? আমরা দেখেছি, ফ্যাসিবাদীর আমলে পার্শ্ববর্তী দেশের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে, পানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে আরবারকে হত্যা করা হয়। আজকে জাতীয় সংগীত, জাতীয় পতাকা, একাত্তরে আমাদের স্বাধীনতার পক্ষে কথা বললে পরে তার জীবন চলে যায়। আমি এজন্য বলেছি, নিশ্চয়ই এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক কারণ আছে।’ তিনি বলেন, ‘আমি অবিলম্বে সাম্যকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, তার রাজনীতি শত্রু কারা, একটু আভাষ পাচ্ছি। এই রাজনৈতিক শত্রুদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে তাদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসুন। তা না হলে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে।’
রিজভী বলেন, ‘আমি পুলিশ বিভাগকে বলব, ভালো করে খতিয়ে দেখুন। ভবঘুরে গ্রেপ্তার করেছেন। মানুষ কিন্তু সব বিষয় সহজভাবে নেয় না। সহজভাবে নিত যদি এই পুলিশ বিভাগটি সব সময় সত্য এবং ন্যায় অনুসন্ধান করে যথাযথ ব্যবস্থা নিত। যেমন আবরার হত্যাকাণ্ডে নেননি, এমনি আরও অনেক ঘটনায় নেননি। আজকে পরবর্তী পরিস্থিতি ফ্যাসিস্ট হাসিনা নেই। রক্ত পাত হওয়ার কথা নয়। এই জানুয়ারি মাসেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তোফাজ্জল নাম এক যুবককে হত্যা করা হয়েছিল। কেন ক্যাম্পাস হবে রক্ত পাতের একটি জায়গা?’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘ভাইস চ্যান্সেলন সাহেব আপনার কাছে বিচার চাইতে গিয়েছিল ছাত্রদল নেতারা। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সাম্য মারা গেছে। আপনি বিরক্ত হয়েছেন, ক্ষুব্ধ হয়েছেন, তুই-তোকারি করেছেন। কেন? আপনি শুনতে চান না। কারণ সাম্য ছাত্রদল করে। আপনার (ভিসি) রাজনৈতিক চিন্তা-দর্শন কী আমরা জানি। আপনি পছন্দ করেন না যারা জাতীয়তাবাদীর পক্ষের ওখানে রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে যারা ছাত্র সংগঠন করে। আপনি ও আপনার প্রক্টর দুজনই একটি আদর্শে বিশ্বাস করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্র্তৃপক্ষ যদি নদীর বালু চর দখল নেয় না সেই চর দখলের মতো যদি আপনারা কোনো গ্যাংয়ের প্রধান হন তাহলে ওটা তো বিশ্ববিদ্যালয় বলা যাবে না।
রিজভী বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার আমরা জানি না কাদের প্রতিনিধিত্ব করছেন? আপনাদের আমরাও সমর্থন করেছি, এখনো করে যাচ্ছি। এই তিন-চার দিন আগেই দেখলাম, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে যারা গেলেন, তাদের সাদরে বরণ করলেন। আর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেরা তাদের আবাসনের জন্য গেলে তাদের আপনারা উপহার দিলেন লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড। আপনারা নাকি সবাই সুশীল সমাজ, আপনারা জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তি। কিন্তু আপনাদের আচরণে মধ্যে এই দ্বিচারিতা কেন? বিভাজন কেন? ডানে-বামে সব দিকে তাকিয়ে যথাযথভাবে দেশ শাসন করুন। নইলে কেউ রক্ষা পাবেন না। কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দল বা কোনো আদর্শকে প্রতিষ্ঠিত করতে গেলে আপনাদের কিন্তু জনগণ ধরে ফেলবে।’
মানববন্ধনে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমনসহ উত্তরবঙ্গ ছাত্র ফোরামের নেতারা বক্তব্য রাখেন।
মায়ের কবরের পাশে শায়িত হলেন সাম্য : মায়ের কবরের পাশেই শায়িত হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার সাম্য। বুধবার রাত ১০টার দিকে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়নের প্রত্যন্ত সড়াতৈল গ্রামের মায়ের কবরের পাশে তার মরদেহ দাফন করা হয়। এর আগে রাত পৌনে ১০টার দিকে স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে তার দ্বিতীয় জানাজার নামাজ হয়।
এলাকাবাসী জানান, স্কুল জীবন থেকে শুরু করে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বরাবরই অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন শাহরিয়ার আলম সাম্য (২৫)। বাল্যকালে অত্যন্ত শান্তশিষ্ট এবং নম্রভদ্র ছিলেন বলেই তাকে স্বজন ও প্রতিবেশীরা চিনতেন। এক যুগের বেশি সময় ধরে পরিবারের সঙ্গে তিনি ঢাকায় বসবাস শুরু করেন। প্রতিটি সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিবারের সঙ্গে গ্রামে আসতেন সাম্য। হঠাৎ তার মৃত্যুর খবরে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা।
বুধবার সকাল থেকে দাফনের আগ পর্যন্ত বেলকুচি উপজেলার সড়াতৈল সাম্যের গ্রামের বাড়িতে শতশত আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী এসে ভিড় করেন। এ সময় অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন। রাত ১০টার দিকে সড়াতৈল ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে জান্নাতুল বাকী কবরস্থানে মা ও দাদির কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় সাম্যকে।
জানাজা নামাজে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা মোস্তফা জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি জুনায়েদ হোসেন সবুজ, সাধারণ সম্পাদক সেরাজুল ইসলাম সেরাজ সহ বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতারা বক্তব্য রাখেন।
গত মঙ্গলবার রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্ত মঞ্চের পাশে মোটরসাইকেলে ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে নিহত হয় শাহরিয়ার আলম সাম্য। তিনি সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়নের সড়াতৈল গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত বিসিসিআই কর্মকর্তা ফখরুল আলম ফরহাদের ছেলে। সাম্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি স্যার এএফ রহমান হলের ২২২ নম্বর কক্ষে থাকতেন। তিনি ওই হল শাখা ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদকের দায়িত্বেও ছিলেন।
সাম্যের প্রতিবেশী নূরনবী সরদার, দুলু সরদার ও কবিরসহ অনেকেই বলেন, সাম্যের মৃত্যুতে আত্মীয়-স্বজন ছাড়া প্রতিবেশীরা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। এমন একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর অস্বাভাবিক মৃত্যু সহজে কেউ মেনে নিতে পারছেন না। তারা বলেন, সাম্যকে আমরা অত্যন্ত ভদ্র ও শান্ত ছেলে হিসেবেই দেখেছি। তাকে কেউ এ ভাবে খুন করতে পারে সেটা ভাবাই যায় না। সাম্যের বড় ভাই আহসান হাবিব বলেন, ওর সম্পর্কে কিছু বলতে পারছি না। সে অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিল। উল্লাপাড়া মোমেনা আলী বিজ্ঞান স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেছেন। এরপর ঢাকায় এইচএসসি পাস করে ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। ও আমাদের সবার অনেক আদরের ছোট ভাই। ওকে এ ভাবে হারাতে হবে ভাবতেও পারিনি।
বেলকুচি থানার ওসি মো. জাকারিয়া বলেন, নিহত ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্যের মরদেহ রাত পৌনে ৮টার দিকে গ্রামের বাড়িতে এসে পৌঁছায়। রাত ১০টার দিকে তার জানাজা শেষে সড়াতৈল জান্নাতুল বাকী কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।
