যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় ঘরের ভেতরে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় একই পরিবারের তিন শিশু আহত হওয়ার পর সোমবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে পাঁচ বছর বয়সী খাদিজা। তার ভাই সজিবের একটি হাত অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কেটে ফেলতে হয়েছে।
সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বিস্ফোরণের এই ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে খাদিজা ও তার ভাই সজিবকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছিল। পথে নড়াইল এলাকায় পৌঁছানোর পর খাদিজার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন তাদের মা সুমি খাতুন।
ঘটনার পরপরই যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন ঘটনাস্থলে যান। তিনি জানান, আহত শিশুদের যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বিস্ফোরিত বস্তুটি শিশুটি বাইরে থেকে কুড়িয়ে এনে ঘরে খেলতে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটায়। তবে সেটি ঘরে আগে থেকেই ছিল কিনা, নাকি বাইরে থেকে আনা—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেশী আক্তারুল ইসলাম জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে শাহাদতের বাড়িতে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন, তিন শিশু রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছে। সঙ্গে সঙ্গেই আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, সকালে সবুজ নামের একটি শিশু বাড়ির পাশের মাঠে খেলছিল। সেখান থেকে সে টেপ মোড়ানো একটি কৌটা কুড়িয়ে পায়। বাসায় ফিরে সে কৌটা দিয়ে দুই বোনের সঙ্গে বলের মতো খেলতে গেলে সেটি বিস্ফোরিত হয়।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শরিফুল ইসলাম রঞ্জু জানান, বিস্ফোরণের আঘাতে খাদিজার পেটের নাড়িভুড়ি ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। সজিবের একটি হাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তা কেটে ফেলতে হয়েছে। পরে দু’জনের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত ঢাকায় পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল হাসনাত জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে উপস্থিত রয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
বীরগঞ্জে মাইক্রোবাস ও ট্রাক সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৪
ভারতের নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আখাউড়া স্থলবন্দরে