ভারতের নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আখাউড়া স্থলবন্দরে

আপডেট : ১৯ মে ২০২৫, ১২:৫৩ পিএম

ভারত সরকারের সাম্প্রতিক আমদানি নিষেধাজ্ঞায় আখাউড়া স্থলবন্দরের রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত খাবারসহ কয়েকটি পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারির ফলে এ বন্দর দিয়ে রপ্তানি অন্তত ৩০ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ টাকার রপ্তানি ব্যাহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ছয়টি পণ্যের মধ্যে চারটি পণ্য নিয়মিত রপ্তানি হতো আখাউড়া বন্দর দিয়ে—যা এখানকার রপ্তানি আয়ের একটি বড় অংশ। ইতোমধ্যে এর নেতিবাচক প্রভাব দৃশ্যমান হয়েছে বন্দরে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সাল থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়। শুরু থেকেই এ বন্দরটি আমদানির চেয়ে রপ্তানিমুখী বন্দর হিসেবে পরিচিতি পায়। ভারতের সেভেন সিস্টার্স অঞ্চলের দুর্বল অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে তারা বাংলাদেশের পণ্যের ওপর নির্ভর করত। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সে অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়নের কারণে রপ্তানি কিছুটা কমে আসে।

বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে দেড় কোটি টাকার হিমায়িত মাছ, প্লাস্টিক, ভোজ্যতেল, তুলা, পিভিসি সামগ্রী, রড ও সিমেন্টসহ কয়েক ধরনের পণ্য ভারতে রপ্তানি হয়, যার মধ্যে হিমায়িত মাছই সবচেয়ে বেশি।

তবে গত শনিবার ভারত সরকার বাংলাদেশ থেকে কিছু পণ্যের আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এর পরদিন গতকাল রবিবার মাত্র ১০টি ট্রাক হিমায়িত মাছ ও ভোজ্যতেল ভারতে রপ্তানি হয়—যা স্বাভাবিকের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা কোনো পণ্য সে দিন রপ্তানি হয়নি।

ভারতের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক, প্রক্রিয়াজাত খাবার, কাঠের ফার্নিচার, ফল ও ফলের স্বাদযুক্ত জুস, প্লাস্টিক ও পিভিসি সামগ্রী এবং তুলা। এর মধ্যে তৈরি পোশাক ও কাঠের ফার্নিচার ছাড়া বাকি সবকটি পণ্যই আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে নিয়মিত রপ্তানি হতো।

আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ বন্দর দিয়ে ভারতে ৪২৭ কোটি ৮৮ লাখ ৭২ হাজার ৪৩০ টাকার পণ্য রপ্তানি হয়েছে। চলতি অর্থবছরে গেল এপ্রিল পর্যন্ত রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৫৩ কোটি ১ লাখ ৯৬ হাজার ৭৯৩ টাকা। রপ্তানি পণ্যের তালিকায় রয়েছে হিমায়িত মাছ, রড, সিমেন্ট, প্লাস্টিক, ভোজ্যতেল, তুলা, প্রক্রিয়াজাত খাবার, মেলামাইন সামগ্রী ও শুঁটকি।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, হিমায়িত মাছের পর সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয় প্লাস্টিক ও পিভিসি সামগ্রী, চিপস, বিস্কুট, ফলের স্বাদযুক্ত জুস এবং তুলা। প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ টাকার এসব পণ্য রপ্তানি হত ভারতে। ফলে এইসব পণ্যে নিষেধাজ্ঞা জারির কারণে রপ্তানি বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ব্যবসায়ীদের ধারণা, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণেই ভারত সরকার আমদানি সীমিত করেছে। এ পরিস্থিতি দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

আখাউড়া স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি নিসার উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, “রপ্তানির তালিকা এমনিতেই সীমিত। যেসব পণ্যের ওপর রপ্তানি আয় অনেকাংশে নির্ভর করে, সেগুলোতেই নিষেধাজ্ঞা আসায় আয়ে বড় ধাক্কা লাগবে। দ্রুত ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হওয়া জরুরি।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আখাউড়া স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, “ভারতের নিষেধাজ্ঞার ফলে স্বাভাবিকভাবেই রপ্তানি বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে, আয় ও রাজস্ব কমবে। তবে এখনও এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো অফিসিয়াল চিঠি আসেনি।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত