দলে খেলোয়াড়ের সংখ্যা না কমালে আগামী মৌসুমে ম্যানচেস্টার সিটির কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি দিয়েছেন পেপ গার্দিওলা। তার সাফ কথা—প্রতিটি ম্যাচে কয়েকজন ফিট ফুটবলারকে স্কোয়াডের বাইরে রাখার মানসিক যন্ত্রণা তিনি আর সইতে চান না।
বর্মিংহামের বিপক্ষে মৌসুমের শেষ হোম ম্যাচে ৩-১ ব্যবধানে জয়ের দিনে স্কোয়াডে ছিলেন না রিকো লুইস, সাভিনহো, আবদুকোদির খুসানভ, জেমস ম্যাকঅ্যাটি ও ক্লদিও এগেভেরি। ম্যাচশেষে গার্দিওলা স্পষ্ট করেই জানিয়ে দেন—ফিট খেলোয়াড়দের বাইরে রাখা তাঁকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে।
গার্দিওলা বলেন, ‘আমি ক্লাবকে আগেই বলেছি—আমি বড় স্কোয়াড চাই না। আমি চাই না পাঁচ-ছয় জন খেলোয়াড়কে 'ফ্রিজে' রাখতে। আমি এমনটা চাই না। যদি এমন পরিস্থিতি হয়, আমি সরে দাঁড়াব। দল ছোট রাখো, তাহলেই আমি থাকব।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমার আত্মার পক্ষে সহ্য করা অসম্ভব যে আমি কোনো খেলোয়াড়কে ট্রিবুনে বসিয়ে বলব—তুমি খেলতে পারবে না। কিছু মাস আমাদের রীতিমতো ১১ জন মাঠে নামানো কঠিন হয়ে পড়েছিল, ডিফেন্ডারই ছিল না। এরপর সবাই ফিরেছে, কিন্তু আগামী মৌসুমে এমনটা চলতে পারে না। একজন কোচ হিসেবে আমি ২৪ জনকে একসঙ্গে অনুশীলন করাতে পারি না, আর এরপর প্রতিটি ম্যাচে চার-পাঁচজনকে ম্যানচেস্টারে বসিয়ে রাখতে হয় কারণ তারা খেলতে পারবে না—এটা চলবে না। আমি ক্লাবকে বলেছি, আমি এটা চাই না।’
এই মৌসুম শেষে ম্যানসিটি ছাড়ছেন কেভিন ডে ব্রুইনে। আপাতত এটাই একমাত্র নিশ্চিত বিদায়। তবে আরও কিছু খেলোয়াড় চলে যেতে পারেন কিনা—এমন প্রশ্নে গার্দিওলা বলেন, ‘এটা ক্লাবের সিদ্ধান্ত। আমি ২৪, ২৫, ২৬ জন খেলোয়াড় চাই না, যদি না ইনজুরি হয়। ইনজুরি হলে অ্যাকাডেমি থেকে কিছু খেলোয়াড় নিয়ে আসা যায়। তবে স্কোয়াডের আবেগ, দলের আত্মা, খেলোয়াড়দের পারস্পরিক বন্ধন—এসব রক্ষা করা কঠিন হয়ে যায় এত বড় দলে।’
এদিকে, সিটির জার্সিতে নিয়মিত না খেলতে পারায় দল ছাড়তে পারেন জ্যাক গ্রিলিশও। প্রিমিয়ার লিগে চলতি মৌসুমে মাত্র সাতটি ম্যাচে শুরু থেকে সুযোগ পেয়েছেন তিনি। একাধিক ক্লাব তার প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে।
তার ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে গার্দিওলা বলেন, ‘আমি ওর সঙ্গে কথা বলিনি। অনেকে বিশ্বাস করবে না, কিন্তু এসব বিষয় ক্লাব, খেলোয়াড়ের এজেন্ট, টিকি (বেগিরিস্তাইন) আর এই ক্ষেত্রে হুগো (ভিয়ানা)-এর মধ্যকার ব্যাপার। ওরাই সিদ্ধান্ত নেবে। তবে ওকে ফিরে এসে আবার মাঠে সময় কাটাতে হবে। শুধু জ্যাকই নয়, আমার দলে এমন কেউ নেই—বরং বিশ্বজুড়ে কোনো ড্রেসিংরুমেই নেই—যে না খেলে খুশি থাকে। যখন দল জেতে, তখন সবাই পরিস্থিতি মেনে নেয়। কিন্তু খেলতে না পারলে কেউই সন্তুষ্ট থাকে না। সেটাই স্বাভাবিক।’
রিপনের জোড়া আঘাতের পর ১৫৯ রানে এগিয়ে বাংলাদেশ
নাইম-বিজয়ের আক্ষেপের পর মিরপুরের বৃষ্টির দাপট