১৯ লাখ টাকার হদিস নেই

আপডেট : ২৫ মে ২০২৫, ০৭:৪৪ এএম

খুলনা সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের ১৯ লাখ ২৬ হাজার টাকার হদিস মিলছে না। গত ২২ মার্চ সংস্থাটির প্রভিডেন্ট ফান্ড যাচাইয়ের দাখিলকৃত আংশিক প্রতিবেদনে বিষয়টি ধরা পড়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনে গড়মিল হওয়া অর্থের পরিমাণ আরও বড় অঙ্কে গিয়ে দাঁড়াবে। যা নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বিরাজ করছে ক্ষোভ ও অসন্তোষ।

করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, করপোরেশনের প্রভিডেন্ট ফান্ডের (পিএফ) আওতায় ৬২৭ জন স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিক রয়েছেন। চাকরিবিধি অনুযায়ী প্রতি মাসে এসব কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের বেতনের ১০ শতাংশ প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমা হয়। একই সঙ্গে করপোরেশন থেকে সমপরিমাণ অর্থ্যাৎ ১০ শতাংশ অর্থও ফান্ডে জমা হয়। চাকরি থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকরা অবসরে গেলে তার অ্যাকাউন্টে জমাকৃত অর্থ এককালীন পরিশোধ করা হয়।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ২ অক্টোবর করপোরেশনের হিসাব বিভাগের হিঃ/ ২০২৪-২৫/১৭০ নম্বর স্মারকে প্রভিডেন্ট ফান্ড ও কল্যাণ তহবিল যাচাইয়ের জন্য বাজেট কাম অ্যাকাউন্টস অফিসারের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন হয়। উক্ত কমিটি ২২ মার্চ করপোরেশনে আংশিক অডিট প্রতিবেদনে দাখিল করেছে।

দাখিলকৃত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, তহবিলের ৬২৭ জন কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকদের মধ্যে ১৪০ জনের পূর্ণাঙ্গ ও ১৬৮ জনের আংশিক অর্থাৎ মোট ৩০৮ জনের পিএফ হিসাব যাচাই হয়েছে। যাচাইয়ে ৩০৮ জনের মধ্যে ৬৮ জনের  প্রভিডেন্ট ফান্ডের হিসাবে ১৯ লাখ ২৬ হাজার টাকার গরমিল ধরা পড়ে। তবে বাকি ৩১৯ জনের পিএফ যাচাই অসমাপ্ত রয়েছে। পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রদান করা হবে। ফলে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রদান করা হলে গরমিলের টাকা আরও ব্যাপক পরিমাণে বাড়বে।

এ ছাড়া অডিট নিরীক্ষায় রাজস্ব টিকিট সঠিক নিয়মে ব্যবহৃত না হওয়া ও রেজিস্ট্রার লেখনী ও সংরক্ষণে অস্বচ্ছতা পরিলক্ষিত হয়েছে। ফলে স্বচ্ছতা আনতে ব্যাংকের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন ও বার্ষিক অডিট নিরীক্ষার সুপারিশ করা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে করপোরেশনের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী দেশ রূপান্তরকে জানান, করপোরেশনে প্রতিবছরই নিজস্ব ও সরকারি অডিট হয়। তবে হিসাব শাখা ও প্রভিডেন্ট ফান্ডে কোনো বছরই অডিট হয়নি। সঙ্গত কারণেই অর্থের গড়মিল ও দুর্নীতি ধরা পড়েছে। এ ছাড়া প্রভিডেন্ট ফান্ড পরিচালনায় যেসব কর্মকর্তার স্বাক্ষর রয়েছে তাদের তদারকির অভাব রয়েছে। ফলে এ দায় তাদের ওপরও বর্তায়। তাদের গাফিলতির কারণেই আজ বিপাকে পড়ছে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকরা।

তবে করপোরেশনের বাজেট কাম অ্যাকাউন্টস অফিসার মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ইতিমধ্যে তহবিলের দায়িত্বে থাকা হিসাব সহকারী শংকর কুমার দেবনাথ অভিযোগকৃত টাকা দায় স্বীকার করেছেন। ফলে করপোরেশন তার আনুতোষিক ভাতা ও বেতন স্থগিত করে টাকা সমন্বয় করা হবে। তারপরও গরমিলকৃত টাকা পূরণ না হলে তার বিরুদ্ধে মামলা করে টাকা উদ্ধারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত