টানা বৃষ্টিতে বেড়েছে মাছ ধরার সরঞ্জাম বিক্রি

আপডেট : ১৭ মে ২০২৫, ০৪:৩৩ পিএম

চলছে জ্যৈষ্ঠ মাস। বর্ষা শুরুর আগে গত কয়েক দিন ধরে অব্যাহত বৃষ্টি। খাল-বিল ও জলাশয়ে বাড়তে শুরু করেছে পানি। নতুন পানি পেয়ে মাছের ঝাঁকের বিচরণ শুরু হয়েছে। পানি বাড়ার সাথে সাথে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় মাছ ধরার সরঞ্জাম বিক্রি বেড়েছে। দেশীয় বাঁশ-বেত দিয়ে মাছ ধরার ফাঁদ তৈরির কারিগররা এবং ঘরের নারীরা অবসরে এসব উপকরণ তৈরি করে বাড়তি আয় করছেন। অন্যদিকে পেশাদার ও মৌসুমী জেলের পাশাপাশি অনেকে এসব সরঞ্জাম দিয়ে মাছ ধরে পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাজার বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করছেন।

অঞ্চলভেদে মাছ ধরার এসব দেশীয় সরঞ্জামাদিকে বিভিন্ন নামে ডাকা হয়। যেমন ঝাঁকি জাল, টানা জাল, ঠেলা জাল, পলো, পেতে রাখা জাল, বাইড়, মুছনা ও বড়শি। সাধারণত ফাঁদে ধরা পড়ে ট্যাংরা, চিংড়ি, টাকি, চান্দা, পুঁটি, গুতুম, বাইম মাছ ও রুই, কারফু, ছোট কাতল, শোল মাছসহ বিভিন্ন মাঝারি এবং বড় প্রজাতির মাছ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে নদী, নালা ও পুকুর-ডোবাসহ নিম্নাঞ্চলের মাটিতে বর্ষার আগেই পানি বাড়তে শুরু করেছে। এসব পানিতে বিভিন্ন নদ-নদী, পুকুর ডোবা থেকে ভেসে আসছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। এ সুযোগে স্থানীয় লোকজন মাছ ধরতে দেশীয় সরঞ্জাম কিনতে বাজারে ভিড় করছেন। 

দুই দিন ধরে (শনি ও শুক্রবার) উপজেলার পৌর বাজার, আঠারবাড়ি রায়ের বাজার, উচাখিলা ও মাইজবাগ বাজার ঘুরে দেখা গেছে- মাছ ধরার বিভিন্ন সরঞ্জামাদি নিয়ে বসে আছে কারিগররা। পেশাদার ও শৌখিন মাছ শিকারিদের আনাগোনায় জমে উঠেছে বাজার। আকার ও  প্রকারভেদে ১০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন মাছ ধরার উপকরণ বিক্রি হচ্ছে। 

পেশাদার ও শৌখিন মাছ শিকারিদের আনাগোনায় জমে উঠেছে বাজার

সরঞ্জাম কিনতে আসা পৌর এলাকার নয়ন মিয়া বলেন, আমাদের গ্রামের আশপাশে আবাদি জমি ও ছোট ছোট ডোবা-নালায় পানি বাড়তে শুরু করেছে। আর সেখানে দেখা মিলছে বিভিন্ন জাতের দেশি মাছ। আমি বর্ষাকাল শুরু হলেই মাছ ধরি, এটা আমার নেশা। তাই মাছ ধরার জন্য পলো কিনতে এসেছি।

মুছনা কিনতে আসা উপজেলার দত্তপাড়া গ্রামের হাবিবুল্লাহ বলেন, বৃষ্টির সিজনে পানি বাড়লে বিল থেকে নিজ হাতে মাছ শিকার করি। এতে বাজার থেকে মাছ কিনতে হয় না। এ মাছের যেমন পুষ্টি তেমনি ঢেকুর তোলা স্বাদ।

ঈশ্বরগঞ্জ পৌর বাজারে মাছ ধরার সরঞ্জাম বিক্রেতা আব্দুল হাই বলেন, গত কয়েক টানা বৃষ্টিতে খাল-বিলে পানি বেড়েছে। এতে আমাদের বিক্রিও বেড়েছে। দৈনিক ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার সরঞ্জামাদি বিক্রি করতে পারি। ফলে ৫০০ থেকে ১ হাজার লাভ হয়। আর সাপ্তাহিক হাটের দিনগুলোতে আরও বেশি সরঞ্জাম বিক্রি হয়। 

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম বলেন,গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে উপজেলার জলাশয়-বিলে ইতিমধ্যে পানি বাড়তে শুরু করেছে। এর সঙ্গে জলাশয়গুলো ভরে উঠেছে দেশীয় জাতের ছোট-বড় মাছে। মাছ শিকার করছেন বিলপাড়ের জেলে ও শৌখিন মাছ শিকারিরা। কিন্তু নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল ব্যবহার করে কেউ যদি দেশীয় মাছের বংশ বিস্তার হুমকিতে ফেলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত