স্কুল থেকে শুরু করে কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়, ওদিকে মাদ্রাসা কিংবা কারিগরি আর বিভিন্ন ট্রেনিং ইনস্টিটিউট। প্রতিটি সেক্টরে দৃষ্টি দিলে দেখা যায়, বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা এখন কঠিন সময় পার করছে। নানা সমস্যার জাল এখানে এমনভাবে জড়িয়ে গেছে যে, একটি সমস্যাকে আলাদা করে চিহ্নিত করা প্রায় অসম্ভব মনে হয়। চতুর্দিকের ভঙ্গুর অবকাঠামো দেখে মনে হচ্ছে, দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রের মতো ভয়াবহ একটি চক্র রয়েছে শিক্ষা খাতে যার শুরু আছে শেষ নেই। তাই শিক্ষা খাত নিয়ে অনেকে কথা বললেও তা থেকে উত্তরণের পথটি মোটেও সহজ নয়। বরং বিদ্যমান নানা সীমাবদ্ধতার সঙ্গে নিত্যনতুন ধারা যুক্ত হয়ে, পুরো পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও সমাধানের অযোগ্য করে তুলছে দিন দিন।
আমরা জানি, দারিদ্যের দুষ্টচক্র এমন একটি পরিস্থিতি, যেখানে গরিব মানুষ গরিবই থেকে যায় এবং সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে। এই চক্রে একটির সঙ্গে আরেকটি কারণ এমনভাবে জড়িত থাকে যে, সমস্যাগুলো একে অপরকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। দরিদ্র মানুষের আয় কম, ফলে তারা সঞ্চয় করতে পারে না। সঞ্চয় না থাকার কারণে নিজের বা সন্তানের শিক্ষা, চিকিৎসা কিংবা ব্যবসায় বিনিয়োগ করতে পারে না।
বিনিয়োগের সুযোগ না থাকায়, তারা দক্ষতা অর্জন করতে পারে না। ফলে ভালো চাকরি বা আয়ের পথও বন্ধ হয়ে যায়। আবার তারা আগের মতো গরিব অবস্থায় ফিরে যায়। এভাবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই দারিদ্র্যের ফাঁদে আটকে থাকে। যেমন একজন দরিদ্র কৃষক দিনে যা আয় করেন, তা দিয়েই সংসার চলে। তার সন্তান ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারে না এবং ভবিষ্যতেও সে অল্প আয়ের শ্রমিক হয়ে যায়। এই দুষ্টচক্র ভাঙতে দরকার- মানসম্মত ও সবার জন্য সহজলভ্য শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সহজ শর্তে ঋণ, দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ এবং সরকারি ও সামাজিক সহায়তা।
ঠিক একইভাবে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় সৃষ্টি হওয়া এই দুষ্টচক্র থেকে বের হতে গেলে আমাদের শুরু থেকে শেষ অবধি যা করা জরুরি, তার কোনোটাই ঠিকমতো করা যাচ্ছে না। এখানে শুরুতেই ছোট ক্লাসের ছেলেমেয়েরা ঠিকমতো পড়তে বা হিসাব করতে পারে না, আবার স্কুল কমিটিতে নোংরা রাজনীতি চলছে। এসবের মধ্যে সবচেয়ে অবহেলিত একটা বিষয় হলো, আমাদের স্কুলগুলোতে জীবনমুখী কোনো শিক্ষা নেই। অথচ বাংলাদেশ নানাদিক থেকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর একটি। তাই ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করা ও পরিবেশবান্ধব কাজ শেখানোর পাশাপাশি স্কুলগুলোতে বড় পরিবর্তন আনা জরুরি।
যারা ঠিকমতো পড়তে বা হিসাব করতে পারে না, তারা অনেক সময় ভুল তথ্য বুঝে ফেলে, ঠকে যায় আর ভালোভাবে উপার্জন করতে পারে না। এটি সবচেয়ে বেশি দরিদ্র ও গ্রামীণ এলাকায়। তাই এখনই এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। আগে যেসব শিক্ষার প্রকল্প ছিল, সেগুলো খুব একটা কাজ করেনি, কারণ সেগুলো সবার জন্য একই রকম ছিল। এখন দরকার, এলাকাভিত্তিক ও বাস্তবমুখী শিক্ষাব্যবস্থা।
এখনো অনেক মেয়েকে ১৮ বছরের আগেই বিয়ে দেওয়া হয়। এতে তারা স্কুল ছাড়ে, ছোট বয়সে মা হয় আর জীবনে পিছিয়ে পড়ে। স্কুলগুলোতে দক্ষ শিক্ষকের অভাব আছে, বিশেষ করে গ্রামে। অনেক সময় শিক্ষকের চাকরি দেওয়ার সময় পরিচয় ও চেনাজানার ভিত্তিতে চাকরি দেওয়া হয়, যোগ্যতা দেখা হয় না। আবার যারা শিক্ষক হন, তাদের প্রশিক্ষণও বেশিরভাগ সময় শুধু বইয়ের জ্ঞান বাস্তবে ক্লাসে কীভাবে পড়াতে হয়, সেটা শেখানো হয় না। এ জন্য ছাত্রছাত্রীদের শেখার মান কমে যায়। ভালো ফল পেতে হলে দরকার, শিক্ষক নিয়োগে সঠিক নিয়ম মানা এবং বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও তাদের নিয়মিত মূল্যায়ন। গ্রামে কাজ করা শিক্ষকদের জন্য বাড়িভাড়া বা যাতায়াতের খরচ দিলে তারা আগ্রহী হবে।
বাংলাদেশ যেহেতু জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে রয়েছে, তাই আমাদের ছেলেমেয়েদের এখন থেকেই পরিবেশ রক্ষা ও পরিবেশবান্ধব কাজ শেখাতে হবে। স্কুলে শেখানো দরকার প্রকৃতির যত্ন নেওয়া, নবায়নযোগ্য শক্তি (যেমন সৌরবিদ্যুৎ) ও পরিবেশবান্ধব চাষাবাদ। এই পড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্কুলে পরিবেশ নিয়ে প্রকল্প করানো আর স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মিলে পরিবেশ নিয়ে কাজ করানো উচিত। এসব ঠিক করতে হলে, আমাদের একটি ভালো পরিকল্পনা দরকার। সরকারকে শিক্ষায় বেশি টাকা খরচ করতে হবে, তথ্য ঠিকমতো সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করতে হবে, আর যারা দায়িত্বে আছেন তারা ঠিকমতো কাজ করছেন কি না, সেটা দেখা দরকার। সরকার ও বেসরকারি দুই পর্যায় থেকেই যাচাই করে দেখা প্রয়োজন প্রতিষ্ঠান ঠিকমতো কাজ করছে কি না?
আমাদের অস্বীকারের সুযোগ নেই যে, দেশের ভবিষ্যৎ বদলাতে হলে আগে শিক্ষাব্যবস্থার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। কারণ দিন শেষে একটা দেশ গড়ে ওঠে তার জনগণ দিয়ে আর জনগণ তৈরি হয় শিক্ষা দিয়ে। শিক্ষা হচ্ছে ভবিষ্যতের পাসপোর্ট। বিশ্বের যেসব দেশ এখন সুপারপাওয়ার, ওদের দিকে তাকালেই বোঝা যায় হ্যাঁ, অর্থনীতি একটা বড় বিষয়, কিন্তু শিক্ষা ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। উন্নত দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোই সবচেয়ে ভালো যেমন ইউকে, ইউএসএ, কানাডা বা স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোতে। আসলে, একটা দেশের উন্নতির অন্যতম বড় প্রমাণ হচ্ছে তার শিক্ষা ব্যবস্থা। কারণ ভালোভাবে শিক্ষিত জনগণই নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে আসে, নতুন উদ্ভাবন করে আর এগুলোই অর্থনীতিকে এগিয়ে নেয়।
আগে কী কী কাজ করত আর ভবিষ্যতের জন্য কী দরকার, সেটা বোঝা জরুরি। বাংলাদেশ হোক বা অন্য কোনো দেশ আগে শিক্ষার একটা দারুণ দিক ছিল, সেটা হলো নৈতিকতা, চরিত্র গঠন আর মূল্যবোধ শেখানো। শিক্ষকরা নিজেরাও নীতিবান ছিলেন, আর শিক্ষার্থীদের সামনে আদর্শ হিসেবে ছিলেন। তখনকার সময়ে শিক্ষকদের সম্মান ছিল সমাজে, লোকজন তাদের পরামর্শ নিত। এখনো দেশের কিছু গ্রামে এমন পরিবেশ টিকে আছে।
কোরিয়া, ইউকে, ইউএসএ আর অস্ট্রেলিয়ার উপশহরগুলোতে এখনো বেসিক ভদ্রতা শেখানো হয় রাস্তায় ময়লা না ফেলা, বাসায় কেমন আচরণ করতে হয়, পশুপাখির যত্ন, সহানুভূতি, অন্যকে সম্মান করা, এমনকি কাঁটা-চামচ কীভাবে ধরতে হয় তাও শেখানো হয়।
বাংলাদেশে এখন আর এগুলো শেখানো হয় না। আগে আমরা যেটা করতাম, নীতিশিক্ষা আর স্ট্যান্ডার্ড শিক্ষার দিকে মনোযোগ দিতাম। এখন আধুনিকতার নামে সব কিছু ছেড়ে দিয়েছি। এতে আধুনিক তো হতেই পারিনি, বরং আগের সেই মূল জিনিসগুলোই হারিয়ে ফেলেছি। অন্য একটা বড় কারণ হলো ভবিষ্যতের জন্য কর্মশক্তিকে আমরা ঠিকভাবে তৈরি করতে পারিনি। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের রিপোর্ট বলছে, ভবিষ্যতের ৬৫% চাকরির জন্য মানুষকে নতুন স্কিল শিখতে হবে। মানে, আগের মতো কাজকর্ম আর চলবে না নতুন ধরনের জ্ঞান দরকার।
যেমন কোডিং এটা এখন গণিত, পদার্থ বা ইতিহাসের মতোই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। কারণ, ভবিষ্যৎ মানেই প্রযুক্তি। ইতিহাস বা সাহিত্য থেকে হয়তো চাকরিতে খুব বেশি সরাসরি লাভ না-ও হতে পারে। কিন্তু প্রযুক্তি না জানলে, কিছুই হবে না। অথচ আমাদের স্কুলগুলোতে এসব শেখানোই হয় না। রিসোর্স নেই, মনোযোগ নেই।
আরও একটা বড় সমস্যা হলো আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা, যা এখনো ফলাফল-ভিত্তিক না। শুধু কত পৃষ্ঠা পড়া হলো, কত চ্যাপ্টার শেষ হলো এটাই সব। কিন্তু সেই শিক্ষাটা বাস্তবে কীভাবে কাজে লাগবে, সেটার কোনো চিন্তা নেই। আর সে জন্য তিনটা প্রধান জায়গা নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। শুরুতেই ইন্ডাস্ট্রি আর একাডেমিয়ার মধ্যে গ্যাপ কমিয়ে আনতে হবে। তাতে করে শিক্ষা হয়ে উঠবে কর্মমুখী।
অনেক প্রতিষ্ঠান বলে ভালো স্কিলসম্পন্ন লোক খুঁজে পাচ্ছে না। চাকরি তো আছে, কিন্তু প্রপার লোক পাচ্ছে না। কারণ, ইন্ডাস্ট্রি যত দ্রুত বদলাচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যবই ততটা বদলাচ্ছে না। ৯০ দশকের, স্কিল, সায়েন্স, মার্কেটিং এখনো পড়ানো হচ্ছে, অথচ এখন মার্কেটিং মানে ডিজিটাল মার্কেটিং, ইনফ্লুয়েন্সার, ডেটা-ড্রিভেন ডিসিশন। এসব কি ছাত্রদের শেখানো হচ্ছে? খুব একটা না। অথচ বাস্তবে এগুলোই চলছে।
সিলিকন ভ্যালির মতো জায়গার মতো আমাদের এখানে একাডেমিয়া আর ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে তেমন কোনো পার্টনারশিপ নেই। মাঝে মাঝে কোনো সেমিনারে গিয়ে কেউ স্পন্সর করে, এই পর্যন্তই। অথচ ওদের একসঙ্গে কাজ করা দরকার, সিলেবাস আপডেট করা দরকার, প্রফেশনালদের ক্লাস নিতে দেওয়া দরকার।
বিজ্ঞানের বিষয়গুলোতে রিসার্চ আর ইনোভেশনের অভাব পড়ালেখার গুরুত্ব কমিয়ে দিয়েছে। এদিকে বাংলাদেশ গবেষণায় খুব পিছিয়ে। আন্তর্জাতিক রিসার্চেও তেমন অংশ নেই, তাই আমাদের ক্রিটিক্যাল থিংকিংও দুর্বল। এ কারণেই আমরা নতুন কিছু আবিষ্কার করি না, শুধু অনুসরণ করি। রিসার্চের মাধ্যমে নতুন আইডিয়া আসে, সমাজ বদলায়, নতুন ইন্ডাস্ট্রি গড়ে ওঠে।
রিসার্চ মানেই শুধু বেশি বেশি পেপার ছাপানো না মানে হচ্ছে, মানসম্মত আর সমাজে প্রভাব ফেলতে পারে এমন রিসার্চ। ওদিকে বাংলাদেশে গবেষণা প্রবন্ধের নামে যেগুলো ছাপা হয় তার বেশিরভাগ লিখে থাকেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। কিন্তু সেগুলোর বাস্তবে কোনো প্রয়োগ থাকে না। তারা তাদের প্রমোশনের পর নিজেরাও কোনো কাজে লাগাতে পারেন না।
আমাদের যেখানে একটা হাইব্রিড এডুকেশন মডেলের প্রয়োজন ছিল সেখানে আমরা থমকে আছি ‘এক হাতে চক, অন্য হাতে ডাস্টার, আমি বিরাট বড় মাস্টারের যুগে’। অথচ শিক্ষাব্যবস্থাকে এখন বদলাতে হবে। এখন সবাই ইউটিউব, গুগল, চ্যাটজিপিটির মতো জিনিস থেকে শেখে। যেটা দরকার, সেটা এখনই শিখে নিচ্ছে। জেনারেশন জেড আর আলফা এরা তো ছোটবেলা থেকেই ফোন, ট্যাব, গ্যাজেট হাতে পাচ্ছে। বই-খাতা দেখার আগেই স্ক্রিন দেখে। এটা ভালো না খারাপ সেটা আলাদা ব্যাপার, কিন্তু ওরা এখন প্রযুক্তিতে অনেক স্মার্ট।
এই সুযোগ কাজে লাগানো দরকার স্কুলে টেকনোলজি দিয়ে শেখানো, ভিডিও, কোডিং, ইন্টারঅ্যাকটিভ লার্নিং এসব চালু করতে হবে। সময়ের সঙ্গে মিল রেখে ছোট ছোট মডিউল, স্পেশালাইজড কোর্স, মাইক্রো-লার্নি এসব দরকার। এখনকার ছেলেমেয়েদের মনোযোগ কম সময় থাকে, তাই অল্প সময়ে দরকারি জিনিস শেখানোর সিস্টেম দরকার।
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিক্ষকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। ঢাকার বাইরের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পাঠদান ও শিক্ষার সুযোগ অবারিত করে সনদ বিক্রির প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের লাগাম টানতে হবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়কে যত সম্ভব সক্রিয় করে দেশজুড়ে কর্মমুখী শিক্ষার নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির পর ক্যালেন্ডার মেনে পাঠদান শেষ করে যথাসময়ে পরীক্ষা আয়োজন করতে হবে। তাদের নানা বিভাগে বিদ্যমান সেশন জট দূর করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। আর তার মধ্য দিয়েই সম্ভব হবে বাংলাদেশে শিক্ষা খাতে প্রাথমিক সংস্কার। প্রসঙ্গত, বলে রাখা ভালো নানাবিধ সংস্কার কমিশন হলেও শিক্ষা সংস্কার নিয়ে কোনো কমিশনও গঠন করা হয়নি। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শুরুতেই এই কমিশন করাটা জরুরি ছিল।
বাংলাদেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়ন ও আত্মীয়করণ ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এখানে যোগ্য ব্যক্তির তুলনায় কথিত গভর্নিং বডির প্রভাবে অযোগ্য ও অথর্বদের দাপট চূড়ান্ত আকার ধারণ করেছে। এর থেকে মুক্তির জন্য পিএসসির আদলে উপযুক্ত একটি অবকাঠামো গড়ে তোলা যেতে পারে। নিয়োগের ক্ষেত্রে এই স্বচ্ছতা বেসরকারি স্কুল, কলেজ এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও সমভাবে প্রযোজ্য।
সব থেকে বড় কথা, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। আগের নৈতিকতা আর চরিত্র গঠনের জিনিসগুলো ফিরিয়ে আনতে হবে। আবার একই সঙ্গে ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতও করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় আর ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে সম্পর্ক বাড়াতে হবে, রিসার্চ বাড়াতে হবে এবং শিক্ষার আধুনিক রূপ আনতে হবে। আর সম্মিলিত এই উদ্যোগ সফল হলেই শিক্ষার্থীরা শিক্ষার প্রকৃত সুফল পেতে পারেন, নচেত নয়। এর বাইরে উল্টোপথে চলতে থাকলে বর্তমানে যে দুষ্টচক্রে আটকে আছে বাংলাদেশের শিক্ষা, দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রের প্রবক্তা র্যাগনার নার্কসেরও নাভিশ্বাস উঠতে পারে বাংলাদেশের ‘শিক্ষার দুষ্টচক্র’দেখে।
লেখক : উপাচার্য, নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়
