৩২ সরকারি দপ্তরের বিরুদ্ধে ১৪২ অভিযোগ, গণশুনানিতে ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ

আপডেট : ২৫ মে ২০২৫, ০৮:২১ পিএম

খুলনায় ৩২টি সরকারি দপ্তরের বিরুদ্ধে ২৩টি গণশুনানী অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে এই গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। গণশুনানিতে দপ্তরে দপ্তরে অনিয়ম-দুনীতির ও হয়রানির তথ্য তুলে ধরে ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করেন ভুক্তভোগীরা। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা যায়, দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারুণ্যের একতা, গড়বো আগামীর শুদ্ধতা’ এই স্লোগান নিয়ে সেবা বঞ্চিত ও হয়রানির শিকার নাগরিকদের অভিযোগ সরাসরি শুনতে গণশুনানির আয়োজন করে দুদক। গণশুনানিতে সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি), খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ), খুলনা জেলা পরিষদ, ও খুলনা ওয়াসা, জেলা নির্বাচন কার্যালয়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকে), পরিবেশ অধিদপ্তর, কর অফিস, সড়ক ও জনপথ (সহজ), ডাচবাংলা ব্যাংক, বন বিভাগ, খুলনা সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিস ও যুব উন্নয়নসহ ৩২টি সরকারি দপ্তরের বিরুদ্ধে ১৪২টি অভিযোগ জমা পড়ে। এরমধ্যে ৬৬টি অভিযোগের শুনানির সিদ্ধান্ত হয়। 

তবে গতকাল রবিবার শিল্পকলা একাডেমীতে ২৩টি গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ জমা পড়ে কেসিসি, খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতাল, খুলনা বিআরটিএ, খুলনা জেলা পরিষদ ও জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের বিরুদ্ধে। 

গণশুনানিকালে সুজিৎ পাল নামে একজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর বাজারে দোকান ঘর বরাদ্দ দেওয়ার নামে তার কাছ থেকে ৯ লাখ টাকা গ্রহণ করেন জেলা পরিষদের কর্মকর্তারা। এরপর তাকে দোকান ঘর না দিয়ে তার সঙ্গে তালবাহানা করা হয়। একপর্যায়ে তাদের পছন্দের একজনের সঙ্গে তাকে যোগাযোগ করতে বলা হয়। তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ২৫ লাখ টাকা দাবি করে। তখন পূর্বের দেওয়া ৯ লাখ টাকা ফেরত চাইলে তাকে দোকান ঘর ও টাকার কোনোটিই দেওয়া হয়নি। উল্টো তাকে ভয় দেখানো হয়।

সিটি কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে তানজিল নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, বাসাবাড়ির ধার্যকৃত কর রিভিউর নামে তার পরিবারের কাছে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করা হয়।

জাহাঙ্গীর আলম, সাঈদুর রহমান ও আসলাম শেখ অভিযোগ করেন, ৩ বছর আগে লাইসেন্সের জন্য বিআরটিএ’র কাছে আবেদন করেন তারা। কিন্তু এখনো লাইসেন্স
পাননি। শুধু লার্নারের ডেট বাড়ানোর নামে তিন বছর ধরে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে। 

গণশুনানিতে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে দুদক কর্তৃক তাৎক্ষণিক তদন্ত করার নির্দেশ বা উপযুক্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া সরকারি বিভিন্ন দফতরকে তদারকি করতে জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন কর্তাব্যক্তিদের নির্দেশনা দেন দুদক কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় দুদক কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী বলেন, দুর্নীতি অতীতেও হয়েছে এবং দুর্নীতি যারা করেছে তারা কিন্তু এ জগতেই তাদের প্রাপ্য নিয়ে গেছে। সে জন্য যে কোনো ধরনের দুর্নীতি থেকে তিনি সকলকে সরে আসার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, জনগণের দেওয়া ট্যাক্সের টাকায় সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন হয়। যাদের টাকায় আমাদের বেতন হয়, আমরাই আবার তাদের প্রভু সেজে যাই। সরকারি
কর্মচারীরা আল্লাহর দেওয়া যোগ্যতার সম্পূর্ণ ব্যবহার করে ইমানদারির সঙ্গ নাগরিকদের সেবা দিতে দায়বদ্ধ। 

তিনি আরো বলেন, আমরা নিজ নিজ অবস্থানে প্রত্যেকেই বিচারক। যদি আমরা আমাদের পরিবারে নিজের আয়ের চেয়ে বেশি উপহার বা তৈজষপত্র দেই তবে সন্তানদের
সামনে কিভাবে জবাবদিহি করবো। আমরা নিজে সৎ থাকবো এবং পরিবারবর্গকে সৎপথে রাখবো। যে যে ধর্মের থাকুক না কেন সন্তানকে ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করবেন। অন্যান্য শিক্ষার পাশাপাশি যদি ধর্মীয় মূল্যবোধ থাকে তাহলে সে দুর্নীতির দিকে অগ্রসর হবে না।

তিনি আরো বলেন, আপনারা সকলে প্রস্তুতি নেন আগামী এক বছরের মধ্যে খুলনাকে দুর্নীতি মুক্ত হিসেবে ঘোষণা করা হবে। তখন খুলনার দুই প্রান্তে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেওয়া হবে দুর্নীতিমুক্ত খুলনা জেলা খুলনাতে আপনাকে স্বাগতম। 

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত জানান দুদকের খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আবদুল ওয়াদুদ। এসময় বিভাগীয় কমিশনার মো. ফিরোজ সরকার, দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন, পুলিশের খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি মো. রেজাউল হক, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. জুলফিকার আলী হায়দার ও পুলিশ সুপার টি এম মোশাররফ হোসেন বক্তৃতা করেন। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত